
আজ খবর (রাজ্য) হলদিয়া ১৫/১০/২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিল হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের (HPL) অধীনস্থ নতুন ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্র। বুধবার, ১৪ অক্টোবর হলদিয়ায় প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি এই বৃহৎ শিল্পপ্রকল্পের উদ্বোধন হয়। নতুন এই কারখানাকে কেন্দ্র করে রাসায়নিক শিল্পের প্রসার, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

হলদিয়া দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। পেট্রোকেমিক্যালস, বন্দর এবং বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পের উপস্থিতির কারণে রাজ্যের অর্থনীতিতে এই শিল্পশহরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই হলদিয়াতেই নতুন ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্রের সূচনা শিল্পক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই প্রকল্পটি HPL-এর সহযোগী সংস্থা অ্যাডপারমা প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি এই উৎপাদন কেন্দ্র দেশের রাসায়নিক উৎপাদন পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে এগোবে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন কারখানায় বছরে প্রায় ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার টন ফেনল এবং ২ লক্ষ ১৫ হাজার টন অ্যাসিটোন উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এই উৎপাদন ক্ষমতা দেশের রাসায়নিক শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ফেনল ও অ্যাসিটোন বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উপাদান। প্লাস্টিক, রেজিন, ওষুধশিল্প এবং অন্যান্য রাসায়নিক পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে এই দুই উপাদানের চাহিদা রয়েছে। ফলে দেশীয় উৎপাদন বাড়লে সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলির কাঁচামাল সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতে ফেনল ও অ্যাসিটোনের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এতদিন আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়েছে। নতুন উৎপাদন কেন্দ্র চালু হওয়ায় দেশীয় বাজারে এই দুই রাসায়নিকের সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আমদানি নির্ভরতা কমানো গেলে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহে বিঘ্ন এবং পরিবহণ সংক্রান্ত সমস্যার প্রভাব সামলানো তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তবে বাস্তবে আমদানির পরিমাণ কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন, বাজারের চাহিদা এবং দেশীয় সরবরাহ ব্যবস্থার উপর।

হলদিয়ায় এই ধরনের বৃহৎ বিনিয়োগ রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামোর গুরুত্ব আরও বাড়াতে পারে। নতুন উৎপাদন কেন্দ্রকে ঘিরে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবহণ, রক্ষণাবেক্ষণ, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সহায়ক পরিষেবার ক্ষেত্রেও সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে কতজনের কর্মসংস্থান হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশিত না হওয়ায় এখনই কোনও সংখ্যা বলা সম্ভব নয়। প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বোঝার জন্য উৎপাদন শুরু হওয়ার পর কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের বিকাশের দিকে নজর রাখতে হবে।

প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিল্পনীতি, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং পশ্চিমবঙ্গকে শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রসঙ্গ উঠে আসে।এই প্রকল্পকে দেশের রাসায়নিক উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলে পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং নতুন বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও প্রসারিত হতে পারে।

হলদিয়ার এই মেগা প্রকল্পের উদ্বোধনকে ঘিরে সাংসদ জুন মালিয়ার বক্তব্য জানতে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর নির্দিষ্ট মন্তব্যের ভিডিও, সাক্ষাৎকার বা নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই তাঁর নামে কোনও বক্তব্য উদ্ধৃত করা হচ্ছে না। জুন মালিয়ার বক্তব্যের ভিডিও বা সংশ্লিষ্ট সংবাদসূত্র পাওয়া গেলে তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়গুলি যুক্ত করে প্রতিবেদনটি আরও নির্দিষ্টভাবে আপডেট করা যাবে।

সব মিলিয়ে, হলদিয়ায় ৬,০০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পরিকাঠামো এবং দেশের রাসায়নিক উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। আগামী দিনে এই কারখানা কতটা উৎপাদন বাড়াতে পারে এবং শিল্পাঞ্চলের অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।






