
আজ খবর (বাংলা) রাজনীতি ,পশ্চিমবঙ্গ ০৬/০৯/২০২৬: ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের দফতরের সামনে অশান্তির ঘটনায় এ বার প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করল কলকাতা পুলিশ। শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ রবিবার সকালে কসবার বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে সমনের নোটিস পৌঁছে দেয়। সেই সময় বাড়িতেই ছিলেন হুমায়ুন। পুলিশ তাঁর গাড়ির চালকের হাতে নোটিসটি দেয় এবং পরে হুমায়ুন তাতে সই করে পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হুমায়ুনকে। ওই দিন তাঁকে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে নোটিসে সই করার পর হুমায়ুন তাঁর গাড়ির চালকের মাধ্যমে পুলিশকে জানান, বুধবারের পরিবর্তে তিনি সোমবারই থানায় হাজির হতে চান। তাঁর তরফে দুপুর দেড়টার সময় থানায় যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এর আগে ক্যামাক স্ট্রিটের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হুমায়ুনের বাড়িতে দু’বার গিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু সেই সময় বাড়িতে না থাকায় তাঁর হাতে নোটিস তুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি। রবিবার সকালে ফের কসবার বাড়িতে যায় শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। গত ২৭ অগস্টের ঘটনা নিয়ে হুমায়ুন কবীর পুরসভা ও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, অফিসের বাইরে থাকা বিলবোর্ড ভাঙতে এসে পুরসভার আধিকারিক ও পুলিশ কোনও নিয়ম মানেননি এবং আগে কোনও নোটিসও দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, গোটা প্রক্রিয়ার শুরুটাই বেআইনি ভাবে হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশকে ধাক্কা দেওয়ার যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে, তা অস্বীকার করেছেন তিনি।

ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বাইরে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ লেখা একটি বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করেই মূলত অশান্তির সূত্রপাত। গত ২৭ অগস্ট বিকেলে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ওই বিলবোর্ড খুলতে সেখানে যান। পুরসভার দাবি ছিল, অফিসের বাইরে বিলবোর্ডটি বেআইনি ভাবে ঝোলানো হয়েছিল। পুলিশ ও পুরকর্মীরা সেখানে পৌঁছনোর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা পুরসভার কর্মী এবং পুলিশকে কাজে বাধা দেন। তাঁদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও মারধরের অভিযোগও ওঠে। ঘটনার পর মোট তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়। প্রথম দু’টি মামলায় তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের নাম রয়েছে। পাশাপাশি নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, হুমায়ুন কবীর, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ দলের কর্মী-সমর্থকদের।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগেও মামলা করা হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। এফআইআরে নাম থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এক দফা শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরাও দিয়েছেন। এছাড়াও মামলার তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তদন্তের পরবর্তী ধাপে ফের তাঁকে এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনকে তলব করা হয়েছে। সোমবার সুমিত রায় এবং মঙ্গলবার ডেরেক ও’ব্রায়েনকে শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এ বার হুমায়ুন কবীরকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করল পুলিশ। ফলে ক্যামাক স্ট্রিটের অশান্তির ঘটনায় তদন্ত আরও কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।




