আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], ইসলামপুর, উত্তর দিনাজপুর, ১০/০৪/২০২৬ : তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একটি তথাকথিত ‘স্টিং ভিডিও’ প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই তাতে নিজের নাম জড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।
তিনি দাবি করেছেন, এই ভিডিও সম্পূর্ণভাবে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই এটি ছড়ানো হয়েছে। হুমায়ুন কবির স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই ইস্যুতে আইনি পথে হাঁটবেন এবং হাইকোর্টে গিয়ে এর উপযুক্ত জবাব দেবেন।
এদিকে, ভিডিওটি ঘিরে শাসকদল ও বিরোধীদের মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টা বাক্যবাণ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। ভিডিওটিতে হুমায়ুন কবিরকে একটি ১০০০ কোটি টাকার চুক্তিকরেছেন বলতে শোনা গিয়েছে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে নি আজ খবর. হুমায়ুন কবির বলেছেন “এআই দিয়ে ঐ ভিডিও বানানো হয়েছে।” তবে এই ভিডিও ভাইরাল হাওয়ায় ভোটের ময়দানে বেশ বেকায়দায় হুমায়ুন কবির। এমনকি তাঁর সঙ্গে জোট বেঁধে থাকা এআইএমআইএম নেতা আসাউদ্দিন ওবেয়সি তাঁর সাথে জোট ভেঙে বেরিয়ে গিয়েছেন। এখন ভোটে একলাই লড়তে হতে পারে হুমায়ূনকে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনও বিস্তারিত তদন্ত বা সরকারি প্রতিক্রিয়া সামনে না এলেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ১০/০৪/২০২৬ : কলকাতায় এসে বিজেপির সংকল্প পত্র প্রকাশ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী .অমিত শাহ। এই সংকল্প পত্রে ছত্রে ছত্রে রাজ্যের উন্নতিকল্পে যে পদক্ষেপগুলি বিজেপি ভোটে জিতে সরকার গঠন করলে গ্রহণ করবে, সেগুলির কথা বলা হয়েছে।
অমিত শাহ নিউ টাউনের একটি হোটেলে সাংবাদিকদের বলেন, “বিজেপির ইশতেহার বাংলাকে তার হারিয়ে যাওয়া গর্ব ফিরিয়ে দেবে। আমরা সোনার বাংলা তৈরী করবো। বাংলা তার হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতি ফিরে পাবে।” বিজেপির ইশতেহারে নারীর ক্ষমতায়ন এবং সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই সংকল্প পত্রে মহিলাদের সশক্তিকরণের কথা বলা হয়েছে। আগামীদিনে ভোটে মহিলাদের জন্যে এক তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। বিজেপি সরকার গড়লে মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না। বিনামূল্যে তাঁরা ভ্রমণ করতে পারবেন। এছাড়াও প্রতি মাসে মহিলারা পাবেন ৩০০০ টাকা করে। মহিলাদের সরকারি চাকরিতেও ৩৩ % সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। বেকার যুবাদের মাসিক ১০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অমিত শাহ এদিন বলেছেন, “এই ইশতেহার রাজ্যের সমাজের সব অংশের মানুষের মন থেকে হতাশা দূর করবে। তাদেরকে আশার আলো দেখাবে। মানুষের মন থেকে ভয় দূর হবে। কৃষকদের জন্যে নতুন পথের দিশা দেখানো হবে।.”
