আজ খবর (বাংলা) [দেশ] নতুন দিল্লী, ভারত, ১৭/০১/২০২৬ : ভারতের ইন্টেলিজেন্স সূত্রে খবর আসছে আগামী প্রজাততন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে জঙ্গীরা দেশের কোনো একটি জায়গাকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিতে পারে। নাশকতার চেষ্টা হতে পারে দেশের যে কোনো জায়গায়।
প্রতি বছরই ভারত প্রজাতন্ত্র দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের আগে একটা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিভিন্ন রাজ্যে রেড এলার্ট জারি করা হয় । নজরদারি বাড়ানো হয় ব্যাপকভাবে। তবে এই বছর ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে নিশ্চয়ই কোন লাল সংকেত এসে পৌঁছেছে যার জন্যে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করতে হচ্ছে ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মীদের।
আর কিছুদিন পরেই দিল্লীতে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে। সেই উপলক্ষে সেখানে হাজির থাকবেন দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও অন্যান্য মন্ত্রী ভিআইপিরা। উপস্থিত থাকবেন দেশ বিদেশের অভ্যগতরা। এই ধরনের একটা জমায়েতের ওপর আঘাত হানতে তৎপর হয়ে উঠেছে দেশের শত্রু উগ্রপন্থীরা, এমন একটা আন্দাজ করা হচ্ছে। সেই কারণেই রাজধানী দিল্লী তো বটেই দেশের অন্যান্য প্রান্তেও কড়া সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। বিশেষ নজর রাখা হয়েছে রেল , বিমান ও মেট্রোর দিকে। রেল স্টেশনগুলিতেও নজরদারি কঠোর করা হয়েছে।
ভারতের ইন্টেলিজেন্স মনে করছে খালিস্তানি জঙ্গী অথবা বাংলাদেশী কোনো সন্ত্রাসবাদী দল এর তরফ থেকে আঘাত আসতে চলেছে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে। সেই অনুযায়ী গোটা দেশেই চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, জঙ্গীরা হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান এবং দিল্লী অঞ্চলে যথেষ্ট সক্রিয় রয়েছে। এই জায়গাগুলির জনাকীর্ণ অঞ্চলগুলিতে ইতিমধ্যেই মক ড্রিল করে নেওয়া হয়েছে।
ভোটের মুখে এই মামলা নিয়ে কি ঝামেলায় পড়তে চলেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ? আসন্ন ভোটে কি প্রভাব ফেলবে এই মামলা ? সুচিন্তিত মতামত দিন আপনারা
আজ খবর (বাংলা) [দেশ], নতুন দিল্লী ,ভারত, ১৫/০১/২০২৬ : কলকাতায় রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালানোর সময় চূড়ান্তভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এবার সুপ্রীম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। অভিযোগ আনা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের উর্দ্ধতম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
গত ৮ই জানুয়ারি ইডি আধিকারিকরা যখন কলকাতায় প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছিল, সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে সেই তল্লাশি অভিযানে পৌঁছে যান এবং তল্লাশিতে ব্যাঘাত ঘটান বলে অভিযোগ তুলেছে ইডি। অভিযোগে বলা হয়েছে যে মুখ্যমন্ত্রী ও ঐ পুলিশ আধিকারিকরা বেশ কিছু ফাইল ও তথ্য জোর করে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।
এই ঘটনার পর ইডির তরফে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করা হলেও মামলা কক্ষে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার দরুন সেদিন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলা মুলতুবি করে দিয়েছিলেন। এরপরেই ইডি সুপ্রীম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। এদিকে হাইকোর্ট এবং সুপ্রীম কোর্টে একই মামলার তারিখ একই দিনে পড়ে যাওয়ায় হাইকোর্টে মামলা খারিজ হয়ে যায়। সেদিনের সেই ঘটনা রাজ্যবাসীর মনে নানান প্রশ্নের সঞ্চার ঘটিয়েছে। বহু মানুষ সোশ্যাল মিডিয়াতে সোচ্চার হয়েছেন। চলেছে দোষারোপ আর পাল্টা দোষারোপের বিশাল অধ্যায়।
