অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সাফল্যের ডঙ্কা বাজিয়েছে বিজেপি, এবার সেই অস্ত্রেই তাদের চেপে ধরতে চাইছে বিরোধীরা
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], নতুন দিল্লী, ভারত, ২১/০৭/২০২৫ : আজ থেকে সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হলেও স্লোগান পাল্টা স্লোগানে সভা মুলতুবি ছিল বেলা ১২টা পর্যন্ত। তারপর ফের শুরু হয়েছে অধিবেশন।
আজ বাদল অধিবেশনের শুরুতেই বিরোধী পক্ষ অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার দাবী জানাতে থাকে। অপারেশন সিঁদুর নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সব দাবী করেছেন, তার ব্যাখ্যা চাইতে শুরু করে বিরোধী পক্ষ, এই ব্যাপারে কংগ্রেস সুর চড়াতে শুরু করে। অধিবেশন কক্ষে স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানের ঝড় বইতে শুরু করে। এরপরেই বেলা ১২টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবী করেছেন “ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছিল তাঁর জন্যেই। এই যুদ্ধে চার-পাঁচটি যুদ্ধ বিমান নষ্ট হয়েছে (কোন দেশের সেটা অবশ্য তিনি বলেন নি), যুদ্ধ থামাতে দুই দেশকেই বাণিজ্য বাঁধের হুমকি দিতে হয়েছিল।” ট্রাম্পের এই ধরনের বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এরপর বিজেপির তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সব রকম আলোচনায় রাজি আছে বিজেপি। বিজেপি সংসদ জে পি নাড্ডা জানিয়ে দেন, “সেনাবাহিনী ও দেশের প্রতিরক্ষার বিষয়ে যে সব তথ্য সামনে আনা যাবে না, সেইসব তথ্য বাদ দিয়ে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বিজেপি সাংসদদের কোনো আপত্তি নেই। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সবরকম আলোচনার জন্যে প্রস্তুত রয়েছে গেরুয়া শিবির।
এদিন নরেন্দ্র মোদী বলেন, “যেভাবে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত উন্নতি করেছে, আমাদের সেই সাফল্য উদযাপন করা উচিত এই বাদল অধিবেশনে। আসুন আমি আহবান করছি দেশের সব রাজনৈতিক দল একসাথে মিলে পাকিস্তানকে বিশ্বের সামনে উন্মুক্ত করে দিই, তাদের সবরকম কারসাজিকে ভেস্তে দিই. এবং তাদের প্রকৃত রূপটাকে প্রকাশ করে দিই।”
রাজনীতি আর পাল্টা রাজনীতির চালে আজ রাজ্য জুড়ে শহীদ স্মরণ
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২১/০৭/২০২৫ : ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে অনেক আগেই। আজ ২১শে জুলাই, সপ্তাহের প্রথম দিনেই রাজনীতিময় গোটা রাজ্য। মিছিলে মিছিলে জেরবার রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা।
আজ তৃণমূল কংগ্রেসের শহীদ দিবস। প্রতি বছরের মত এই বছরেও তৃণমূল কংগ্রেস শহীদ দিবস পালন করছে। তৃণমূলের এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে আজ রাজ্যের প্রায় সব প্রান্ত থেকে কলকাতায় হাজির থাকছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী ও সমর্থকেরা। ঘাস ফুলের পতাকায় আকাশ প্রায় ঢেকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আজকের সভায় আগামী বিধানসভা ভোটের রণকৌশল মেপে দেবেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রীর সেই নির্দেশ পেতেই আজ রাজ্যের প্রায় সব জেলা, শহর ও গ্রাম থেকে কাতারে কাতারে মানুষ জমায়েত করতে শুরু করেছে ধর্মতলায়।
আর কিছুক্ষন পরেই ধর্মতলার মঞ্চে হাজির হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতা নেত্রীরা। উপস্থিত হবেন দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই নেত্রী আগামী বিধান সভা ভোট নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু বার্তা দেবেন দলের কর্মী ও সমর্থকদের। এই মুহূর্তে ধর্মতলা চত্বর তৃণমূল কর্মীদের ভীড়ে ঠাসা। লাগানো হয়েছে বেশ কিছু জায়ান্ট স্ক্রিন।
আজ একই দিনে শিলিগুড়িতে রাজনৈতিক কর্মসূচীর অঙ্গ হিসেবে উত্তরকন্যা অভিযানে নামছে বিজেপি। রাজ্য পরিচালনায় তৃণমূল পরিচালিত সরকার চূড়ান্ত ব্যর্থ, এই দাবী তুলে আজ উত্তরকন্যা ঘেরাও করার ডাক দেওয়া হয়েছে। ফুলবাড়ী , জলপাই মোড় ও শহরের অন্যান্য জায়গা থেকে একের পর এক মিছিল এসে উত্তরকন্যা ঘেরাও করার পরিকল্পনা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা এবং উত্তরবঙ্গের তাবড় নেতারা অংশ নেবেন এই অভিযানে।