রাজ্যে চারটি নতুন উপনগরী গড়ে তোলা হবে। উত্তরবঙ্গকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গে আরও কম সময়ে পৌঁছানো যাবে। সিঙ্গুরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশীপ তৈরী করা হবে। পর্যটনে জোর দেওয়া হবে। চা শিল্পে গুরুত্ব দেওয়া হবে। উত্তরবঙ্গে এইমস, আইআইটি ও আইআইএম তৈরি করা হবে। মৎস্য চাষে উৎসাহ দেওয়া হবে। বেকারদের ট্রেনিং দিয়ে ব্যবসার জন্যে ঋণ দেওয়া হবে। গরু পাচার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। অন্য কর্মসংস্থানের ওপর জোর দেওয়া হবে. মাছ মাংস খাওয়ার ওপর কোনো রকম নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না।”
বিজেপি সরকার গড়লে অষ্টম তফসিলে কুর্মালি ভাষা এবং রাজবংশী ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। আলু, ধান ও আমের বর্ধিত মূল্য প্রদানের জন্যে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গবাদী পশু পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রনয়ন করা হবে। সরকারি কর্মচারীদের নিয়মিত ডিএ দেওয়া হবে। তাঁদের মন থেকেও শঙ্কা ও ভয় দূর করা হবে। তৈরি করা হবে বন্দেমাতরম মিউজিয়াম। থিয়েটার শিল্পের প্রসার ঘটানো হবে। ধর্মীয় অনুশীলনের স্বাধীনতা বজায় রাখতে একটি নতুন আইন নিয়ে আসবে বিজেপি।
সুবিচার না পেয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন মেয়ের মা : স্মৃতি
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি] পানিহাটি, উত্তর ২৪ পরগণা , ১০/০৪/২০২৬ : “পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথকে ক্রমাগত অপমান করে চলেছে তৃণমূলের গুন্ডারা”, এই অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি।
শুক্রবার স্মৃতি বলেন, “পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ এক জঘন্য অপরাধের ঘটনায় নিজের একমাত্র মেয়েকে চিরতরে হারিয়েছেন। এর পরেও তৃণমূলের গুন্ডারা তাঁকে শুধু হয়রান করছে তা নয়, রীতিমত অসম্মান করে চলেছে। আর জি কর হাসপাতাল কাণ্ডে মেয়ে হারানো ঐ মা কোনো জায়গা থেকে যখন সুবিচার পান নি, তখন তিনি নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। এটাই তাঁর অপরাধ ? এই কারণে তাঁকে অপমানিত হতে হবে ?”
পানিহাটি থেকে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঐ এলাকার পাঁচবারের বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ। প্রয়াত মেয়ের সুবিচার চেয়ে রাজনীতিকে সঙ্গে করে পথে বেরিয়ে পড়েছেন রত্না দেবনাথ। গোটা এলাকায় হারে ঘুরে প্রচার করছেন তিনি। বিজেপি প্রার্থী রত্না চাইছেন তাঁর মেয়েকে যারা হত্যা করল তারা যেন শাস্তি পায়। আজ তাই তিনি নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে চলেছেন, বিজেপির প্রার্থী হয়ে।
আজ বিজেপি প্রার্থী হিসাবে পানিহাটি থেকে নিজের মনোনয়ন পেশ করলেন আর জি কর কাণ্ডে প্রয়াত ডাক্তার পড়ুয়া অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। চোখে মুখে তাঁর শুধুমাত্র একটাই স্বপ্ন, তাঁর মেয়েকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তারা যেন শাস্তি পায়। সুবিচার তিনি পাবেনই, এই ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। আজ তাঁর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় পাশে ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেত্রী স্মৃতি ইরানী এবং বিপ্লব দেব। দুই নেতাই আজ বাংলায় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
চলন্ত গাড়ি থেকে নেমে বিধানসভা চত্বরে ফুলের তোড়া রাখলো কে ?
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], নতুন দিল্লী, ভারত, ০৬/০৩/২০২৬ : দিল্লী বিধানসভা চত্বরের গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে এক ব্যক্তি ফুলের তোড়া রেখে দিয়ে চলে গেলো। এই ঘটনা নিয়ে হৈচৈ পড়ে গিয়েছে দিল্লী বিধানসভায়।
সোমবার দিল্লী বিধানসভার একটি লোহার গেট ভেঙে দ্রুতগতিতে ছুটে আসে একটি গাড়ি। ঐ গেটে কর্তব্যরত সিআরপিএফ জওয়ানরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়িটি লোহার গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে যায়। কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে ঐ গাড়ি থেকে এক ব্যক্তি নেমে বিধানসভা চত্বরে একটি ফুলের তোড়া রেখে দ্রুত চম্পট দেয়।