ইডি এই মামলা সুপ্রীম কোর্টে সরিয়ে নিয়ে গেছে। সুতরাং হাইকোর্টের মত আর বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার সুযোগ রইলো না। ইডির বক্তব্য ছিল ‘সেদিন শাসক দলের মদতেই আদালত কক্ষে ইচ্ছাকৃতভাবে হৈ হট্টগোল করা হয়েছিল। যাতে ঐ দিন শুনানি বানচাল হয়ে যায়। যদি তাই ঘটে থাকে, তাহলে দেশের শীর্ষ আদালতে অবশ্য সেই সুযোগ পাবেন না রাজ্যের শাসক দলের আইনজীবীরা। ইডির তরফ থেকে ৮ তারিখে ইডির তল্লাশি অভিযানে যে সব উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতির কারনে অভিযান বানচাল করার চেস্টা করা হয়েছিল বলে বলা হয়েছে, সেইসব অফিসারদেকে বরখাস্ত করার আবেদন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সিটি ঐ পুলিশ কর্মকর্তাদের যাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে থাকা নির্দিষ্ট দপ্তর বিভাগীয় তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয় , তার জন্যে সুপারিশ করেছে।
আজ এই মামলাটি সুপ্রীম কোর্টে উঠেছে। ডিজিপি রাজীব কুমার এবং পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে গুরুতর বলে অভিহিত করেছে শীর্ষ আদালত। তৃণমূলের তরফ থেকে আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে যে ইডি তৃণমূল কংগ্রেসের যে নথী বাজেয়াপ্ত করেছিল তা অত্যন্ত গোপন তথ্য সম্বলিত। তাই সেই নথীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক। এদিকে ইডির তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে এমন কোনো নথী তারা বাজেয়াপ্ত করেনি।
এই মামলার পরবর্তী তারিখ পড়েছে ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখে। এই দিন পর্যন্ত ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর এর ওপর স্টে অর্ডার দিয়েছেন মহামান্য আদালত। জানানো হয়েছে সব রকম এভিডেন্স এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার জন্যে। তবে ঘটনার দিন তল্লাশি চালানোর জন্যে স্থানীয় থানায় কোনো তথ্য দেয় নি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মামলা যে দিকে আর যেভাবে এগোচ্ছে তাতে করে রাজ্যের পুলিশ কর্তারা কি আগামী দিনে বিপদে পড়ে যাবেন ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গায়েও কি মামলার কোনো আঁচ এসে লাগবে ? এদিকে সামনেই রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। উঠছে হাজারো প্রশ্ন।
এই রাজ্যে দু’জন আক্রান্ত। পূর্ব মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নিপা নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারন নেই (দেখুন ভিডিও)
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য] পূর্ব মেদিনীপুর ও জলপাইগুড়ি, পশ্চিমবঙ্গ, ১৫/০১/২০২৬ : সারা রাজ্যের মধ্যে দুজন নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত রয়েছেন , তার মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না ব্লকের বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত চাঁদিবেনিয়া গ্রামে এক যুবক “নিপা” ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন , জানা যায়, ওই যুবক কর্মসূত্রে বারাসাতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।
কিছুদিন আগে বাড়িতে খবর আসে ওই যুবকের জ্বর হয়েছে, বাড়ির লোকজন গিয়ে এবং সেখানে বন্ধু-বান্ধবের সহযোগিতায় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায় ওই যুবক নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত। কান্নায় ভেঙে পড়েছে যুবকের পরিবার। তবে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার বিভাস রায় জানান যে “পুরুষ নার্সকে ঘিরে কিছু কথা শোনা যাচ্ছে, তাঁর বাড়ি এই জেলায় হলেও তিনি এখানে আসেননি এবং তাঁর সংস্পর্শে কেউ আসেননি।”