আজ খড়্গপুরে বিজেপি শহীদ তর্পন অনুষ্ঠানে আয়োজন করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অত্যাচারে এখনও পর্যন্ত বিজেপির যে সব কর্মী ও সমর্থকেরা প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের নামে তর্পন করবে বিজেপি। এই অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দিতে ডাকা হয়েছে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে।
দুটি ইস্যুই যথেষ্ট সিরিয়াস ইস্যু, তাই এই মিছিল শিলিগুড়িবাসীর কাছে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, ১০/০৭/২০২৫ : দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ মিছিল শনিবার, দুই ইস্যুকে কেন্দ্র করে পথে নামছে শাসকদল।
শনিবার দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শিলিগুড়িতে আয়োজিত হতে চলেছে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল। বাঘাযতীন পার্ক থেকে শুরু হয়ে মিছিল পৌঁছাবে এয়ার ভিউ মোড় পর্যন্ত। দলের তরফে জানানো হয়েছে, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে সামনে রেখে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি।
প্রথমত, দিনহাটায় এক রাজবংশী ব্যক্তিকে এনআরসি-র নামে নোটিশ দিয়ে “বিদেশি” তকমা দেওয়ার প্রতিবাদেই এই মিছিল। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপ রাজ্যের আদিবাসী এবং রাজবংশী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আঘাত। তৃণমূল কংগ্রেস এর তীব্র বিরোধিতা করে।
দ্বিতীয়ত, সম্প্রতি শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিরোধী দলের প্ররোচনায় যেভাবে অশান্তি এবং গোষ্ঠী সংঘর্ষের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তারও প্রতিবাদ জানাতে পথে নামছে শাসকদল। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনাগুলি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিভাজন তৈরির ষড়যন্ত্র।
বিভিন্ন দাবী তুলে ভোটের আগে রাজনৈতিক শক্তি ঝালিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় কৌশলটি হল বনধ ডাকা।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি] কলকাতা ,পশ্চিমবঙ্গ, ০৯/০৭/২০২৫ : বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়নগুলোর ডাকা ভারত বনধে আজ রাজ্য জুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কোথাও যানবাহন চলাচল মোটামুটি স্বাভাবিক থেকেছে, আবার কোথাও প্রবলভাবে পালিত হচ্ছে হরতাল।
অশোকনগর বিল্ডিং মোড়ে যশোর রোড ও হাবড়া এক নম্বর রেলগেটের কাছে যশোর রোড অবরোধ করলো বামপন্থী কর্মী সমর্থকরা । শ্রমকোড বাতিলসহ একাধিক ইস্যু নিয়ে বামপন্থী শ্রমিক ইউনিয়নের তরফে আগেই বুধবার ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। তারই অঙ্গ হিসাবে সকাল থেকে চলছে বিভিন্ন জায়গায় মিছিল ও অবরোধ।
শ্রম কোড বাতিল, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের বেসরকারিকরণ বন্ধ সহ বিভিন্ন দাবিতে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকা ১২ ঘন্টা সাধারণ ধর্মঘটের আংশিক প্রভাব পড়ল বাঁকুড়া শহরের বাস চলাচলে। সকালের দিকে বাঁকুড়া শহরের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড গোবিন্দনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে, যে সমস্ত বাস বিভিন্ন রুটে ছেড়ে যায় তার একাংশ ছেড়ে গেলেও বহু বাস এদিন নিজস্ব রুটে বের হয়নি। যে সমস্ত বাস নিজস্ব রুটে বেরিয়েছে সেগুলিতেও একদিকে ধর্মঘট আর অন্যদিকে লাগাতার বৃষ্টির জেরে যাত্রীর সংখ্যা রয়েছে হাতেগোনা।
আজ সকাল আটটা নাগাদ বালি বাদাম তলার কাছে কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম বিরোধী নীতির প্রতিবাদে ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশন গুলির ডাকা সর্বভারতীয় সাধারণ ধর্মঘট। উদ্দেশ্যে এবং গোটা পশ্চিমবঙ্গে আইন- শৃঙ্খলার লাগামহীন অবনতির প্রতিবাদে সাধারণ ধর্মঘট। রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান।
