যে হারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, সেই হারে কি বাড়ছে বার্ধক্যভাতা ? উঠছে প্রশ্ন
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], নতুন দিল্লী, ভারত, ০৬/০৮/২০২৫ : জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির বার্ধক্য ভাতা প্রকল্পের আওতায় ৬০-৭৯ বয়সসীমার মানুষদের জন্য প্রতি মাসে মাথপিছু ২০০ টাকা করে দেওয়া হয়। ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা মানুষদের জন্য দেওয়া হয় ৫০০ টাকা করে। আরও কিছু টাকা যোগ করে প্রবীণদের হাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা তুলে দেওয়ার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে বলা হয়েছে। বেশিরভাগ রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বার্ধক্য ভাতা কর্মসূচির আওতায় প্রবীণরা গড়ে মাসিক ১ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। ২০২১-২২ সালের আগে এই প্রকল্পের আওতায় তপশিলি জাতি ও জনজাতি গোষ্ঠীভুক্তদের জন্য আলাদা করে কোনও তহবিলের সংস্থান ছিল না। পরে, তপশিলি জাতি ও জনজাতি গোষ্ঠীভুক্তদের চিহ্নিত করে আলাদা করে অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় পশ্চিমবঙ্গের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৪৬০৫১.৮২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল ৩৬৭০৪.৭৭২ লক্ষ টাকা।
আবহাওয়া খারাপের ছিল বলে ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গিয়েছে
আজ খবর (বাংলা),[দেশ], কিন্নর, হিমাচল প্রদেশ, ০৬/০৮/২০২৫ : উত্তর কাশীর পর এবার হিমাচল প্রদেশের কিন্নর জেলায় হড়পা বানে ভেসে গেল পাহাড়ি গ্রাম। আইটিবিপির জওয়ানরা উদ্ধার করলেন গ্রামবাসীদের। ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেলো কিন্নর কৈলাস ট্রেকরুটের বিশালএলাকা।
হিমাচলপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রবল বর্ষণ হয়ে চলেছে বিগত বেশ কিছুদিন ধরে, সেই সংবাদ আমরা পাঠকদের দিয়েছিলাম আগেই, এও লিখেছিলাম হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখন্ডের যে কোনো জায়গায় যে কোনোদিন বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। ঠিক তাইই হয়েছে। গতকাল উত্তরাখন্ডের উত্তরকাশীতে ক্ষীরগঙ্গা নদীতে হড়পা বাণের জন্যে বিপর্যয় ঘটেছিল, আর আজ বিপর্যয় ঘটলো হিমাচল প্রদেশের কিন্নর জেলার উচ্চ পাহাড়ি অঞ্চলে।
আজ ভোরবেলাতেই আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করেছিল, প্রবল বৃষ্টি হতে পারে হিমাচলের বিলাসপুর, সোলন, সিমলা, সিরমৌর এবং মান্ডি অঞ্চলে। আজ সকাল থেকেই ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছিল এই এলাকাগুলিতে। যার ফলে কিন্নর জেলায় নদীগুলিতে ব্যাপক জলস্ফীতি দেখা দেয় । .নদীগুলির জল উপচে পড়তে শুরু করে। একসময় টাংলিং অঞ্চলে পাহাড়ি নদীতে হড়পা বাণ নামতে শুরু করে । নিমেষে সেখানে পৌঁছে যান এসডিআরএফ এবং আইটিবিপি জওয়ানরা।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইটিবিপি জওয়ানরা মোট ৪১৩ তীর্থযাত্রীকে উদ্ধার করেন। এই পথ দিয়েই যেতে হয় কিন্নর কৈলাস অভিমুখে। সেই ট্রেকরুটটি একেবারে সাফ হয়ে গিয়েছে।
আজ খবর (বাংলা), [দেশ] দেরাদুন, উত্তরাখন্ড, ০৫/০৮/২০২৫ : উত্তরাখণ্ডে ক্ষীরগঙ্গা নদীর আচমকা কাদা প্লাবনের হড়পা বানে ভাসিয়ে নিয়ে গেলো আস্ত একটি পাহাড়ি গ্রামকে। বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের হরসিল এলাকায় ধারালি গ্রামে এখন শ্মশানের শূন্যতা বিরাজ করছে। হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখন্ডের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছুদিন ধরেই প্রচুর পরিমানে বৃষ্টি হয়ে যাচ্ছিল. এর ফলে পাহাড়ি নদীগুলো রীতিমত ফুঁসছিল। নদীগুলিতে জলস্তর অত্যাধিক মাত্রায় বেড়ে যাচ্ছিল, যে কোনো দিন পাহাড়ের যে কোনো জায়গাতেই বিপর্যয় নেমে আসার মত পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যাচ্ছিল।
আজ উত্তরাখণ্ডের হরসিলের মত উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে আচমকাই ক্ষীর গঙ্গা নদীতে হড়পা বান দেখা যায়। আর তার সাথে সাথেই মেঘ বিস্ফোরণের মত ঘটনাও ঘটে। এর ফলে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থেকে ভয়াবহ কাদার প্লাৱন নামতে দেখা দেয়। সেই কাদা আর জলেই ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায় ধারালি গ্রামের একটা বড় অংশ। বহু মানুষ কাদা জলের নিচে আটকে যায়। সেই প্লাবন ধুয়ে মুছে নিয়ে যায় অনেকগুলি বাড়ি, হোটেল, দোকান-পাট, বাজার, গাড়ি, বাস সবকিছু। বহু মানুষ স্রেফ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে এই ঘটনায়।
