ভারতের ঐক্য ও রাষ্ট্রচেতনা নিয়ে রাজ্যপাল আর এন রবির বক্তব্য

আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য] লোকভবন, পশ্চিমবঙ্গ ১৮/০৯/২০২৬: “রাষ্ট্রের ধারণার অন্যতম ভিত্তি পরিবার। ভারতের রাষ্ট্রভাব মূলত পরিবারবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত।” কলকাতায় আয়োজিত ১৬তম অধ্যাপক সুকুমার ভট্টাচার্য স্মারক বক্তৃতায় এমনই মন্তব্য করলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি। ১৬ সেপ্টেম্বর কলকাতার দ্য ললিত গ্রেট ইস্টার্ন-এ Association of Corporate Advisers & Executives (ACAE)-এর উদ্যোগে আয়োজিত হয় 16th Professor Sukumar Bhattacharya Memorial Lecture।

বক্তব্যে রাজ্যপাল বলেন, “রাষ্ট্রবোধ আসলে পরিবারবোধ।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতবর্ষের রাষ্ট্রচেতনার ভিত্তি রয়েছে এই পরিবারবোধের মধ্যে। তাঁর দাবি, ১৯৫০ সালে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পরবর্তী সময়ে ভারতীয় রাষ্ট্রচেতনা সম্পর্কে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে পরিচিতি কিছুটা দুর্বল হয়েছে। ভারতের প্রাচীনত্বের প্রসঙ্গ তুলে রবি বলেন, ভারতবর্ষের অস্তিত্বের ইতিহাস পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত বলে তিনি মনে করেন। তাঁর বক্তব্যে ঋগ্বেদের সময়কাল থেকে ভারতের অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি তিনি বলেন, ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর যে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার বয়স এখনও একশো বছর পূর্ণ হয়নি।

রাজ্যপালের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ভারতের বৈচিত্র্য নিয়ে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—ভারতবর্ষকে এত দীর্ঘ সময় ধরে একসূত্রে কী বেঁধে রেখেছিল? তাঁর কথায়, বিশ্বের অন্য কোনও দেশের সঙ্গে তুলনা করলে ভারতের বৈচিত্র্যের পরিসর অত্যন্ত বিস্তৃত। ভাষা, খাদ্যাভ্যাস, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ভারত একসঙ্গে থেকেছে।

রবি আরও বলেন, ইতিহাসের কোনও একটি সময়ে সমগ্র ভারতবর্ষকে একজন নির্দিষ্ট রাজা শাসন করেননি। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞায় একটি রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সেই ভূখণ্ডে বসবাসকারী জনসংখ্যা, সেই জনসংখ্যাকে পরিচালনাকারী সরকার এবং সরকারের সার্বভৌমত্ব—এই বৈশিষ্ট্যগুলির কথা বলা হয়। তাঁর বক্তব্য, সেই আধুনিক রাজনৈতিক রাষ্ট্রের সংজ্ঞা দিয়ে প্রাচীন ভারতকে বিচার করলে বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা করা যায় না। কারণ, তাঁর মতে, একক রাজনৈতিক সরকারের অধীনে না থেকেও ভারতবর্ষ একটি ঐক্যবদ্ধ সভ্যতা ও রাষ্ট্রচেতনার ধারণা বহন করেছে। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—ভারতের ঐক্যকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাখ্যা না করে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক বন্ধনের দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা প্রয়োজন।