যদি তিনি সংক্রমিত হয়ে থাকেন, তাহলে তা তাঁর কর্মক্ষেত্রেই হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক আশ্বস্ত করে বলেন, সাধারণ কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলেই যথেষ্ট। বাদুড়ের লালারস থেকে নিপা সংক্রমণ হতে পারে। বিশেষ করে খেজুরের কাঁচা রস পান থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে, তবে খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে গুড় বানিয়ে খেলে সংক্রমণের কোনও আশঙ্কা নেই। ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি, পাখিতে খাওয়া ফল কখনোই না খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গোটা রাজ্য জুড়ে নিপা ভাইরাস ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ। বিভিন্ন জায়গায় নিপা ভাইরাস সংক্রান্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তির খোঁজ মিলতেই সতর্কতায় রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। এর প্রভাব পড়েছে জলপাইগুড়িতেও। সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এই মারাত্মক ভাইরাসকে কেন্দ্র করে।
জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তা চিকিৎসক ডা. অসীম হালদার জানিয়েছেন, রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট নির্দেশিকা এসেছে। সেই নির্দেশ মেনেই গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কোনও ধরনের সংক্রমণের খবর পেলেই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি। নিপা সহ অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগের মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দফতর সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
নিপা ভাইরাস প্রতিরোধে জলপাইগুড়ির বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা প্রচার শুরু করেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। পাটকাতা কলোনি-সহ শহরের একাধিক এলাকায় একই ছবি ধরা পড়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা সাধারণ মানুষকে জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
এছাড়াও বিশেষভাবে সতর্ক করা হচ্ছে বাদুড়ের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা নিয়ে। বাদুড়ের খাওয়া ফল বা কামড় দেওয়া ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। কাঁচা বা খোলা ফল না খাওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাদুড়ের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ছে দুশ্চিন্তা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য দফতরের এই সচেতনতা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সতর্কীকরণ ::নিপা ভাইরাস নিয়ে কোনো রকম গুজব ছড়াবেন না ,গুজবে কান দেবেন না। এবং বিতর্কে কান দেবেন না। নিপা ভাইরাস নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হবেন না।
উদ্বোধনের আগে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ ভবন পরিদর্শন করলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব ও পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চ্যাটার্জি (দেখুন ভিডিও)
আজ খবর (বাংলা) জলপাইগুড়ি, পশ্চিমবঙ্গ, ১৫/০১/২০২৬ : উদ্বোধনের আগেই রঙিন আলোয় সেজে উঠেছে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের নতুন ভবন। আগামী ১৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে চলেছে এই নবনির্মিত ভবন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শনিবার নতুন ভবন পরিদর্শনে আসেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চ্যাটার্জি।
পরিদর্শনকালে তাঁরা সার্কিট বেঞ্চ ভবনের পরিকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি খুঁটিয়ে দেখেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমস্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে। সন্ধ্যা নামলেই সার্কিট বেঞ্চ ভবনের দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
জানা যাচ্ছে, জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। ফলে উত্তরবঙ্গবাসীর কাছে এই দিনটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে।