উদ্ধারকাজে নেমেছে এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, দমকল, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। বিপর্যয় মোকাবিলা দলগুলি একযোগে ঘটনাস্থলে কাজ করে চলেছে। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি লাগানো হয়েছে উদ্ধারকাজে। ঝুলন্ত সেতু ব্যবহার করে কাদাজল থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে এক এক জন গ্রামবাসীকে। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামি গভীর উদবেগ প্রকাশ করেছেন এবং উদ্ধারকারী দলকে জরুরী নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে উত্তরাখণ্ডে এর আগেও মেঘফটা বৃষ্টিতে দুর্ঘটনা ঘটেছে। উত্তরাখণ্ড সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুসারে, ১৬ জুলাই ২০১৩ তারিখে ৫,৭০০ জনেরও বেশি লোককে “মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল”। এর মধ্যে ৯৩৪ জন স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন। পরে মৃতের সংখ্যা ৬,০৫৪ জন বলে ঘোষণা করা হয়।
মোট ১৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে
অনিল আম্বানি
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], নতুন দিল্লী, ভারত, ০৫/০৮/২০২৫ : ইডির তলব পেয়েশিল্পপতি অনিল আম্বানি দিল্লীতে হাজির হলেন ইডির দপ্তরে। অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি মোট ১৭,০০০ কোটি টাকার ঋণ প্রতারণা করেছেন। এই বিশাল অঙ্কের ঋণ প্রতারক হিসেবে তদন্ত করতে ইডি তাঁকে গত সপ্তাহে তলব করেছিল। সেই অনুযায়ী আজ অনিল আম্বানি এসেছেন দিল্লীর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দপ্তরে।
৬৬ বছর বয়সী আম্বানি গ্রূপের এই শিল্পপতি আদৌ ঋণ খেলাপি কি না তা খতিয়ে দেখতেই ইডি অনিল অম্বানিকে আজ দিল্লীর অফিসে তলব করেছিল, সেই অনুযায়ী একেবারে সঠিক সময়ে দিল্লীতে ইডির ফিসে পৌঁছে যান তিনি। ইডি দেখতে চাইছে ১৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে অনিল আম্বানির কোনো সক্রিয় ভূমিকা ছিল কি না ! যদি থেকে থাকে তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
তদন্তে নেমে এর আগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট মোট ৩৫টি বাড়িতে ৫০ টির বেশি কোম্পানিতে তল্লাশি চালিয়েছে, অন্তত ২৫ জনকে নিয়মিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারপরেই অনিল আম্বানিকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল আর এই প্রথম অনিল আম্বানি ইডির মুখোমুখি হতে চলেছেন। ইডি ইতিমধ্যেই যে সব তথ্য হাতে পেয়েছে তা এসেছে সেবি, ন্যাশনাল হাউজিং ব্যাঙ্ক , ন্যাশনাল ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং অথরিটি ও ব্যাঙ্ক অফ বারোদা থেকে। আগস্ট মাসের ১ তারিখে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করেছিল। এর ফলে অনিল আম্বানির বিদেশে যাওয়ার ওপরেও নিষেধাজ্ঞা তৈরি হয়ে গিয়েছিল।
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], নতুন দিল্লী, ভারত, ০৪/০৮/২০২৫ : সুপ্রীম কোর্টে জোর ধাক্কা খেলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁকে রীতিমত তিরস্কৃত করা হল দেশের শীর্ষ আদালতে।
২০২২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর দেশে ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রার ডাক দিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ঐ দিন রাজনৈতিক কর্মসূচীর মাঝে এক ঝাঁক সাংবাদিক এবং সমবেত মানুষদের মধ্যে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, “অরুণাচল প্রদেশে চীনা সৈনিকদের সাথে ভারতীয় সৈনিকদের যে সংঘাত হয়েছিল, তাতে ভারতীয় জওয়ানরা পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছিলেন, ঐ ঘটনায় মোট ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়েছিল। ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ২০০০ বর্গকিলোমিটার চীনাদের হাতে চলে গিয়েছে, তা নিয়ে কেন কেউ প্রশ্ন তুলছে না ?”