দিল্লী পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর প্রদেশের নম্বর প্লেটওলা একটি সাদা রঙের গাড়ি দিল্লী বিধানসভার গেটে আসে। কেউ কিছু বোঝার আগেই লোহার গেট ভেঙে ঐ গাড়িটি ভিতরে ঢুকে যায়।গাড়িটিকে আটকানোর জন্যে সিআরপিএফ জওয়ানরা এগিয়ে গেলে এক ব্যক্তি সাদা গাড়ি থেকে নেমে বিধানসভা চত্বরে একটি ফুলের তোড়া রেখে গাড়িতে উঠে দ্রুত পালিয়ে যায়।
সিআরপিএফ জওয়ানরা সাদা রঙের ঐ গাড়িটিকে ধরতে পারেন নি। গাড়িটির খোঁজে দিল্লীর তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিধানসভা চত্বরে কিভাবে সমস্ত প্রটোকল ভেঙে একটি গাড়ি ভিতের ঢুকে পড়ে কোনো কিছু রেখে পালিয়ে যেতে পারে, সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ফুলের তোড়া পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, তাতে বোমা ছিল না। তবে বোমা বা অন্য কিছু থাকতেই পারতো ! এর পিছনে কাদের হাত রয়েছে সেটা খুঁজে দেখছে পুলিশ।
ভবানীপুরে অমিত শাহের শোভাযাত্রা এবং জনসভা নিয়ে বলতে গিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি বিহার ও উত্তরপ্ৰদেশ থেকে অর্থের বদলে সমর্থক নিয়ে এসে এখানে ভীড় বাড়াচ্ছে। এই সমর্থকেরা বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কথা জানে না. তারা এখানে এসে সাধারণ মানুষের সাথে নিকৃষ্ট আচরণ করছে। ওদের এই আচরণ বরদাস্ত করবে না বাংলার মানুষ।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এ রাজ্যে বিজেপির সেভাবে কোনো সংগঠন নেই. তাই বিহার ইউপি থেকে লোক নিয়ে এসে এখানে ভীড় বাড়াতে চাইছে। এরা সকলেই পেইড সমর্থক। এরা সেদিন ভবানীপুর ও কালীঘাটের রাস্তায় নোংরামি করেছে। পোস্টারে থুতু দিয়েছে, পতাকা ছিঁড়ে দিয়েছে। কালীঘাটের মন্দিরের দিকে ওরা জুতো দেখিয়েছে। ওদের এই নোংরামি বাংলার মানুষ বরদাস্ত করবে না। ”
মমতা বলেন, “এই হল ওদের পরিবর্তন। যারা বাংলার মহিলাদের সন্মান দিতে জানে না. যারা বাংলার সংস্কৃতি ঐতিহ্য জানে না, তারা ভোট চাইতে আসছে।”
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ০২/০৩/২০২৬ : দক্ষিণ কলকাতার হাজরা অঞ্চলে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে একটি জনসভায় উপস্থিত ছিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ. হাজরা থেকে কালীঘাট অঞ্চল দিয়ে তিনি আজ একটি রোড শো করেন এবং তারপর শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে মনোনয়ন পেশ করাতে নিয়ে যান। ।
হাজরার জনসভা থেকে অমিত শাহ বলেন, “এবার নন্দীগ্রামের সাথে ভবানীপুরেও জিতবেন শুভেন্দু অধিকারী।” তৃণমূলকে বঙ্গোপসাগরে ছুঁড়ে ফেলার ডাক দিয়ে তিনি বলেন “এবার ভোটের সময় টানা ১৫ দিন বাংলায় থাকবো। বেছে বেছে অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠা হবেই। শুভেন্দু অধিকারী শুধু নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমরাই তাঁকে বলেছি মমতা ব্যানার্জিকে হারাতে হবে, তাই উনি ভবানীপুর থেকেও দাঁড়িয়েছেন। আগের বার নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী মমতা ব্যানার্জিকে ভোটে হারিয়ে দিয়েছিলেন। এবারেও হারাবেন ভবানীপুর থেকে।”
আজ অমিত শাহকে সঙ্গে নিয়ে নিজের মনোনয়ন পেশ করতে যান শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সেই উপলক্ষে একটি রোড শো করা হয়। সেই রোড শো’য়ে হাজার হাজার বিজেপি কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। সেই রোড শো যখন কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিল, সেই সময় তাঁদেরকে দেখে তৃণমূল সমর্থকেরা মাথায় কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ দেখতে থাকেন। গোটা এলাকা স্লোগান আর পাল্টা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। দুই পক্ষই চোর চোর বলে চিৎকার করতে থাকে। বিশালপুলিশ বাহিনী দুই পক্ষকেই সামলাতে চেষ্টা করে। এর মধ্যেই অমিত শাহ, শুভেন্দু অধিকারীরা রোড শো থেকে বেরিয়ে নিজেদের গাড়িতে উঠে মনোনয়ন জমা দিতে চলে যান। ধ্বস্তাধস্তি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় এক বিজেপি কর্মী জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য], কালিয়াচক, মালদা, ০২/০৩/২০২৬ : গতকাল কালিয়াচকের ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ দেশের শীর্ষ আদালত। গোটা ঘটনার তদন্ত সিবিআই অথবা এনআইএর হাতে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল।
