বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন কুনাল ঘোষ
আজ খবর (বাংলা) [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২২/১১/২০২৫ : এসআইআর নিয়ে এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশননকে তোপ দাগলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুনাল ঘোষ.
রাজ্যে চলতি মাসের ৪ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে এস আই আর প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে বিস্তর অভিযোগ উঠে এসেছে। এবার এই প্রক্রিয়াকে নির্বাচন কমিশনের ওপর বিজেপির রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হিসেবে দেখাঁতে চাইলেন তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ। এই তত্ব তুলে ধরতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করতেও ছাড়েন নি।
কুনাল ঘোষ বলেছেন যে এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসলে প্রকৃত ভোটারদেরকেই টার্গেট করা হচ্ছে। হতাশাগ্রস্ত হয়ে প্রকৃত ভোটার এবং বিএলও আধিকারিকরা আত্মহত্যা করছেন। ভোটার তালিকা থেকে কোনো প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ যাওয়া উচিত নয়, আবার কোনো অবৈধ বা ভুয়ো ভোটারের নামও তালিকায় থাকা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।
এক কোটি নাম বাদ হয়ে গেলে উনি জিতবেন কিভাবে ? প্রশ্ন শুভেন্দুর
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২১/১১/২০২৫ : “রাজ্যে চলতে থাকা এসআইআর থামানোর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ?” প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্যে এই মুহূর্তে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। তবে সেই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “বিএলওদের প্রশিক্ষণে যথেষ্ট ফাঁক থেকে গিয়েছে। বাধ্যতামূলক নথিপত্রের ব্যাপারে স্পষ্টতার অভাব রয়ে গিয়েছে। গোটা বিষয়টির পরিকাঠামো ত্রুটিযুক্ত রয়েছে। এই কারণে গোটা প্রক্রিয়াটাই অকার্যকর হয়ে উঠেছে।” এসআইআর জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই ধরনের প্রক্রিয়াকে ‘অপরিকল্পিত’, ‘বিশৃঙ্খল’ এবং ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এই মুহূর্তে দিল্লী থেকে রাজ্যে এসআইআর এর এর কাজ কর্ম নিরীক্ষণ করতে এসেছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। আজ তাঁরা একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। নিউ টাউনে ইভিএম নিয়ে একটি কর্মশালাও করা হয়েছে। এই বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া চিঠি নিয়ে আলোচনাও হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন যাতে এসআইআর বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু এসআইআর থামানোর তিনি কে ? এটি সাংবিধানিক একটি সংস্থার ওপর এক ধরনের আক্রমণ ছাড়া আর কিছুই নয়। এসআইআর কোনো নতুন ঘটনা নয়, এই ধরনের ঘটনা দেশে নবমবারের মত ঘটছে। প্রথম দিন থেকেই তিনি মানুষকে ভয় দেখিয়ে চলেছেন। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানারকম কথা বলছেন, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে গালি দিচ্ছেন।”
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ” যদি ৭ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশিত না হয়, তাহলে এপ্রিলে নিশ্চয়ই ভোট হবে না। মৃত, ভুয়ো এবং অবৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতা হারানোর ভয়ে হট্টগোল করছেন। যখন এক কোটিরও বেশি ভুয়ো, অবৈধ, বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী ভোটারদের নাম বাদ হয়ে যাবে, তখন তিনি কিভাবে জিতবেন ? তৃণমূলের সাথে বিজেপির ভোট পার্থক্য মাত্র ২২ লক্ষের কাছে।”
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২১/১১/২০২৫ : রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য্য অভিযোগ করে জানিয়েছেন “তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে চলতে থাকা এসআইআরের দায়িত্বে থাকা বিএলও আধিকারিকদের ভুল তথ্য এবং ভুল নামে ফর্ম পূরণের জন্যে চাপ দিচ্ছে।”
