
আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য] বিরসিংহগ্রাম, মেদিনীপুর ৩০/০৯/২০২৬
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে বীরসিংহ গ্রামে দাঁড়িয়ে শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বুধবার বীরসিংহে গিয়ে বিদ্যাসাগরের বাবা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা ভগবতী দেবীর মূর্তি উদ্বোধন করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের ভুল নীতির কারণে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের শিক্ষার মানকে ফের দেশের প্রথম দশের মধ্যে নিয়ে আসাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে শিক্ষা ও সংস্কৃতি—দুই ক্ষেত্রেই একাধিক নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বীরসিংহকে ঘিরেও রয়েছে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঐতিহাসিক এই গ্রামকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সাজিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। পর্যটকদের সুবিধার জন্য একটি বড় ভবন তৈরির আশ্বাসের পাশাপাশি বীরসিংহ ও তার আশপাশের রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের নির্দেশ দেন তিনি।

বিদ্যাসাগরকে নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, গবেষকরা যাতে বীরসিংহে এসে নির্বিঘ্নে গবেষণার কাজ করতে পারেন, তার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। রাজ্যের বিভিন্ন লাইব্রেরিতেও অপ্রয়োজনীয় বই না কিনে বিদ্যাসাগরের রচনা ও সংশ্লিষ্ট বই সংগ্রহের উপর জোর দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

ঐতিহাসিক বীরসিংহ গ্রামকে পর্যটন মানচিত্রে আরও গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে এই উদ্যোগকে যুক্ত করা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বীরসিংহই বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমার একটি ঐতিহাসিক পর্যটনস্থল। আকাশপথে ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন । বীরসিংহে যাওয়ার আগে আকাশপথে ঘাটাল এলাকার বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। এখনও বিস্তীর্ণ এলাকায় জল জমে রয়েছে। জলমগ্নতার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত বলে স্থানীয় পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান তিনি।

জল ঢুকে পড়ায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার একাধিক কেন্দ্র পরিবর্তন করতে হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। বহু এলাকায় স্বাভাবিক পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সরকারি নৌকাই এখন মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা।এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে ১২০০ কোটি । মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রকল্পের অর্থের ৫০ শতাংশ কেন্দ্র এবং ৫০ শতাংশ রাজ্য সরকার দেবে। পাশাপাশি SDRF থেকেও অর্থ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

পুজোর পরেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।সরকারি নথি অনুযায়ী, ঘাটাল ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বন্যা ও জলনিকাশির সমস্যায় জর্জরিত। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে নদী খনন, বাঁধের সংস্কার ও শক্তিশালীকরণ, স্লুইস ও পাম্প হাউস নির্মাণ, রাস্তা ও সেতুর উন্নয়ন-সহ একাধিক কাজের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির জন্য ২০২২ সালে ১,২৩৮.৯৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ অনুমোদনের কথা সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক টানাপড়েন রয়েছে। প্রকল্পটি নিয়ে অতীতে সাংসদ দেব-সহ বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি উঠেছে। শিল্পে বিনিয়োগ নিয়েও বার্তা । এদিন রাজ্যে শিল্প ও বিনিয়োগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে এখন ধারাবাহিকভাবে শিল্প বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রিলায়েন্সের একটি বড় প্রতিনিধিদল মুম্বই থেকে কলকাতায় এসেছে এবং তাদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। রাজ্যে রিলায়েন্স বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

এর আগে সেপ্টেম্বরেই মুখ্যমন্ত্রী মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে রিলায়েন্সের ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে থেকে এদিনের বার্তায় একদিকে যেমন শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়ন, অন্যদিকে ঘাটালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যা সমস্যার সমাধান এবং শিল্প বিনিয়োগ—তিনটি বিষয়ই বিশেষ গুরুত্ব পেল।




