
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], বসিরহাট, উত্তর ২৪ পরগণা , ০২/০১/২০২৬ : শৌর্য ও সাহসিকতার জন্যে বাঙালি জওয়ান পেলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার। গর্বিত করলেন নিজের গ্রাম, রাজ্য এবং গোটা দেশকে। তিনি বসিরহাটের সেনা জওয়ান তপন কুমার ঘোষ.
দরিদ্র পরিবারের ছেলে দেশ রক্ষার শপথ নিয়েছিলেন , তাই অদম্য ইচ্ছা শক্তি সততা ও নিষ্ঠার পুরস্কার স্বরূপ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাকে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করলেন।
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের দাসপাড়ার বাসিন্দা, তপন কুমার ঘোষের বাবা সন্তোষ ঘোষের ছোট্ট একটি কাঠের দোকান ছিল। হতদরিদ্র পরিবারের ছেলে ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতো দেশের জন্য কিছু করার। তাই ১৯৮৫ সালে বিএসএফের কনস্টেবলের পদে প্রথম চাকরি। তারপর একে একে চাকরির পদোন্নতি করে ইন্সপেক্টর হয়ে অবসর গ্রহণ। তাঁর দীর্ঘ ৩৯ বছর চাকুরী জীবনে ইচ্ছাশক্তি ও সততার জন্য বারবার দেশের এক সীমান্ত থেকে অন্য সীমান্ত তিনবারের কাশ্মীরের এল ও সি আবার কখনো পাঞ্জাব দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তের সীমান্ত পাহারাদারের কাজ করে গেছেন। সামনে থেকে কারগিল যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে লড়াই করেছেন।
এরপ বিএসএফের চাকরি নতুন যাঁরা পেয়েছেন, তাঁদেরকে তিনি বিভিন্ন ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে দেশ রক্ষা কিভাবে সততার সঙ্গে করতে হবে, বাস্তবের সেই পথ দিয়েছেন। সততা, নিষ্ঠা ও ন্যায়ের জন্য তাঁর দীর্ঘ চাকরি জীবনে ছয়বার পদোন্নতি হয়েছে। 2025 সালে ৩১ শে জানুয়ারি তিনি অবসর নেন, তাঁকে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করলেও তিনি সেই সময় রাষ্ট্রপতি হাত থেকে পুরস্কার নিতে পারেন নি। তাই এবার রাষ্ট্রপতি বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করলেন তপন কুমার ঘোষকে।
রাজ্যপাল সি বি আনন্দ বোস সেই রাষ্ট্রপতি পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দেন। পুরস্কার পেয়ে ঘোষ পরিবার খুশি। আবেগে আপ্লুত, এমনকি গ্রামের মানুষ তাকে নিয়ে গর্বিত। তপন কুমার এর স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে রয়েছে। বাবা সন্তোষ কুমার ঘোষ কয়েক বছর আগে মারা যান। ছেলের এই সম্মান নিজের চোখে দেখে যেতে পারলেন না, কিন্তু মা উমা ঘোষ ছেলের জন্য গর্বিত। পুরস্কার পেয়ে তপনবাবু জানান “সবাইকে দেশ রক্ষার র কাজে এগিয়ে আসতে হবে এবং সততা অনুষ্ঠানের জন্য লড়াই করতে হবে পাশাপাশি ভালো মানুষ হয়ে থাকতে হবে এবং সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে । এই শপথ নিয়েই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
![]()