এই মুহূর্তে রাজ্যে এসআইআর চলছে। গোটা বিষয়টির ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। চলতি মাসের ৪ তারিখে শুরু হয়েছে এই এসআইআর, চলবে ডিসেম্বর মাসের ৪ তারিখ পর্যন্ত। বিএলও আধিকারিকরা বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছেন এবং ভোটার তালিকায় সংযোজন ও বিয়োজনের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করাচ্ছেন। এবার সেই ফর্মেই নাকি ভুল নাম এবং ভুল তথ্য দিতে চাপ দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা, এমনি অভিযোগ করছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য্য।
ইতিমধ্যেই এসআইআর এর জন্যে প্রায় সব ফর্ম বিতরণ করা শেষ হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। এর আগে রাজ্যের কয়েকটি জেলায় অভিযোগ উঠেছিল সেই জেলাগুলির জেলাশাসকরা নাকি বিএলও আধিকারিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন ওটিপি নম্বর বলে দেওয়ার জন্যে। বিষয়টি জানানো হয়েছিল নির্বাচন কমিশনকে। এবার ফের বিএলও আধিকারিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠলো। বিজেপির এই অভিযোগের তীর শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে।
বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য্য বলেন, “আমাদের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট, আমরা বলছি শনাক্ত করুন, মুছে ফেলুন আর নির্বাসিত করুন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, যদি কেউ ভুল করে থাকেন, তাদের নাম ভোটার তালিকায় থাকা উচিত। রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী সকলের নাম ভোটার তালিকায় থাকা উচিত …এটা তাদের এজেন্ডা হতে পারে। ওরা এটা নিশ্চয়ই জানে যে সেটা আর সম্ভব নয়।”
শমীক ভট্টাচার্য্য আরও বলেন, “উনি আগে বলতেন এসআইআর-এর মাধ্যমে কিছুই হবে না। আর এখন বলছেন এসআইআর কিছুতেই হতে দেবেন না। তৃণমূল বিএলওদের ওপর ভুল ভোটার এবং ভুল নথী আপলোড করার জন্যে চাপ সৃষ্টি করছে। তাঁদের ওপর চাপ বাড়িয়ে তুলছে। এই মুহূর্তে দেশে মোট ১২টি রাজ্যে এসআইআর করা হচ্ছে। কিন্তু অন্য কোনো জায়গায় এতো হট্টগোল হচ্ছে কি ? আর কোথাও এতো হট্টগোল হচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া।”
চাপের মুখে রাজ্যে আত্মহত্যার সংখ্যা বেড়েছে : কুনাল ঘোষ
কুনাল ঘোষ
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি] কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২০/১১/২০২৫ : তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ বৃহস্পতিবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি তথা ‘এসআইআর’-এর তুমুল সমালোচনা করেছেন।
কুনাল ঘোষ অভিযোগ করে বলেছেন, “বিজেপি তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্যেই নির্বাচন কমিশনকে অপব্যবহার করে চলেছে। এর ফলে প্রকৃত ভোটার এবং বিএলও-দের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। বিএলওদের অনেকেই এই চাপ আর নিতে পারছেন না। এসআইআর-এর কারণে যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তার জন্যে রাজ্যে বেশ কিছু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। প্রকৃত ভোটাররা রীতিমত আতঙ্কিত এবং বিএলওরাও চাপের মুখে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব কি হচ্ছে ?”
কুনাল ঘোষ বলেন, “বিজেপি এই রাজ্যে নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্যে যেভাবে এসআইআর করতে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছে, তার প্রতিবাদ করেছেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতাজিও । এর আগে ২০০১ সালের নির্বাচনের পর যখন এসআইআর করা হয়েছিল তখন তা করতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লেগেছিল। কিন্তু এবার খুব অল্প সময়ের মধ্যে যেভাবে এসআইআর করানো হচ্ছে, তাতে প্রচন্ড চাপ বেড়ে গিয়েছে, যে চাপ সহ্য করতে না পেরে প্রকৃত ভোটার থেকে বিএলওরা, অনেকেই ইতিমধ্যে আত্মহত্যাকরছেন।”
কুনাল ঘোষ আজ অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, “বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্যে নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করছে। যেখানে তাদের সাংগঠনিক উপস্থিতিই নেই, সেখানে বাইরে থেকে কর্মী এনে BLA ২ হিসেবে কাজ করার অনুমতি দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কেন ? আসলে বাংলায় বিজেপির কোনো সংগঠনই নেই।”