এদিন মেয়র গৌতম দেব বলেন, “উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চ চালু করা হয়েছে। এই ভবন নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৫০১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল।” তিনি আরও জানান, উত্তরবঙ্গের বিচারপ্রার্থীদের যাতে আর কলকাতায় যেতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
নতুন এই সার্কিট বেঞ্চ চালু হলে উত্তরবঙ্গের বিচার ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও সহজলভ্য হবে বলে মনে করছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ,১৪/০১/২০২৬ : কলকাতায় ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মধ্য কলকাতার বিপিন বিহারী গাঙ্গুলি স্ট্রিটে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কলকাতায় ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এবার আগুন লাগে শহরের ব্যস্ত এলাকা বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে। প্রথমে একটি কাঠের দোকানে আগুন লাগলেও, মুহূর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরও একাধিক দোকানে। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ১০টি ইঞ্জিন। দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভানোর কাজ চলে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনে একের পর এক দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা যাচ্ছে। এছাড়াও, ওই এলাকায় একটি বহুতল বিল্ডিংয়েও আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দমকল কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও নিশ্চিত খবর না মিললেও, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দমকল ও পুলিশ। প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেশ খানিকটা বেগ পেতে হচ্ছে দমকল কর্মীদের। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে গোটা এলাকা। ব্যস্ততম এলাকা প্রচুর মানুষের বসবাস এখানে।
শহরের বুকে পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠছে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], নতুন দিল্লী, ভারত, ১৪/০১/২০২৬ : একটি খ্যাতনামা সংবাদদাতা সংস্থাকে পশ্চিমবঙ্গ সম্বন্ধে অভিমত জানাতে গিয়ে তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারকে তুলোধুনা করলেন বিজেপি নেতা তথা সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।
সুকান্তবাবু প্রশ্ন তুলেছেন, “কিভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস প্রতীক জৈনের বাড়িতে যেতে পারে ? যদি বাংলায় ৬০% মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ থেকে থাকে, তাহলে কোনো চ্যাটার্জি বা ব্যানার্জি কি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন ?” সুকান্ত মজুমদার বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে কোনো গণতন্ত্র নেই. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন এই রাজ্যটাকে দ্বিতীয় কাশ্মীর তৈরি করতে।”
প্রখ্যাত অর্থনীতিবীদ অমর্ত্য সেনকে এসআইআর এর শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “অমর্ত্য সেন কি আইনের উর্দ্ধে ? যে তাঁকে ডাকা যাবে না ?” তিনি অভিযোগ করে বলেন যে বামেরা হল তৃণমূলের ‘বি টিম’ ; তারা সেভাবেই কাজ করছে। তবে যত যাই হোক না কেন, ২০২৬এ বিজেপি বাংলায় একজন বাঙালি মুখ্যমন্ত্রীকে বসাবে, যিনি মাছ ভাত খেতেই পছন্দ করেন।”
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, ১৪/০১/২০২৬ : এসআইআর এর কাজ করে ফেরার পথে প্রাণ হারালেন এক মহিলা বিএলও কর্মী, তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করেই তীব্র বিতর্ক ময়নাগুড়িতে। মৃত কর্মীর নাম সুশীলা রায় (৪৫)।
মহিলার পরিবারের অভিযোগ, প্রশাসনের হয়ে কাজ করলেও বিপদের সময় সরকারি তরফে ন্যুনতম চিকিৎসাটুকু মেলেনি। পরিকাঠামোর অভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন সহকর্মী ও আত্মীয়রা। গত ৯ তারিখ, শুক্রবার রামশাই অঞ্চল অফিস থেকে বিএলও-র কাজ সেরে বাড়িতে ফিরছিলেন সুশীলা। পথে বাইক থেকে কোনভাবে পড়ে যান। ঘটনায় মাথা সহ শরীরে বিভিন্ন অংশে আঘাত পান তিনি।
তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আঘাত গুরুতর থাকায় পরবর্তীতে তাকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে সুশীলাকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করে পরিবার। অভিযোগ, সেখানে ভর্তির পর দীর্ঘ সময় কাটলেও মেলেনি জরুরি আইসিইউ (ICU) বেড।
মৃতার আত্মীয় পীযূষ রায়ের দাবি, “আমরা ব্লক প্রশাসনের কাছে বারবার অনুরোধ জানিয়েছিলাম সাহায্যের জন্য। কিন্তু একজন বিএলও হিসেবে তিনি কোনো বিশেষ সুবিধা পাননি। সরকারি কোনো তৎপরতা আমরা দেখতে পাইনি।” অবশেষে সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।সহকর্মীদের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ময়নাগুড়ির বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডু। তিনি জানান, “আমরা ওই বিএলও-র পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলাম। জেলা স্তর থেকেও মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। আমাদের পক্ষ থেকে সবরকম চেষ্টা করা হয়েছে।
ছিনতাইয়ের পর কোনো প্রমাণ না রাখার পরিকল্পনা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত একটিমাত্র ডিজিটাল তথ্যতেই ভেঙে পড়ল দুষ্কৃতিদের সব ছক। ফোন-পে-তে টাকা মেটানোর সূত্র ধরেই সাত দিনের মাথায় গ্রেফতার করা হলো পাঁচ ছিনতাইকারীকে।
গত ৬ জানুয়ারি জাম্বনীর চুটিয়া এলাকায় সিএসপি-র জন্য জাম্বনী থেকে ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন সুব্রত সিংহ। ঘন জঙ্গল রাস্তার মধ্যে ঝাড়খন্ড থেকে অ্যাপাচি বাইকে আসা তিন দুষ্কৃতি তাঁকে আটকায়। বন্দুকের বাট দিয়ে মাথায় আঘাত করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। পরে জঙ্গল পথ ধরে চন্দ্রি হয়ে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ব্যবহার করে ঝাড়খন্ডে পালানোর রাস্তাও দেখিয়ে দেয় স্থানীয় বাসিন্দা শম্ভু পাল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছিনতাইয়ের পর ঝাড়খন্ডের বড়শোল থানার এলাকায় একটি দোকানে খাওয়া-দাওয়া করে দুষ্কৃতিরা। সেখানেই প্রথমবার ফোন অন করে ফোন-পে-র মাধ্যমে টাকা মেটানো হয়। আর এতেই পুলিশের হাতে প্রথম বড় তথ্য চলে আসে। তদন্তে উঠে আসে, গোটা ঘটনার মূল মাথা হল ব্যাঙ্কের লোন এজেন্ট শুভজিৎ সরকার, যিনি একজন বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রিধারী। ভিকটিমকে চেনানোর দায়িত্বে ছিল জাম্বনী থানার মুড়াকাটি এলাকার বাসিন্দা শম্ভু পাল। অপারেশনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল ঝাড়খন্ডের যদুগোড়ার বাসিন্দা সুনিল কৈবত্য, মোহন কিস্কু এবং বাড়মা মাইনস এলাকার রোহিত কুমার শর্মা।
এই সূত্র ধরেই ঝাড়খন্ড যাওয়ার রাস্তায় প্রায় ৩০টি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। শেষমেশ গতকাল রাতে ঝাড়গ্রাম, জাম্বনী ও ঝাড়খন্ডে একযোগে তিনটি আলাদা দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। গোটা অভিযানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন ঝাড়গ্রামের এসডিপিও শামিম বিশ্বাস ও জাম্বনী থানার আইসি। আজ ধৃতদের আদালতে তোলা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র সহ পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], কৃষ্ণনগর, নদীয়া, ১৩/০১/২০২৬ : অভয়ার স্মৃতিতে হাসপাতালের জন্য জমি দানের সিদ্ধান্ত নদিয়ায় বর্ষীয়ান নেতার
কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে নির্যাতিত ও নিহত চিকিৎসকের স্মৃতিতে হাসপাতাল করার জন্য নদীয়ার কৃষ্ণনগরের ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে জমি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন তাঁর বাবা-মা। নদিয়ার সদর শহরের সন্নিকটে, মায়াকোল এলাকায় ওই জমিতে একটি অর্ধনির্মিত বাড়ি তাঁদের বিনামূল্যে দেবার জন্য আগ্রহী হয়েছেন কৃষ্ণনগরের প্রবীণ পুরপ্রতিনিধি অসিত সাহা।