গতকাল কালিয়াচকে বিচারপতিদের ঘেরাও এবং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে যে গন্ডগোল শুরু হয়েছিল তা আজও জারি রয়েছে। গতকাল মধ্যরাত্রে বিচারপতিদের উদ্ধার করা গেলেও গতকালের মত আজও জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে। এসআইআর করে রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদেই এই অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মালদার কালিয়াচকের কাছে মোথাবাড়ি বিডিও অফিসে ৭ বিচারপতিকে আটক করে রেখে দেওয়া হয়েছিল ঘন্টার পর ঘন্টা। তাঁদের জলপান পর্যন্ত করতে দেওয়া হয় নি। সাত জনের মধ্যে ছিলেন তিন মহিলা বিচারপতিও।
শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ গিয়ে কোনোমতে বিচারপতিদের উদ্ধার করে সরিয়ে নিয়ে গেলেও জাতীয় সড়ক অবরোধ সরানো যায় নি। জাতীয় সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে পড়ে হাজার হাজার গাড়ি। উত্তরবঙ্গের সাথে সড়কপথে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আজ এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে সুপ্রীম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত বলে, “পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রীতিমত ভেঙে পড়েছে। বলতে খুব খারাপ লাগছে যে এই রাজ্য এমন একটি জায়গা, যেখানে সবকিছুই রাজনীতির মাধ্যমে সাধিত হয়। এখানে সবকিছুর মেরুকরণ হয়েছে রাজনীতি দিয়ে। কালিয়াচকের ঘটনায় মালদার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিআইজিকে শোকজ করা হয়েছে। শো কোজ করা হয়েছে পুলিশ সুপারকেও।
গোটা ঘটনার তদন্ত এনআইএ অথবা সিবিআইকে দিয়ে করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। অবিলম্বে জাতীয় সড়ক অবরোধ মুক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে শুধু কালিয়াচক নয়, অবরোধ চলছে ইংরেজবাজার এবং নারায়ণপুরেও। গোটা ঘটনার জন্যে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার বিজেপির তরফ থেকেও দায় চাপানো হয়েছে তৃণমূলের ঘাড়ে। ভোট এসে গিয়েছে,, এই ধরনের অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী থাকলো গোটা রাজ্য। সাক্ষী থাকল রাজনৈতিক চাপান উতোরের।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কালিয়াচক, মালদা, ০২/০৩/২০২৬ : এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় খবর আসছে মালদার কালিয়াচক থেকে। এখানে হাজার হাজার মানুষ জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে অগণিত মানুষ জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রাখে।
কালিয়াচকের মোথাবাড়ি বিডিও অফিসে গতকাল এসআইআর-এর কাজ হচ্ছিল। সেই সময় বেশ কিছু মানুষের নাম বাদ যাওয়ায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন মহিলারা। এরপর বিক্ষোভ স্থলে এসে পৌঁছান তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতেই জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়. কিন্তু বিক্ষুব্ধরা ভিডিও অফিস ঘেরাও করে রাখায় ঐ অফিসের মধ্যে আটকে পড়েন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা। তাঁদেরকে ভিতরে আটকে রাখা হয়।
টানা ১৬ ঘন্টা ধরে টায়ার জ্বালিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়েছে। বিচারপতিদের আটকে রাখা হয়েছে। অভিযোগের তীর তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। ঘটনাস্থলে রয়েছে প্রচুর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। তবু পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয় নি।
রাত্রি সাড়ে বারোটা নাগাদ এই প্রতিবেদন লেখার সময় সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ৭ জন বিচারককে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে উদ্ধার করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র প্রায়ই বেলাগাম হয়ে যান এবং নানারকম মন্তব্য করেন। ভোটের আগে তাঁর একটি মন্তব্য নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে। তিনি বলেছেন, “দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যেখানে বাঙালিরা সর্বোচ্য অবদান রেখেছেন, সেখানে স্বাধীনতা সংগ্রামে কোনো গুজরাতিদের অবদান কোথায় ? কালাপানির তালিকায় গুজরাটিরা আছেন কি ? ” মহুয়ার এই মন্তব্যের জেরে রীতিমত ব্যাকফুটে তৃণমূল নেতৃত্ব।