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], পাটনা, বিহার, ২০/১১/২০২৫ : আজ বৃহস্পতিবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এনডিএর সমর্থনে দশমবার শপথ গ্রহণ চলেছেন জেডিইউ প্রধান নীতিশ কুমার। দশমবার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়াটাও আমাদের দেশে একটা রেকর্ড। আর আজ এই নতুন রেকর্ডের অধিকারী হতে চলেছেন নীতিশ কুমার।
আজ মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি হবে পাটনার বিখ্যাত গান্ধী ময়দানে। গঙ্গা নদীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই ময়দানেই এর আগে ২০০৫, ২০১০ এবং ২০১৫ সালে শপথ গ্রহণ করেছিলেন নীতিশ কুমার। এই সেই ময়দান, যেখানে জয়প্রকাশ নারায়ণ ১৯৭৪ সালে ‘সামগ্রিক বিপ্লবে’র ডাক দিয়েছিলেন। নীতিশ কুমার প্রথমবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন ২০০০ সালের ৩রা মার্চ, মাত্র ৭ দিনের জন্যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে ছিলেন। এরপর ২০০৫ সালে ২৪শে নভেম্বর তিনি দ্বিতীয়বার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন।
২০১০ সালের ২৬যে নভেম্বর নীতিশ কুমার তৃতীয়বারের জন্যে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। এরপর ২০১৫ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি এবং ঐ বছরেই অর্থাৎ ২০১৫ সালেরই ২০ নভেম্বর ফের বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। তারপর ২০২০ সালের ১৬ই নভেম্বর এবং আজ অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২০শে নভেম্বর ফের তিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন। মাঝে অল্প সময়ের জন্যেও তিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।
আজ ৭৪ বছর বয়সে নীতিশ কুমারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে ইতিমধ্যেই পাটনায় পৌঁছে গিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে নীতিশ কুমারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নীতিশ কুমারকে বিহারে বিজেপির সর্বোচ্য প্রতিনিধি হিসেবে সন্মান দিয়েছে। ভারত বর্ষে এমন কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও নেই, যিনি তাঁর রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীপদে দশবার শপথ গ্রহণ করেছেন। আজ শপথ গং অনুষ্ঠান হয়ে গেলে নীতিশ কুমারের মুকুটে সেই পালকও যুক্ত হয়ে যাবে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ,১৬/১১/২০২৫ : রাজভবনে অস্ত্র সম্ভার ! রাজভবন থেকে অস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে ? তৃণমূল নেতা তথা আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জি অন্তত এই ধরনেরই অভিযোগ করেছেন। তাঁর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কল্যাণ ব্যানার্জিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন রাজ্যপাল।
তৃণমূল নেতা এর আগে বিস্তর বিতর্কিত কথাবার্তা বলেছেন, কিন্তু সে সব ছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে। এবার কল্যাণ আক্রমণ করে বসলেন একেবারে রাজ্যের রাজ্যপালের বিরুদ্ধেই। কল্যাণ একেবারে নজিরবিহীনভাবে বলেছেন ‘রাজভবন থেকে অস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে’। গত শনিবার তৃণমূল নেতা কল্যাণ ব্যানার্জি বলেছিলেন, “বিজেপি অপরাধীদের রাজভবনে আপ্যায়ন করছে এবং রাজভবন থেকেই রাজ্যে তৃণমূল কর্মীদের ওপর আক্রমণ করার জন্যে অস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। সমাজবিরোধীদের হাতে গলা বারুদ তুলে দেওয়া হচ্ছে।”
কল্যাণ ব্যানার্জির এই বক্তব্যে বেশ ক্ষুন্ন হয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি কল্যাণের এই লাগামছাড়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, “রাজভবনের দরজা মানুষের জন্যে আমি খুলে দিয়েছি। যে কেউ রাজভবনে এসে মজুত করা অস্ত্রশস্ত্র খুঁজে দেখতে পারেন। রাজভবনকে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। রাজভবনে কোনো অস্ত্র থাকে না। যে কেউ এসে খুঁজে দেখতে পারেন।”
তৃণমূল সাংসদকে এই ব্যাপারে একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন রাজ্যপাল। তিনি কল্যাণ ব্যানার্জিকে তাঁর বক্তব্যের জন্যে প্রকাশ্যে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন , না হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। রাজ্যপাল বলেন, “সাংসদের এই ধরনের মন্তব্য প্রমান করে যে রাজ্যের পুলিশের ওপর তাঁর কোনো ভরসা নেই ।”