জমি দেখতে গিয়ে নিহত চিকিৎসকের মা বলেন, “আমার মেয়ে মানুষের সেবা করতে চেয়েছিল। তার কাছে ছিল মানব সেবাই আসল ধর্ম । সেই মানব সেবা করার সুযোগ ওকে যারা দিল না, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে। সেই সঙ্গে তিনি জানান মেয়ের জনসেবার ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতেই তারা অভয়ার নামে হাসপাতাল করার এই উদ্যোগ নিয়েছেন।” চিকিৎসকের বাবা অশ্রুকন্ঠে বলেন, “দেশ-বিদেশের বহু মানুষ আমাদের পাশে থাকতে চেয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন। আমরা আজ পর্যন্ত কারও কাছ সে অর্থে কোনও সাহায্য নিইনি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার মানুষের সাহায্যেই নদীয়ার পূর্ণভূমিতে অভয়ার নামে হাসপাতাল গড়ে তুলব।”
হাসপাতাল তৈরি করতে গেলে যে জমির প্রয়োজন সেই জমি খোঁজার ব্যাপারে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের বাসিন্দা কৃষি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও সমাজকর্মী স্বপন ভৌমিক। স্বপন বাবু বলেন “আগে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে, পাশাপাশি কৃষ্ণগঞ্জের মতো কিছু জায়গায় জমি দেখা হয়েছিল হাসপাতাল তৈরি করার জন্য । কিন্তু নানা কারণে সেগুলো নির্বাচিত হয়নি। স্বপন বাবুর কথায় কিছু দিন আগে, অসিতবাবুর কাছে আর্জি জানাই।”
কৃষ্ণনগরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল পুরপ্রতিনিধি অসিত সাহা বলেন, অভয়ার নামে যদি হাসপাতাল করা হয়, এ ধরনের সমাজসেবা মূলক কাজের জন্য তিনি নিঃশর্তে জমি ও অর্ধনির্মিত বাড়ি দান করতে চান ।
তিনি বলেন, “ওখানে মোট সাত শতক জমি এবং একটি অর্ধনির্মিত তিনতলা বাড়ি হাসপাতাল তৈরির জন্য ওঁদের দিচ্ছি।” চিকিৎসকের বাবা-মা জানান, “সাত জনের একটি ‘ট্রাস্টি বোর্ড’ হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি তত্ত্বাবধান করবে এবং পরে তা পরিচালনা করবে। তাঁরা দু’জন ছাড়াও, তাঁদের এক নিকটাত্মীয়, স্বপন ভৌমিক, অসিত সাহা ও তাঁর পরিবারের দু’জন সেই বোর্ডে থাকছেন। ‘ট্রাস্টি বোর্ড’ গড়ার প্রাথমিক কাজও এ দিন শুরু হয়েছে।” বলা যেতেই পারে, নদীয়ার পুণ্য ভূমিতে অভয়ার নামে হাসপাতাল তৈরি এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা ।
কলকাতায় ফিরে যাওয়ার আগে চিকিৎসক অভয়ার বাবা-মা কৃষ্ণনগর আইএমএ ভবনে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সাহায্য প্রার্থনা করেন। আইএমএ কৃষ্ণনগর শাখার সহ-সভাপতি অনির্বাণ জানা বলেন, “আমরা আর জি কর আন্দোলনের গোড়া থেকেই পথে নেমেছি। ‘অভয়া ক্লিনিক’ নামে বিনামূল্যে একটি সাপ্তাহিক চিকিৎসা কেন্দ্রও চালাচ্ছি। তাঁর স্মৃতিতে যদি হাসপাতাল হয়, আমাদের অনেক চিকিৎসকই সাহায্যেরহাত বাড়িয়ে দেবেন।”
আজ খবর (বাংলা) [রাজনীতি], মোথাবাড়ি , মালদা, ১৩/০১/২০২৬ : নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। রাজ্যের অন্যান্য জায়গার মত মালদার মোথাবাড়িও উত্তপ্ত। এখানে তৃণমূল নেত্রী তথা বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছে বিজেপি।
মোথাবাড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে মোথাবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোেগ দায়ের। অভিযোগ দায়ের করল কালিয়াচক-২নং ব্লকের বিজেপি নেতৃত্ব। উল্লেখ্য, গত ১০ ই জানুয়ারি ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের উদ্যোগে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় মালদার মোথা বাড়িতে।
সেদিন সেই মিছিলে দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং এই রাজ্যের বিরোধী দলনেতার কুশ পুতুল দাহ করেন মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন এবং তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই সঙ্গে ধর্মীয় বিভাজনের বক্তব্য রাখেন তৃণমূল নেতৃত্ব। এর প্রতিবাদে মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বিজেপি।