আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ০৯/০৮/২০২৬ : পাক্কা দুবছর সময় চলে গিয়েছে, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে, গঙ্গা নদী দিয়ে বিস্তর জল বয়ে গিয়েছে, তা সত্ত্বেও অভয়ার দোষীরা এখনো ধরা পড়ে নি. মাঝখানে দু দু’টো বছর কেটে গিয়েছে। আজ রবিবার সেই অভিশপ্ত দিনের দুই বছর পার। আর জি কর হাসপাতালের ঐ ঘটনায় সত্যিই বিচারের বাণী নীরবে নিবৃতে কেঁদে চলেছে।
অভয়ার ঘটনা নিয়ে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, তর্জন, গর্জন, আন্দোলন তো কম কিছুই হয় নি ! পুলিশ, সিআইডি, সিবিআই সবাই মিলেই একটা ধর্ষণ আর খুনের কিনারা করতে পারলো না ? অভয়ার খুনীদের শাস্তি চেয়ে রাতের পর রাত জেগে আন্দোলন করেছে কলকাতা। সেই আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন আট থেকে আশি সবাই, রাজ্যবাসী, দেশবাসী, গোটা পৃথিবী এবং আমাদের সমাজ। এতো কিছুর পরেও ঠান্ডা মাথায় ঘটনাস্থল থেকে প্রমান লোপাট করেছে কিছু নরপিশাচ।.
এখনও ঘরে বসে একমাত্র মেয়ের জন্যে চোখের জল ফেলে চলেছেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। বছরের এই সময়টা আসলেই তিনি কেমন যেন গুটিয়ে যান। নিজেকে লোকচক্ষুর আড়ালে নিয়ে গিয়ে রাখেন। আজ তিনি বিজেপির পতাকার তলায় একজন বিধায়িকা, তা সত্বেও আশেপাশে সবাইকে তিনি বলে দিয়েছেন, এক সপ্তাহ ছুটি দিন। এই সপ্তাহটা তাঁর কাছে অসহনীয়, যন্ত্রণার । এই সময় কোনো কাজ তিনি করতে পারবেন না. এই সপ্তাহটা তিনি দেবেন অভয়াকে। তাঁর প্রিয় মামনিকে।
সিবিআই ফের কেস ডায়রি খুলেছে, তবে খুব বেশি দূর আর এগোতে পারে নি। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এখনও। উচ্চ পদমর্যাদার তিন পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু আসল দোষী বা দোষীরা কি ধরা পড়েছে ? এখনো নয়। সিবিআই এখনও সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দিতে পারে নি। সেদিন রাতে কারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই ঘটনার সাথে যুক্ত ছিল তা জানাতে পারেনি কেন্দ্রীয় এই এজেন্সি। প্রমাণ লোপাট করতে কারা সেদিন ভাংচুর চালিয়েছিল, সিবিআই বলেনি। কে ছিল নেপথ্যে ? আমরা জানতে পারি নি। শুধু জানতে পেরেছি, অভয়ার জন্যে যে জুনিয়ার ডাক্তাররা বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, তাঁরা এখন যেন কে কোথায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছেন। তাই দু বছর কেটে গেলেও আজ আর কলকাতা অভয়ার বিচার চেয়ে পথে নামবে না। অভয়ার স্মৃতিতে ছোটখাটো কিছু অনুষ্ঠান অবশই হবে ।
অভয়ার মা কিন্তু এখনও দৃঢ় প্রতিগ্গ্য়, তিনি মনে করছেন যে তাঁর মেয়ে সঠিক বিচার পাবেনই। প্রকৃত দোষী ধরা পড়বেই। আজ নয় কাল !