আজ খবর (বাংলা) [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ১৫/১১/২০২৫ : বিহারে এনডিএর ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরির পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবাংলার রাজনীতি সম্পর্কে একটি কটাক্ষ করেছিলেন। আজ সেই কটাক্ষেরই জবাব দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা।
গতকাল বিহারে বিশাল ব্যাবধানে জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, ” গঙ্গা নদী বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গতেই যায়। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন বিহারের অসাধারণ জয়ের ধারা বলবৎ থাকবে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনেও। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আর মাত্র কয়েক মাস পরেই বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। সেই নির্বাচনে বিহারের মত পশ্চিমবঙ্গেও ব্যাপক জয়লাভের সস্বপ্ন দেখছে ভারতীয় জনতা পার্টি।
নরেন্দ্র মোদীকে অবশ্য আজ জবাব দিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী শশী পাঁজা। তিনি এদিন বলেন, “অলীক স্বপ্ন দেখবেন না, দিবাস্বপ্ন দেখবেন না। সেই স্বপ্ন সত্যি হবে না। পশ্চিমবঙ্গে জয়লাভ অনেক দূরে রয়েছে আপনাদের থেকে। আপনি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পাকল্পে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। মহিলাদের প্রকল্পেও টাকা পাঠানো বন্ধ করে দিয়ে আপনি পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের অপমান করেছেন। আপনি এবং আপনার মত বিজেপির অন্যান্য নেতারা সবসময় পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের অসম্মান করেন। “
বিজেপিকে সমালোচনা করতে গিয়ে শশী পাঁজা বিজেপিকে “বাংলা বিরোধী জমিদার” হিসেবে উল্লেখ করেন, যেখানে যিনি বাংলা বিরোধী বই বেশি জোর দেন। তিনি বলেন, “বংলায় বিজেপি বঙ্গ বিরোধী হিসেবেই পরিচিত। এই রাজ্যে এটাই এদের পরিচিতি। এরা বাংলা বিরোধী আবেগ নিয়ে চলাফেরা করে। আর সেই কারণেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় কিছু আশা করার মত কোনো কারণ নেই, এই রাজ্যের মহিলারাই ওদেরকে ভোটের বাক্সে মুখের ওপর জবাব দিয়ে দেবে।”
এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য্য বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যা কিছু বলার দরকার ছিল তা বলে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে এখন আর আইনের শাসন নেই। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, যে কোনো পরিস্থিতিতেই হোক না কেন তাঁরা এবার তৃণমূল কংগ্রেসকে ত্যাগ করবেনই।”
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], পাটনা, বিহার, ১৪/১১/২০২৫ : বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে ফের গেরুয়া ঝড় উঠতে শুরু করেছে। আজ বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের গণনা চলছে। সেই গণনায় বিজেপি সমর্থিত এনডিএ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে।
বিহারে মোট ২৪৩টি আসনের মধ্যে ২০৩টিতে এগিয়ে রয়েছে এনডিএ সমর্থিত বিজেপি। আরজেডি এগিয়ে রয়েছে ৩৪টি বিকেন্দ্রে। জেএসপি অর্থাৎ পি কের দল শূন্য এবং অন্যান্যরা ৬টি কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছে। নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন বিজেপি বিহারে দুই তৃতীয়অংশের থেকেও বেশি আসন পাবে। সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে ফলে গিয়েছে। উল্টোদিকে তেজস্বী যাদব যা কিছু বলেছিলেন, তা যেন সবই ফাঁকা বুলি হিসেবে প্রমাণিত হলো। বিরোধী ইন্ডিয়া মহাজোটের পরাজয় হলো।
বিহারে বিশাল ব্যবধানে জিততে চলেছে বিজেপি। এই রাজ্যে ভোটের পর এক্সিট পোলের রায়ও এটাই ছিল। কিন্তু তেজস্বী যাদব এক্জিট পোলের রায় মানতে চান নি। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “যেভাবে বিহারে বিজেপি জিতেছে, ঠিক সেভাবেই পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি ব্যাপক ব্যবধানে জিতবে, শাসক দল যেন প্রস্তুত থাকে।” বিজেপি নেত্রী লকেট চ্যাটার্জি বলেন, “বিহারে নতুন সূর্যোদয় হলো. ”
তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ বলেন, “বিহারের সাথে পিশ্চিমবঙ্গকে গুলিয়ে ফেললে হবে না। এখানে ফের একবার তৃণমূল কংগ্রেস জিতবে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ফের একবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন।” বিহারের পাশাপাশি আজ পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি কর্মীরা গেরুয়া আবির খেলায় মেতে ওঠেন।
তিন বছর তিন মাস জেলে থাকার পর আজই মুক্তি পেয়েছেন পার্থ চ্যাটার্জি। আজই তিনি ফিরেছেন তাঁর নাকতলার বাড়িতে। বেহালায় তাঁর বান্ধবীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল প্রায় ৫০ কোটি টাকা। অবৈধ শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই সময় তৃণমূল তাঁকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল তাঁর মন্ত্রিত্ব কেড়ে নিয়েছিল। তিনি ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব। সেই পদটাও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তাঁকে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস আর কোনো আলোচনা করে নি।
দীর্ঘদিন জেলবন্দি ছিলেন পার্থ চ্যাটার্জি। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাঁকে জেল হাসপাতালে ভর্তি করাও হয়েছিল। তবে আজ আদালতে তাঁর মুক্তির কথা ঘোষণা করা হতেই তিনি হাসপাতাল থেকে নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে পার্থ চ্যাটার্জি আজ বলেন, “আমি সম্পূর্ণ নিরপরাধ। আমি অবৈধভাবে কাউকে নিয়োগ করিনি, করতে বলিওনি। আমি আমার বিধায়ক এলাকায় প্রত্যেকটা জায়গায় জনতার জন্যে একটি করে অভিযোগের বাক্স রেখে দিচ্ছি। আমি ওপেনলি বলছি দেখে নিন একটাও অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে জমা পড়ে কিনা ! আমি এই কাজ করি নি।”
তাঁর নিজের দল সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি দলকেও আমার বক্তব্য জানাবো। আমি কোনো দোষ করি নি। পার্টি নিশ্চয়ই আমার সব কথা শুনে আমার ব্যাপরে বিবেচনা করে দেখবে।” বান্ধবী অর্পিতা সম্পর্কে আজ পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, “অর্পিতা আমার বান্ধবী মাত্র, স্ত্রী তো নয় ! লোকের দুটো বৌ থাকে আর আমার একটা বান্ধবী থাকলেই দোষ ?”
বিহারে ১৪ তারিখ সকল ১১টার মধ্যেই রাহুল গান্ধী ও লালু প্রাসাদ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে : অমিত শাহ
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], বেতিয়া, বিহার, ০৬/১১/২০২৫ : বিহারের বেতিয়ায় একটি নির্বাচনী জনসভায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে দেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী মানুষ ও অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বেতিয়ার জনসভা থেকে অমিত শাহ এদিন জানিয়ে দেন যে দেশে একজনও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে বসবাস করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “আপনারা আমাকে বলুন দেশের ভোটার লিস্ট থেকে বাংলাদেশিদের নাম বাদ দেওয়া উচিত কি উচিত নয় ? চার মাস আগে রাহুল বাবা ‘অনুপ্রবেশকারী বাঁচাও যাত্রা’ শুরু করেছিলেন। সেই সময় তিনি মন্তব্য করেছিলেন আমাদের দেশের ভোটার লিস্টে অনুপ্রবেশকারীদের নাম থাকা উচিত। আমি জানতে চাই বাংলাদেশিরা কি ঠিক করবে আমার দেশের কোনো রাজ্যে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন ? আমি জানি না উনি (রাহুল গান্ধী) কতগুলো সাংবাদিক বৈঠক এখানে করেছেন, কিন্তু বিজেপিকর্মীরা এখানে ভোটার লিস্ট থেকে বাংলাদেশিদের নাম বাদ দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাবেন।”
এদিন সাংবাদিকদর প্রশ্নের উত্তরে অমিত শাহ বলেন, “আপনারা কি জানতে চাইছেন আগামী ১৪ই নভেম্বর কি হবে ? আমি বলছি সেদিন সকাল ৮টায় গণনা শুরু হবে এবং সকাল ১১টার মধ্যেই রাহুল গান্ধী এবং লালু প্রাসাদ যাদব ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে। এনডিএ তথা মোদীজি ও নীতিশ কুমারের নেতৃত্বে বিহারে নতুন সরকার গঠন করা হবে।” এদিন বিপক্ষ মহাজোটকে নানাভাবে কটাক্ষ করতে ছাড়েন নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ।