দলত্যাগ বিরোধী আইনে ১০ বিধায়ককে নোটিশ, নজরে পরবর্তী পদক্ষেপ

আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য] রাজনীতি , পশ্চিমবঙ্গ ১৬/০৯/২০২৬: পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের মধ্যে চলা রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েন এবার বিধানসভার প্রক্রিয়াতেও পৌঁছল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের ১০ জন বিধায়ককে নোটিশ পাঠিয়েছে বিধানসভা সচিবালয়। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা সদস্যপদ খারিজের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই নোটিশ বলে জানা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়া ১০ বিধায়কের মধ্যে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান আনসারি, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান এবং রথীন ঘোষ। বিধানসভা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

কী অভিযোগ উঠেছে?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সমর্থিত তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিধায়কেরা দলীয় নির্দেশ ও দলের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজের দাবি জানানো হয়েছে। গত ৭ জুলাই প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিধানসভার স্পিকারের কাছে এই ১০ বিধায়কের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আবেদন করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন করা হয়। সেখানে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় ওই বিধায়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ফলে একই বিষয় এখন বিধানসভা এবং আদালত—দুই ক্ষেত্রেই আলোচনার কেন্দ্রে।

স্পিকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও আগে থেকেই আইনি বিতর্ক রয়েছে। মমতা-সমর্থিত শিবিরের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দাবি জানানো হলেও স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই পদে স্বীকৃতি দেন। সেই সিদ্ধান্ত কলকাতা হাইকোর্টেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
আগস্টে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে আপাতত বিরোধী দলনেতার পদে বহাল থাকার অনুমতি দিয়েছিল। একই সঙ্গে তাঁর নিয়োগ সংক্রান্ত মূল মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।

উপনির্বাচনের আগে নতুন চাপ
এই নোটিশের সময়কালও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন সামনে। ঋতব্রত-সমর্থিত শিবির ইতিমধ্যেই ওই দুই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নন্দীগ্রামে মহম্মদ এতেসামূল হক এবং রেজিনগরে সফিউজ্জামান শেখকে প্রার্থী করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের নাম ও দলীয় প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছেও রয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

কী হবে এবার?
এখন মূল নজর সাত দিনের মধ্যে ১০ বিধায়ক কী জবাব দেন এবং সেই জবাবের ভিত্তিতে বিধানসভার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তার দিকে। ঋতব্রত-সমর্থিত শিবিরের পক্ষ থেকে এই নোটিশকে রুটিন প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন বিধানসভা, আদালত এবং নির্বাচন কমিশন—তিন ক্ষেত্রের developments-ই রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।