কলকাতার ভবানীপুর আসনে লড়াই করছেন দলের সুপ্রীমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঐ আসনেই তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে লড়াই করছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সকলের নজর রয়েছে এই আসনে। ভবানীপুর আসনে ৭০ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে গুজরাতিদের সংখ্যা প্রায় ৪০% সুতরাং মহুয়ার মন্তব্যে প্রবল অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস।
গুজরাতিরা যাতে অসম্মানিত না হন, তার জন্যে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে তৃণমূল। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম বসু গতকাল রাতে ফেসবুক লাইভ করে বার্তা দিয়েছেন যে মহুয়ার বক্তব্য তাঁর একান্ত ও ব্যক্তিগত বক্তব্য। এই বক্তব্য তৃণমূলের নয়. দলের সর্বোচ্য নেত্রী এই বক্তব্যকে কনডেম করছেন এবং গুজরাতিদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছেন।
অসীম বসু বলেছেন, “কৃষ্ণনগরের সংসদ গুজরাতিদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তা অনভিপ্রেত। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অনেক গুজরাটি নাম পাওয়া যায়. মহাত্মা গান্ধী নিজেই গুজরাটি ছিলেন, দেশের আয়রন ম্যান নামে খ্যাত সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল ছিলেন গুজরাটি।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গুজরাটি। দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও একজন গুজরাটি।
কলকাতার চৌরঙ্গী কেন্দ্রে বিজেপির হয়ে লড়াই করবেন সন্তোষ পাঠক। এই প্রার্থী এতদিন কংগ্রেসের হয়ে লড়াই করেছেন, এবার হাত চিহ্ন ছেড়ে যোগ দিলেন পদ্ম শিবিরে। সন্তোষ পাঠক বলেন, “এ বার বহু কংগ্রেস কর্মী বিজেপিকে ভোট দেবেন।” রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সন্তোষ পাঠকের হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দিয়েছেন।
আজ প্রখ্যাত টেনিস খেলোয়াড় লিয়েন্ডার পেজ তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। টেনিস খেলোয়াড় পেজ ২০২১ সালে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। কিন্তু আজ তিনি মোদীর নেতৃত্বকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়ে বিজেপিতে যোগদান করলেন। তাঁর হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজু।
ময়নাগুড়িতে প্রার্থী বদল করছে পদ্ম শিবির। সেখানে কৌশিক রায়ের বদলে বিজেপির প্রার্থী হলেন ডালিম রায়। ময়নাগুড়ি আসনে তিনি লড়াই করবেন বিজেপির হয়ে। বাগদা কেন্দ্রে বিজেপির হয়ে প্রাথী হয়েছেন সোমা ঠাকুর। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী। বাগদা আসনে সোমার বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন ঠাকুরবাড়ির সদস্য মধুপর্ণা ঠাকুর।
এদিকে আজ কলকাতায় সিইও দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। ফর্ম ৬ নিয়ে বিভ্রান্তি শুরু করতে চাইছে তৃণমূল এই অভিযোগে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন বিজেপি নেতা কর্মীরা সিইও দপ্তরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধিকারী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হুমকি দিচ্ছেন, বিজেপি কর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন, সেই সম্বলিত দুটি নির্বাচন কমিশনকে জমা দিয়েছি। কেন মমতা বান্দ্যেপাধ্যায়কে সতর্ক করা হচ্ছে না ? কেন তাঁকে প্রচারে সাসপেন্ড করা হচ্ছে না ? এর আগে তো রাহুল সিনহা এবং প্রাক্তন বিচারপতি গাঙ্গুলিকে প্রচারে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।” ময়নাগুড়ি, নকশালবাড়ি ও পাণ্ডবেশ্বরে মমতা যে ভাষণ দিয়েছিলেন তার ভিডিও ফুটেজগুলি নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে বিজেপি।
আজ কোচবিহারে বিজেপির প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কোচবিহার দক্ষিণ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। আজ ভোটের প্রচার চলাকালীন তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং সেই হামলা চালিয়েছে তৃণমূলের গুন্ডারা, এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি অভিযোগ করেছে যে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের গাড়ির কাঁচ ভেঙে দিয়েছে।