ডোমজুড়ে সিপিএম কর্মীদের জোর করে রাস্তায় বাস এবং লরি থামানোর পাশাপাশি দোকান বন্ধের চেষ্টা চোখে পড়েছে। আজ সকালে ডোমজুড় বাজারে সিপিএম কর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে বাস এবং লরি থেকে চালকদের নামিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বিরাট পুলিশ বাহিনী এবং রাফ। পুলিশ লাঠি চালাতে শুরু করলে সিপিএম কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এই ঘটনায় দুজন আহত হয়। ডোমজুড় থানার পুলিশ আটক করে দুজন সিপিএম কর্মীকে। ধর্মঘট এর সমর্থনে সল্টলেক করুণাময়ী মোড় অবরোধ করল সিপিআইএম ধর্মঘট সমর্থকরা। পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি বনধ সমর্থকদের। ধর্মঘট সমর্থকদের আটক করল বিধান নগর পুলিশ।
রিষড়া ও কোন্নগর স্টেশনের মাঝে ট্রেন অবরোধ করা হয় । ধর্মতলা কে সি দাসের সামনে বাস আটকানোর চেষ্টা করা হয়, পুলিশের উদ্যোগে বড় কোনো ঘটনা ঘটে নি।
বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বনধের সমর্থনে নবদ্বীপের রাস্তায় নেমেছিলেন বন্ধ সমর্থনকারীরা। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিভিন্ন জনবিরোধী মূলত শ্রমিক বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে বাম সহ সমস্ত শ্রমিক সংগঠন মিলে আজ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে দেশ জুড়ে। আর এদিন এই ধর্মঘটের প্রভাব পড়তে দেখা গেল নবদ্বীপেও। এদিন বন্ধ থাকতে দেখা গেলো নবদ্বীপ বাসস্ট্যান্ডের বাস পরিষেবা। পাশাপাশি নবদ্বীপ ফেরিঘাটও বন্ধ করে দেয় বন্ধ সমর্থনকারীরা, ধর্মঘটের জেরে বন্ধ থাকে নবদ্বীপ ঘাট বাসস্ট্যান্ড থেকে কৃষ্ণনগরের সকল বাস পরিষেবাও। এছাড়াও ধর্মঘটের সমর্থনে শহর জুড়ে মিছিল করতে দেখা যায় বনধ সমর্থনকারীদের।
মালদার মানিকচক ব্লকে বনধের ব্যাপক প্রভাব। বনধের জেরে বুধবার সকাল থেকেই মানিকচক, মথুরাপুর সহ বিভিন্ন হাট-বাজার বন্ধ। খোলেনি দোকানপাট। রাস্তায় সেভাবে দেখা মেলেনি যানবাহনের। তারমধ্যেই চলছে বনধ সমর্থনকারীদের পিকেটিং। পুলিশের সামনেই বনধ সফল করতে হাট-বাজার, দোকানপাটে সর্বাত্মক বনধের রূপ দিতে মরিয়া বনধ সমর্থনকারীরা। নরমে-গরমে চলছে বনধ সফল ক্রার মরিয়া চেষ্টা।
আজ বুধবার দেশ জুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে একাধিক বাম শ্রমিক সংগঠন সহ কেন্দ্রীয় বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশন সমূহের ডাকে। সেই মোতাবেক আজ সকাল থেকে এই বন্ধের মিশ্র প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলার সদর শহর বহরমপুর জুড়ে। সকাল গড়ালেও বাজারের বেশিরভাগ দোকান রয়েছে বন্ধ, এছাড়াও স্কুল, কলেজ সহ শহর জুড়ে সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানেও ঝোলানো রয়েছে বন্ধ সমর্থনকারীদের ঝান্ডা। অন্যদিকে এই বন্ধের জেরে রাস্তায় যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে রীতিমতো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে যাত্রী সাধারণ। সকাল থেকে কিছু সরকারি বাস ও হাতেগোনা কিছু বেসরকারি বাস ছাড়া বেশিরভাগ বাসই রয়েছে বন্ধ। ফলে আজ সকাল থেকে প্রতিপদে নানাবিধ সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সিটু, আইএনটিইউসি সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে বুধবার সাত সকালেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল মালদায়। মালদা শহরের বনধ সফল করতে রাস্তায় নামলেন বনধ সমর্থনকারীরা। পিকেটিং করলেন শহরের বিভিন্ন এলাকায়। পাল্টা বনধ ব্যর্থ করতে রাস্তায় নেমে জনজীবন সচল রাখার আহ্বান জানালেন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির নেতাকর্মীরা। ফলে দুপক্ষই শহরের রাস্তায় মুখোমুখি হন। যার জেরে ব্যাপক উত্তেজনাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়। পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গেও বনধ সমর্থনকারীদের বচসার ছবি নজরে আসে। সব মিলিয়ে বুধবার সকাল থেকেই ধর্মঘটের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায় মালদা শহরের বুকে।
