আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], তারাপীঠ, বীরভূম, ১৮/০৮/২০২৬ : তারাপীঠের হোটেলের আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয়েছে মেঘালয়ের একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের। তাঁদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। সূত্রের খবর, হোটেলের সবচেয়ে উপরের তলায় ছিল ওই পরিবার।
আগুন লেগেছে জানতে পেরে শিশুদের নিয়ে সকলে একসঙ্গে পালানোর চেষ্টা করেন। নীচে নামতেই আগুনের মুখে পড়েন। তাঁদের কাউকে বাঁচানো যায়নি। এ ছাড়াও আরও চার জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃতের সংখ্যা নয়।প্রশাসন সূত্রে খবর, হোটেল থেকে মোট ২৮ জনকে সুস্থ অবস্থায় নিরাপদে বার করে দেওয়া গিয়েছে। সাত জন এখনও রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মৃতদের মধ্যে দুই শিশু ছাড়াও এক মহিলা এবং পাঁচ জন পুরুষ রয়েছেন।
মেঘালয়ের সাউথ গারো হিল্স জেলার শিববাড়ি গ্রাম থেকে তারাপীঠে পুজো দিতে এসেছিল একটি পরিবার। মৃত্যু হয়েছে রাজেন্দ্র নাথ, তাঁর স্ত্রী আশা নাথ, তাঁদের আট বছরের পুত্র ঔষনাথ মদকের। ওই পরিবারের সদস্য বুরান মদক এবং তাঁর ১০ বছরের পুত্র শিবরাজ মদককেও বাঁচানো যায়নি। এ ছাড়া, মৃতদের তালিকায় আলিপুরদুয়ারের তিন জন রয়েছেন। তাঁরা হলেন কমল রায়, অমিত পাল এবং সুবীর সাহা।
তারাপীঠ থানা থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে হোটেল ‘বিদেশিনী’। সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ আচমকা সেখানে আগুন লেগে যায়। হোটেলের একেবারে নীচের তলায় আগুন লেগেছিল। সেখান থেকে তা ছড়িয়ে পড়ে দোতলা পর্যন্ত। আগুন তার উপরে ওঠেনি। তবে ধোঁয়া পৌঁছে গিয়েছিল পাঁচতলা পর্যন্ত। হোটেলের আবাসিকেরা অধিকাংশই সে সময় ঘুমোচ্ছিলেন। ধোঁয়ায় এবং চিৎকারে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। আতঙ্কে উপর থেকে অনেকেই নীচে নেমে এসেছিলেন। হোটেল থেকে বেরোনোর দু’টি দরজা ছিল। কিন্তু আগুন লাগার কারণে হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
অন্ধকারে অনেকেই পিছনের দরজাটি খুঁজে পাননি। তাঁরা সামনে রিসেপশনের দিক দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করেছিলেন। তার ফলে একেবারে আগুনের মুখে পড়ে যান। অনেকের অভিযোগ, পিছনের দরজাটি বন্ধ ছিল। তাই সেখান দিয়ে বেরোনো যায়নি। তবে হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল না বলে জানিয়েছে দমকল।