রাহুল গান্ধীর করা সেই মন্তব্যের জেরে মামলা হয়েছিল, সেই মামলা এখন দেশের শীর্ষ আদালতে। এদিন বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসির বেঞ্চ রাহুল গান্ধীর আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভীকে জিজ্ঞাসা করেন, “রাহুল গান্ধী কিভাবে জানলেন যে ভারতীয় ও চীনা সেনার সংঘাতে ২০ জন ভারতীয় সেনার প্রাণ চলে গিয়েছে ? কিভাবেই বা তিনি জানলেন ২০০০ বর্গ কিলোমিটার ভূখণ্ড চীনাদের হাতে চলে গিয়েছে ? এইসব তথ্য তিনি কোথা থেকে পেলেন ? এই তথ্যের প্রমান বা ভিত্তিই বা কোথায় ?” শীর্ষ আদালত মনে করছে রাহুলের করা এহেন বক্তব্য ভারতীয় জওয়ানদের মনোবল কমিয়ে দিতে পারে।
এরপরেই বিচারপতিরা রাহুল গান্ধীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনি যদি একজন সত্যিকারের ভারতীয় হতেন, তাহলে এই ধরনের কথা বলতেন না, যখন দেখছেন সীমান্তের দুই দিকে ভারত ও চীনের মধ্যে সংঘাত বজায় রয়েছে !” রাহুল গান্ধীর উদ্দেশ্যে অভিষেক মনু সিংভীকে বিচারপতিরা বলেন, “আপনি যা কিছুই বলে থাকুন না কেন, সেসব পার্লামেন্টে গিয়েই তো বলতে পারেন, এই ধরনের বক্তব্য জনসমক্ষে এমনকি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করছেন কেন ? “
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি মানহানির মামলায় লখনউয়ের এম পি এমএলএ আদালত রাহুল গান্ধীকে সমন পাঠিয়েছিল। সেই সমনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে একটি আবেদন জানিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। সেই আবেদনও খারিজ হয়ে গিয়েছিল গত ২৫শে মে. সুতরাং এবার হয়ত রাহুলকে সশরীরে দেখা যেতে পারে আদালত চত্বরে।
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], সিমলা, হিমাচল প্রদেশ, ০২/০৮/২০২৫ : প্রচন্ড বর্ষায় বিধ্বস্ত অবস্থা সমগ্র হিমাচল প্রদেশের। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় নেমেছে ধ্বস, ফলে ঐ রাজ্যের বেশিরভাগ রাস্তাই বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। নদীগুলি এতটাই ফুঁসছে, যে কোনো সময়ে একটা বড়সড় বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।
এই বছর বর্ষার শুরু থেকেই একটু বেশিই বৃষ্টিপাত হচ্ছে হিমাচল প্রদেশে। সব পাহাড়ি নদীগুলির অবস্থা খুব খারাপ, বইছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। যে কোনো দিন বড়সড় একটা বিপর্যয়ের দিন গুনছেন হিমাচলবাসী। রাজ্যের এমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের বিবরণ অনুযায়ী আজ এই মুহূর্তেও নাগাড়ে বৃষ্টি হয়ে চলেছে হিমাচল প্রদেশের বেশিরভাগ জায়গাতে। হিমাচলের সরকারি বিবৃতিতে জানা যাচ্ছে ঐ রাজ্যের জাতীয় সড়কগুলি সহ ৩৮৩টি রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে শুধুমাত্র ধ্বস নামার কারনে।
প্রতিদিন রাস্তাগুলি থেকে ধ্বস সরানোর কাজ চালানো হচ্ছে। কিন্তু ফের কোনো না কোনো জায়গায় ধ্বস নেমে যাচ্ছে। ফলে ফের রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে করে হিমাচলের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ৭৪৭টি বিদ্যুৎবাহী ট্র্যান্সফর্মার নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ২৪৯টি জল সরবরাহ প্রকল্পগুলির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেকগুলি বাড়ি ভেঙে পড়েছে, ধ্বসে পরে ভেঙে গিয়েছে গাড়ি। এখনও পর্যন্ত অতি বৃষ্টির কারণে হিমাচল প্রদেশে মোট ১৭৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে সরকারি সূত্রে।