১৭ দফা দাবির ভিত্তিতে সারা ভারত জুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল বামফ্রন্ট আর ধর্মঘট সফল করতে পুরাতন মালদার মঙ্গলবাড়ী চৌরঙ্গী এলাকায় রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখান বামফ্রন্টের নেতাকর্মীরা। এদিন সরকারি বাস থেকে বিভিন্ন লরি ও অন্যান্য যানবাহন বন্ধ করার আবেদন জানিয়ে সরব হন তাঁরা। এদিন এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন বামফ্রন্ট নেতা প্রবীর লাহিড়ী, সাধন দাস সহ আরও বামফ্রন্টের নেতা কর্মীরা। অন্যদিকে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে উপস্থিত ছিল মালদা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
হলদিয়ায় রেল অবরোধের চেষ্টা ধর্মঘটিদের, লাঠি উঁচিয়ে অবরোধকারীদের দিকে তেড়ে গেলো পুলিশ, রেল পুলিশের সাথে বচসায় জড়ালেন ধর্মঘটিরা। শিল্প শহরে সকালে ট্রেন অবরোধ করে বাম সমর্থকরা। হটিয়ে দেয় পুলিশ । ৯ই জুলাই ধর্মঘটের সমর্থন করে ,ট্রেন অবরোধ করছেন বাম সমর্থকরা। পুলিশ প্রশাসন ধর্মঘটিদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন! হলদিয়া বন্দর রেল স্টেশনে ,ট্রেন অবরোধ করে বাম সমর্থকরা। রেল পুলিশের সাথে বচসায় বাম সমর্থকরা। ধর্মঘটীদের সরিয়ে দেয় পুলিস। এরপরেই রাজ্য সড়কে হলদিয়ায় বাস আটকানোর চেষ্টা করে ধর্মঘটী বাম সমর্থকরা ।
কোলাঘাটে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ বাম কর্মী সমর্থকদের,রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে ,পুলিশের সাথে বচসার পরে বিক্ষোভ তুললেন বামকর্মীরা। বামেদের ডাকে ধর্মঘটের ব্যাপক প্রভাব কিছুটা পড়লো পূর্ব মেদিনীপুরে। সকাল সকাল সরকারী বেসরকারী কিছু বাস চললেও পরে জেলার বিভিন্ন জায়গায় বাম কর্মীসমর্থকেরা বিক্ষোভ অবরোধে সামিল হয়।সেরকমই পাঁশকুড়ার মেছোগ্রামে ১৬ নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বাম কর্মী সমর্থকরা।প্রায় মিনিট ১ ঘণ্টা অবরোধ করে বাম কর্মীসর্থকেরা।চলে পুলিশের সাথে বচসা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ উঠে যায়।
হাওড়া শহরের চিত্রটা আর অন্যদিন কর্মব্যস্ত কাজের মতনই দেখা গেল। একদিকে যেমন হাওড়া স্টেশন হাওড়া ব্রিজ হাওড়া লঞ্চঘাট সর্বত্রই স্কুল কলেজ অফিস যাত্রীদের ভিড়। বিভিন্ন জায়গায় বামপন্থী সংগঠনের কর্মীরা, জোর করে বন্ধ সফল করবার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় দু’ এক জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া মোটের মধ্যে স্বাভাবিক ছন্দেই ছিল হাওড়া শহর; কার্যত বন্ধকে সফল করতে দেয়নি প্রশাসন। বা সাধারণ মানুষ সব মিলিয়েই আজকে বন্ধ অসফল বলেই মনে করছে সাধারণ মানুষ। বামপন্থী সংগঠনের ট্রেড ইউনিয়নের ডাকে সাধারণ ধর্মঘটে আজ হাওড়া উলুবেরিয়া স্টেশনের অদূরে, উলুবেরিয়া ব্রিজের নিচে রেললাইন অবরোধ করেন বামফ্রন্টের কর্মীরা। এর ফলে বোন প্রায় ১৫ মিনিট বন্ধ হয়ে যায় দক্ষিণ-পূর্ব রেলের ট্রেন চলাচল। পরে ঘটনাস্থলে আরপিএফ জিআরপি এসে বন সমর্থনকারীদের সরিয়ে দেন ট্র্যাক থেকে স্বাভাবিক হয় ট্রেন চলাচল।
সারা ভারত সাধারণ ধর্মঘট। বাম সমর্থিত ট্রেড ইউনিয়নগুলি একত্রিতভাবে এবং অবিজেপি ট্রেড ইউনিয়নগুলি একত্রিতভাবে এই আন্দোলনে ডাক দেয়। সেরকমই সকাল থেকেই রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বনধকে সমর্থন করতে উদ্যোগী হয়েছে বাম সমর্থিত ট্রেড ইউনিয়ন গুলি। এদিন নদীয়ার কৃষ্ণনগরে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই বাম ট্রেড ইউনিয়ন সি আই টি ইউ পক্ষ থেকে বনধকে সফল করার ডাক দিয়ে মিছিল করে এবং রাস্তায় যে সমস্ত সরকারি বাস চলাফেরা করছে সেগুলিকে আটকে দিয়ে যাত্রীদেরকে নামিয়ে দেয়া হয়। কৃষ্ণনগর শহরের একাধিক জায়গায় এই মিছিল বার করে সি আই টি ইউ কর্মী সমর্থকরা।
শিলিগুড়ি হিলকার্ট রোড এলাকায় পুলিশের টুপি ছিনিয়ে নিল বন্ধ সমর্থককারীরা। মাটিগাড়া ও শিব মন্দির অঞ্চলে দোকানপাট একরকম জোর করেই বন্ধ কর দেয় বনধ সমর্থনকারীরা। বনধকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়ির সাতভাইয়া মোড় এ এশিয়ান হাইওয়েতে।বনধকে ঘিরে যান চলাচল বন্ধ করতে চাইলে শাসক দলের শ্রমিক সংগঠনের সাথে শুরু হয় বচসা শুরু হয়ে যায়। নকশালবাড়ির সাতভাইয়া এশিয়ান হাইওয়েতে বনধ সমর্থনকারীরা বলপূর্বক স্লোগান করে রাস্তা অবরোধ করে যানবাহন আটকে দেয়। পরবর্তী সেখানে উপস্থিত হয় রাজ্যের শাসক দলের শ্রমিক সংগঠন। আইএনটি টিউসি কর্মী সমর্থকরা। তারা আন্দোলনকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। রাস্তায় আটকোনো যানবাহন স্বাভাবিক করে দেয়। যার ফলে দুপক্ষের মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক বচসা ও হাতাহাতি। বনধ সমর্থনকারীদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতে আইএনটিটিউসি কর্মীরা তাদের ওপর চরাও হয়। মারধর করা হয় তাদেরকে। ঘটনা স্থলে রয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় পুলিস একজনকে আটক করেছে ।
বুধবারের ১২ ঘণ্টার সাড়া ভারত ধর্মঘটে কার্যত বিচ্ছিন্ন জলপাইগুড়ি শহর এবং জেলার স্বাভাবিক জনজীবন। এদিন সকাল থেকেই ধর্মঘট ডাক দেওয়া বামপন্থী এবং জাতীয় কংগ্রেস দলের শাখা সংগঠন তাদের সর্ব শক্তি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে পিকেট শুরু করে যার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা জেলা ডাক ঘর ,রেল স্টেশন, দুরভাষ অফিস গুলো প্রমুখ, এছাড়াও রাজ্যে সরকারের অধীন উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার ডিপোতে বাস চালক দের এই সাধারণ মানুষের স্বার্থে আহ্বান করা এই ধর্মঘটকে সফল করতে সহযোগিতার আবেদ করেন । যদিও রাজ্যে পুলিশ জলপাইগুড়ি শহরের শান্তি পাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে সকালেই ৭ জন ধর্মঘটিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে, এছাড়াও শহরের অন্যতম ব্যাস্ত বাজার বউ বাজার এলাকায় পুলিশ দোকান খোলা রাখার কথা বলে এবং ধর্মঘটিদের আটক করে স্বয়ং জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। বেলা গড়াতেই ধর্মঘট সফল করতে জাতীয় কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা নির্মল ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে জেলা আদালতের প্রবেশ গেটে অবস্থান শুরু করে।যদিও ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তায় মধ্যে দিয়ে জেলা আদালতের বিচারক দের আদালত চত্বরে প্রবেশে করায় পুলিশ। এই স্থানে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা জাতীয় কংগ্রেস দলের সদস্য নির্মল ঘোষ দস্তিদার বলেন,শ্রমিকদের স্বার্থে আজকের এই ধর্মঘট ,কারন কেন্দ্রিয় সরকারের নতুন শ্রম আইন সম্পূর্ণ ভাবে শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী, আমরা সবাই সেই কারণেই আজ ধর্মঘটের সমর্থনে পথে নামতে বাধ্য হয়েছি, অথচ রাজ্যে সরকার পুলিশ দিয়ে এই ধর্মঘট ভাঙার চেষ্টা করছে। অপরদিকে বুধবারের ধর্মঘটের ব্যাপক সাড়া পরে জলপাইগুড়ির প্রধান ব্যবসায়িক স্থান দিন বাজারে ,একমাত্র ওষুধের দোকান ছাড়া সকাল থেকেই বন্ধ অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গুলো।রাজ্যে সরকারের অফিস গুলিতে কিছু সংখ্যক কর্মচারী উপস্থিত থাকলেও বেসরকারি পরিবহন মালিকেরা রাস্তায় বাস না চলানোর কারনে জেলা শাসকের কার্যালয়ে অন্যান্য দিন বিভিন্ন কাজ নিয়ে আসা মানুষের ভিড় শূন্য ছিলো বুধবার।রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সব গুলো শাখার সামনে ধর্মঘটি বামপন্থী এবং কংগ্রেস দলের সদস্যরা অবস্থান করায় নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাংক খোলা যায়নি বলে জানা গিয়েছে। শহরের রাস্তায় হাতে গোনা কয়েকটি টোটো চলতে দেখা গিয়েছে বুধবার।
বিধানসভা ভোটের আগে যে দলবদলের খেলা শুরু হয়েছে, সেই খেলায় এবার হুগলি জেলায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন নেতা কর্মীরা।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি] চুঁচুড়া, হুগলি, ০৭/০/২০২৫ : বিধানসভা ভোটের আগে ভাঙন বিজেপিতে, চিন্ময় দাস সহ ২৩ জন তৃণমূলে যোগ দিলেন।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের ভাঙন বিজেপিতে। রবিবার ধর্মতলা চলো কর্মসূচির প্রস্তুতি সভার মঞ্চ থেকে বড়সড় ধাক্কা খেল গেরুয়া শিবির। হুগলির চুঁচুড়া বিধানসভার রবীন্দ্রনগর এলাকায় বিজেপির প্রাক্তন যুব মোর্চার সভাপতি চিন্ময় দাস সহ মোট ২৩ জন কর্মী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন। তাঁদের হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেন স্থানীয় বিধায়ক অসিত মজুমদার।