ক্রমেই হিমাচলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। হিমাচলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষিতিগ্রস্ত হয়েছে চাম্বা জেলা, এখানে ৮৯টি রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে আছে. কুলুতে ৬৭টি রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে. মান্ডিতে ১৮১ টি রাস্তা বন্ধ এবং উনাতে মোট ৩টি রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে. লাহুল বা স্পিতির দিকটাতেও প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। ঐ দিকে অনেকগুলি রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। হিমাচল সরকার বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করছে। বিভিন্ন গ্রামগুলিতে ত্রাণ পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
দেশের নতুন উপরাষ্ট্রপতি নিয়ে জল্পনার শেষ নেই রাজনৈতিক মহলে
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], নতুন দিল্লী, ভারত, ০১/০৮/২০২৫ : আগামী ৯ই সেপ্টেম্বর দেশের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে বলে জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।
কিছুদিন আগেই (২১শে জুলাই) শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন জগদীপ ধনকর। তাঁর ইস্তফা গৃহীত হওয়ায় উপরাষ্ট্রপতি পদটি বর্তমানে খালি রয়েছে। সেই পদেই নতুন উপরাষ্ট্রপতি পেতে নির্বাচন কমিশন বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে দেশের নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে তারা প্রস্তুত। সেইমত আগামী ২১আগস্টের মধ্যেই এই পদের জন্যে আবেদনকারীর নাম জমা দিতে হবে, ২২ যাত্রীকে নিরাপত্তাজনিত পরীক্ষা হবে. ২৫ তারিখে নাম প্রত্যাহার করার শেষ দিন।
ইন্ডিয়া জোটের তরফ থেকে মল্লিকার্জুন খাড়গে ইতিমধ্যেই উপরাষ্ট্রপতি পদের জন্যে সঠিক প্রার্থীর খোঁজ করতে শুরু করে দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সঠিক প্রার্থীর সন্ধান করছে বিজেপিও। সেপ্টেম্বর মাসের ৯ তারিখে দেশের নতুন উপরাষ্ট্রপতিকে নির্বাচন করবেন সাংসদেরা। দেশের নতুন উপরাষ্ট্রপতি নাম সেদিনই ঘোষণা করা হবে । দেশের পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে বেশ কিছু নাম নিয়ে জল্পনা চলছে, তবে সেই জল্পনার মধ্যেই সিকিমের রাজ্যপাল ওম প্রকাশ মাথুরের নাম ঘুরে ফিরে আসছে।
কম দামে গোটা বিশ্বকে ডেটা বেচবে ভারত ? তবে শুধুই নিখুঁত ডেটা ব্যবহার নয়, গোটা বিশ্বের ওপর নজরদারি চালাবে নিসার রকেট
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], নতুন দিল্লী, ভারত, ৩১/০৭/২০২৫ : কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত), ভূ-বিজ্ঞান এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, পারমাণবিক শক্তি বিভাগ, মহাকাশ বিভাগ, কর্মী ও জন-অভিযোগ এবং পেনশন বিভাগের প্রতিমন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে এনআইএসএআর উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণের জন্য ইসরো এবং নাসার বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ডঃ জিতেন্দ্র সিং সিএসআইআর অডিটোরিয়ামে উপস্থিত থেকে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইসরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীরা। ডঃ জিতেন্দ্র সিং জিএসএলভি-এফ১৬ রকেটে করে স্যাটেলাইটটির ত্রুটিহীন উৎক্ষেপণের প্রশংসা করেন।
ডঃ জিতেন্দ্র সিং বলেন, ভারত ও আমেরিকার বৈজ্ঞানিক সহযোগিতায় এই এনআইএসএআর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল একটি উপগ্রহ নয়, বিশ্বের সঙ্গে ভারতীয় বিজ্ঞানের একসঙ্গে কাজ করার অন্যতম উদাহরণ।
জিএসএলভি-এফ১৬-এর মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা এই এনআইএসএআর সফলভাবে সূর্য ও এ ধরনের মেরু কক্ষপথে স্থাপন হয়েছে।
নাসা ও ইসরো সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার- এনআইএসএআর হল বিশ্বের প্রথম পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণ করা উপগ্রহ। এটি পৃথিবীর ভূমি এবং বরফ স্তরের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ছবি পাঠাবে। এছাড়া সব ধরণের আবহাওয়ার ছবিও পাঠাবে।
বিপর্যয় মোকাবিলা, জলবায়ু পর্যবেক্ষণ, হিমবাহ সম্পর্কে নজরদারি এবং কৃষিতে এনআইএসএআর-এর প্রয়োগ বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।
ডঃ জিতেন্দ্র সিং বলেন, এনআইএসএআর থেকে প্রাপ্ত তথ্য জাহাজ চলাচলের পথ, বিমান পরিবহণ ব্যবস্থা এবং জাতীয় পরিকাঠামো পরিকল্পনায় বিজ্ঞান ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
২৩৯৩ কেজি ওজনের এই উপগ্রহটি ৫ বছর কাজ করবে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু বিজ্ঞান, ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির পর্যবেক্ষণ, বন মানচিত্র এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করবে। ১.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করে এই মিশনটি বাস্তবায়িত করা হয়েছে। ইসরো এবং নাসা উভয়েই এতে অর্থ ব্যয় করেছে।
ডঃ জিতেন্দ্র সিং তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি ক্রমশ এগিয়ে চলেছে। ভারত অগ্রগতির নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করছে।
কার্গিল যুদ্ধের প্রবীণ সেনা পরিবারকে রোহিঙ্গা বলে হেনস্থা
হাকিমুদ্দিন শেখ
আজ খবর (বাংলা) [দেশ], পুনে, মহারাষ্ট্র, ৩১/০৭/২০২৫ : মহারাষ্ট্রের পুনেতে সেই পরিবারকেই এবার বাংলাদেশী রোহিঙ্গা বলে দাগিয়ে দেওয়া হল যে পরিবার কার্গিল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। তৃণমূল নেত্রী বার বার অভিযোগ করেছেন দেশের বেশ কিছু প্রান্তে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী হিসেবে সন্দেহ করে মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। পুনের ঘটনা যেন তারই জ্বলন্ত নিদর্শন।
পুনের চন্দননগর এলাকার বাসিন্দা ওই পরিবার অভিযোগ করেছে যে “তাদের বাড়িতে গতকাল রাত্রি 11:30 নাগাদ একদল মানুষ জোর করে বাড়িতে ঢুকে নো নোংড়া ভাষায় অভিযোগ করে যে তারা বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গা। বাড়িতে ঢুকে হুজ্জুতি করতে থাকা লোকগুলি বজরং দলের হয়ে স্লোগান দিচ্ছিল। তাদের সাথে সাদা পোশাকে পুলিশও থাকতে পারে বলে মনে হয়েছে।”
প্রবীণ সেনা হাকিমুদ্দিন শেখের ভাই ইরশাদ শেখ বলেন, “আমরা গর্বিত ভারতীয়, গত ১৩০ বছর ধরে আমাদের পরিবার বিভিন্ন পদে জাতির সেবা করে চলেছি। তবুও আমাদের সাথে এমন ব্যবহার করা হচ্ছিল যেন আমরা অপরাধী। ১৯৯৯ সালে আমাদের পরিবারের হাকিমুদ্দিন শেখ কার্গিল যুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। এদিন রাত্রি সাড়ে এগারোটা নাগাদ প্রায় ৭০-৮০ জন আমাদের বাড়িতে জোর করে ঢুকে পড়ে বলে আধার কার্ড দেখাও, নাহলে তোমাদের মেরে ফেলব। আমরা ঐ পরিস্থিতিতে কাগজপত্র দেখানোর চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু তারা বাড়ির মধ্যে ঢুকে রীতিমত তাণ্ডব চালাতে শুরু করে দেয়। তারা জানায় তারা বজরং দলের সদস্য।”
প্রবীণ সেনা হাকিমুদ্দিন বলেন, “আমার পরিবারের শেখ নাযিমুদ্দিন ও শেখ মহম্মদ সালিম ১৯৬৫ এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আমি ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। আমাদের পরিবার চিরকাল দেশের সেবা করে এসেছে। সেই আমাদেরকেই প্রমান দিতে হবে যে আমরা এই দেশের নাগরিক ? শুধুমাত্র একটা কার্ড দেখলেই প্রমান হয়ে যাবে যে আমরা এই দেশের নাগরিক ? আর সেটাও দেখতে হবে বজরং দলকে ?” এই ঘটনায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে শেখ পরিবারের বুকে।
গোটা বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই ঘটনায় পুলিশের যুক্ত থাকার বিষয়টা অস্বীকার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে “যারা এই কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা আক্রান্তদের আশ্বস্ত করেছি।”
এই খবরটি শেয়ার করুন এবং নিজস্ব মতামত জানাতে কমেন্ট করুন।