এই প্রসঙ্গে অসিতবাবু জানান, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজ দেখে নতুন প্রজন্ম তৃণমূলের দিকে এগিয়ে আসছে। আগামী ২১শে জুলাই ধর্মতলায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ আমাদের সঙ্গে যাবেন।”
যোগদানকারী চিন্ময় দাস বলেন, “বিজেপিতে থাকাকালীন আমরা কিছুই করতে পারিনি। হনুমান জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি আসেননি। অথচ বিধায়ক অসিত মজুমদার কোনও দ্বিধা না করেই সেই অনুষ্ঠানে এসে উপস্থিত হন। তিনি মানুষের নেতা, মানুষের পাশে থাকেন। তাই আজ তৃণমূলে যোগ দিলাম।”
চিন্ময় দাস আরও বলেন, “রাম কারোর বাবার সম্পত্তি নয়। আগে যেমন রামনবমীর মিছিলে প্রথম সারিতে ছিলাম, এখনো থাকবো।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই ভাঙন বিজেপির কাছে বড় ধাক্কা ।
শুধু মালদা নয়, রাজ্যের বেশ কিছু জায়গাতেই বড় নেতা-ছোট নেতাদের বিবাদ ভাবাচ্ছে দলকে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], হরিশ্চন্দ্রপুর, মালদহ, ০৭/০৭/২০২৫ : বিধানসভা নির্বাচনের আগে শেষ ২১ শে জুলাই এর প্রস্তুতি সভার মঞ্চে নিজের গড়েই মেজাজ হারালেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক তাজমুল হোসেন।
প্রস্তুতি সভার মঞ্চ থেকে সরাসরি তার পাশে বসা শাসকদলেরই জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খানকে আক্রমণ করলেন মন্ত্রী তাজমুল। মন্ত্রীর নেতৃত্বে বিগত পঞ্চায়েতে ভোটে ধ্বস নেমে ছিল। আবার লোকসভা ভোটেও হেভিওয়েট প্রার্থী প্রসূন ব্যানার্জি সব থেকে কম ভোট পেয়ে ছিলেন মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা থেকেই।
এমনকি জেলা পরিষদের লড়াইতে হারতে হয়ে ছিল মন্ত্রীর ভাই কেও। আর সব কিছুর পিছনেই ছিল দলের মধ্যে থাকা তাজমুল হোসেনের বিরুদ্ধ গোষ্ঠী। যাদের অভিযোগ ছিল মন্ত্রী এবং তার ভাই এলাকায় বিভিন্ন ব্যাপারে দুর্নীতি করছে। আর এর জন্যই হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভায় শাসকদলের থেকে মুখ ফিরিয়েছে সাধারণ মানুষ। আর এরপর থেকেই বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে মন্ত্রীর কপালে বাড়ছে চিন্তার ভাঁজ। আর আজ ২১ শে জুলাই প্রস্তুতি সভায় সব শেষে বক্তব্য রাখতে উঠে টেনশনে মেজাজ হারিয়ে ফেললেন মন্ত্রী তাজমুল। দলের মধ্যে গোষ্ঠী কোন্দল আবার প্রকাশ্যে চলে এল।
হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী তজমুল হোসেনের সঙ্গে জেলার সাধারণ সম্পাদক তথা জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খানের সংঘাত প্রকাশ্যে। অনুগামীদের মধ্যে বিবাদ ধস্তাধস্তি, হাতাহাতি। এই নিয়ে শোরগোল মালদায়। বিরোধীদের দাবি রতুয়ার পরে এবার হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভায় কে টিকিট পাবে তা নিয়ে কোন্দল। এখন টিকিট পাওয়া নিয়ে ওদের গোষ্ঠী কোন্দল চলবে।
হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লক অফিসের সদভাব ভবনে ওই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রথমে সভার ভিতরে ও পরে বাইরেও দুপক্ষের অনুগামীদের মধ্যে বচসা ও তা ধ্বধ্বস্তিতে গড়ায়। বিধানসভা ভোটের আগে যা নিয়ে দলের অন্দরেই চর্চা শুরু হয়েছে। জেলাজুড়ে একের পর এক দলের দ্বন্দ্ব সামনে এসে পড়ায় অস্বস্তিতে পড়েছেন নেতৃত্ব।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সদভাব ভবনে বিধানসভা ভিত্তিক প্রস্তুতি সভায় মন্ত্রী ছাড়াও দুটি ব্লকের সমস্ত নেতারাই ছিলেন। ছিলেন হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক(এ) সভাপতি জিয়াউর রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য মার্জিনা খাতুন, হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি তাবারক হোসেন-সহ শাখা সংগঠনের নেতারাও। সেখানে শেষ বক্তা ছিলেন মন্ত্রী। সেখানেই মন্ত্রী বলেন, “এখন নতুন নতুন নেতা উঠে আসছে। অনেকে নিজেকে বড় নেতা ভাবছে। বড় নেতা কীভাবে জেলা পরিষদের টিকিট পেয়েছিল তা জানি।” প্রথমে নাম না করলেও পরে মন্ত্রী বলেন, “আমি বুলবুলকে ভালোবাসি। কাউকে তোয়াক্কা না করলেও বুলবুলকে করি।” এরপরেই বুলবুল বলেন, “আমাকে দুমিনিট বলতে দিতে হবে। আমি উত্তরে কিছু বলতে চাই।” তখন মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ এক নেতা বলেন, “মন্ত্রী তো কারও নাম করেননি। তাহলে আবার বলার কি আছে ?”
এরপরেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওযেন বুলবুল অনুগামীরা। ভবনেই প্রবল উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বাইরেও দুপক্ষের অনুগামীরা তর্কাতর্কি ও ধ্বস্তাধ্বস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। মন্ত্রী অবশ্য পরে দাবি করেন, “তেমন কিছুই হয়নি। সব মিটে গিয়েছে।”
শুরু হয়ে গেল ভোটের আগে দলবদলের খেলা। শেষ পর্যন্ত কেকোথায় যায় সেটাই এখন দেখার।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], জলপাইগুড়ি, পশ্চিমবঙ্গ, ০৭/০৭/২০২৫ : শমিক ভট্টাচার্যের কথাই কি সঠিক হতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে, যুব তৃনমূল ছেড়ে বড় যোগদান বিজেপিতে।
সামনেই ২০২৬ বিধানসভা ভোট। এরই মাঝে দলবদলের খেলা শুরু হয়ে গেছে জলপাইগুড়িতে। তৃণমূল ছেড়ে শতাধিক কর্মী সমর্থক বিজেপিতে যোগদান করলো। রাজ্যের নতুন সভাপতির দায়িত্ব পেয়েই রাজ্যসভার সাংসদ বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য দাবী করেছেন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেই পরপারে চলে যাবে শাসক তৃণমুল কংগ্রেস দল।
রবিবার রাতে যেন সেই চিত্র ফুটে উঠল । জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভার মন্ডল ঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন ফল্ডিং মোড় এলাকায় শতাধিক কর্মী তৃণমূল দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করল জলপাইগুড়ি জেলা বিজেপি সভাপতির হাত ধরে। বিভিন্ন দল থেকে প্রায় ২০০ কর্মী সমর্থক বিজেপিতে যোগদান করায় এই অঞ্চলে বিজেপি অনেকটাই শক্তিশালী হলো বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের।
এ যেন কসবা কাণ্ডের জেরক্স কপি, ধর্ষণের মত কান্ড না ঘটলেও দাদাগিরির অভিযোগ উঠছেই
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি] নন্দীগ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, ০৬/০৭/২০২৫ : প্রথম বর্ষের পড়ুয়া হয়েও কলেজের অস্থায়ী কর্মী তৃণমূল ছাত্রনেতা, কসবা কলেজের বেনিয়মের ছায়া বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা এলাকায়,শোরগোল নন্দীগ্রামে।
নন্দীগ্রাম সীতানন্দ কলেজেই এবার কসবা কলেজের বেনিয়মের মতো ঘটনা প্রকাশ্যে এলো।নন্দীগ্রাম সীতানন্দ কলেজের টিএমসিপির সভাপতি, তিনি আবার প্রথম বর্ষের ছাত্র, তিনিই আবার কলেজের গ্রুপ ডি অস্থায়ী কর্মী। কয়েকদিন ধরেই খবরের শিরোনামে রয়েছে কসবা কলেজের গভর্নিং বডিসহ পরিচালন কমিটির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ ছাত্রনেতা মনোজিৎ মিশ্র যেমন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এবং তাকে কলেজের গভর্নিং বডিসহ পরিচালন কমিটি কলেজে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ করেছিল। সেই সুযোগকে হাতিয়ার করে সে কলেজে দাদাগিরি করত। সেই একই ছবি উঠে এলো বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম সীতানন্দ কলেজে।
সুমিত মন্ডল বর্তমানে নন্দীগ্রাম সীতানন্দ কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি এবং প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাকে নাকি গভর্নিং বডিসহ কলেজ কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কলেজের নিয়োগ করেছে।
অস্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, কিন্তু সেখানে বিতর্ক নয়, বিতর্ক তৈরি হয়েছে তার রোজকার দাদাগিরি নিয়ে।
প্রশ্ন উঠেছে অনেক ! কিছুদিন আগে এবিভিপির পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রাম সীতানন্দ কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এবং এবিভিপির মধ্যে একটি বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনা কভার একটি সংবাদ মাধ্যমের কর্মীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং তাকে ঠেলে কলেজ থেকে বের করে দেয় এই সুমিত মন্ডল। সেদিনই কলেজের দাদাগিরি ছবি প্রকাশ্যে চলে আসে। বিষয়টিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি এবিভিপি।
নন্দীগ্রাম সীতানন্দ কলেজের বর্তমান ABVP র ছাত্র নেতা নন্দীগ্রাম সীতানন্দ কলেজের সহ-সভাপতি সৃজন ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন, “সুমিত মন্ডল প্রথম বর্ষের ছাত্র, দীর্ঘ কয়েক বছর কলেজে রয়েছে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি, সে কি করে একটা কলেজের অস্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ হতে পারে? এ ও কি সম্ভব ? ”
অপরদিকে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই সুমিত মণ্ডল সংবাদ মাধ্যমের সামনে সাফ জানিয়েছে,
“কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাকে ভালো মনে করেছে, তারা আমাকে একটা কাজের দায়িত্ব দিয়েছে, তবে আমি কোন সরকারি বেতন পাই না, আমাকে কাজের মূল্য হিসেবে কলেজ কর্তৃপক্ষ একটা সাহায্য করে, সেই টাকায় আমি পড়াশোনা করি”।
এখানেই উঠেছে প্রশ্ন, কোন কিছু সাহায্য নিয়ে পড়াশোনা করাটা কোন অপরাধের নয়। তাই বলে টিএমসিপি-র ছাত্রনেতা হিসেবে দাদাগিরি ? সেটা কি মেনে নেওয়া যায় ? প্রকাশ্যে সেই ছবি উঠে এসেছে যেখানে দেখা গিয়েছে সংবাদ মাধ্যমের কর্মীকে ফেলে বের করে দেওয়া হচ্ছে কলেজ থেকে এবং সেই কাজের নেতৃত্বে কে রয়েছে ? তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি সেই সুমিত মন্ডল।
ভোটের আগে দলবদলের ঘটনা আরও বাড়বে। রাজ্যের সব প্রান্তেই এমন ঘটনা ঘটবে। বড় নেতারাও নিশ্চয়ই দলবদল করবেন।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কোচবিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ০৪/০৭/২০২৫ : আগামী বছরের ভোটের দামামা গিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের প্রস্তুতি পারবো শুরু করে দিয়েছে সেই ভোটযুদ্ধের দিকে তাকিয়ে। আর এই প্রস্তুতির মাঝেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন কোচবিহারের বেশ কয়েকজন।
একুশের প্রস্তুতি সভা থেকে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান। হাতে আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা তারপরেই একুশে জুলাই। সেই একুশে জুলাইকে সামনে রেখে জেলা ব্লগ অঞ্চল সর্বত্রই শুরু হয়েছে একুশের প্রস্তুতি সভা। এদিন খলিসামারি অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে খলিশা মারি পঞ্চানন স্মৃতি বিদ্যাপীঠ স্কুলের মাঠে অনুষ্ঠিত হলো একুশের প্রস্তুতি সভা।
এদিনের সভা থেকে বেশ কয়েকজন বিজেপির কর্মী এবং নেতৃত্ব বিজেপি দল ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন।এদিনেরএই সভায় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের উৎসাহ ছিল চোখে পরার মত।
এদিনের এই সভায় উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেস চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন, প্রাক্তন বিধায়ক হিতেন বর্মন, শীতলকুচি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তপন কুমার গুহ, চেয়ারম্যান আবেদ আলী মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মদন বর্মন, অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি ফটিক চন্দ্র বর্মন, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কল্পনা বর্মন সহ অন্যান্যরা।
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি, প্রাক্তন সাংসদ, অভিজ্ঞ নেতা সব কিছুই ছিলেন তিনি। কিন্তু এখন দলের সব অনুষ্ঠানে তিনি ডাক পান না. দলের সাথে কি তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে ? দিলীপ ঘোষ নিজে কি ভাবছেন ?
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], নিউ টাউন, কলকাতা, ০৪/০৭/২০২৫ : শুক্রবার সকালে নিউটাউন ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে আসেন প্রাক্তন সাংসদ তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। উপস্থিত সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন —
আপনি কি তৃণমূলে চলে যাবেন?
আমার রাজনৈতিক ভবিষ্যত পার্টি ঠিক করবে। ভগবানের খাতায় লেখা আছে। আমাকে বিজেপি নিয়ে এসে একটা জায়গা দিয়েছিল। আমি নিজে থেকে আসিনি। পার্টি চেয়েছে তাই আমি এসেছি। পার্টি আমাকে রাজ্য সভাপতি করেছে, বিধায়ক করেছে, সাংসদ করেছে, জাতীয় নেতা করেছে। আমি নিজে থেকে কিছু চাইনি। পার্টি আমাকে গাড়ি দিয়েছে, সিকিউরিটি দিয়েছে। আমি নিজে এগুলোর কোনোটাই চাইনি। পার্টি যদি মনে করে আমি এখন সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করব, তাহলে তাই করব। আমাকে ডাকলে আমি যাই। না ডাকলে যাইনা।
দিলীপ ঘোষ মানেই তো চমক। আমরা কি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোনো চমক দেখব?
কল্পনা করতে তো পয়সা লাগে না। অনেকেই করছে। ২১ তারিখ পর্যন্ত কল্পনার ডেট দেওয়া হয়েছে। তারিখ পে তারিখ। কিছু একটা মার্কেটে থাকে। দিলীপ ঘোষ মার্কেটে আছে।
তৃণমূলের সঙ্গে তিক্ততা নেই তো আর?
আমার সঙ্গে কুণাল অরূপের অনেক আগে থেকে পরিচয়। এখনও আছে। আগামী দিনেও থাকবে। দিলীপ ঘোষ ওরকম ভাবে ভাবেনা। কাল শত্রু ছিল আজ বন্ধু হল আবার পরেরদিন শত্রু হল, দিলীপ ঘোষ ওইভাবে ভাবে না। যারা ওরকম করে তাদের সমস্যা আছে। দিলীপ ঘোষের এরকম কোনো সমস্যা নেই।
আমি জগন্নাথ মন্দির গিয়ে কারুর প্রতিনিধিত্ব করিনি
আমাকে মুখ্যসচিব চিঠি দিয়েছিলেন। আমি একজন সম্মানীয় নাগরিক। সেই হিসেবে গেছি। সরকারি প্রকল্প। কিন্তু আমি মনে করি ওই মন্দির তৈরিতে আমার ট্যাক্সের টাকা আছে। এটা কারুর পৈতৃক সম্পত্তি নয়। বহু লোক আমাকে ডাকে।