
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য] হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ, ১৯/০৮/২০২৬ : হুগলির ভূমি সমস্যা সমাধানে প্রশাসনিক পর্যালোচনা, শিল্পের জন্য জমি চিহ্নিতকরণে জোর মন্ত্রী দীপংকর জানার।
হুগলি জেলার বিশেষ প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক এবং বিভিন্ন বিধায়কদের নিয়ে জেলা রিভিউ মিটিং শেষে চুঁচুড়ার বিধায়কের কার্যালয়ে এসে উপস্থিত হন রাজ্যের ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরের মন্ত্রী দীপংকর জানা। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নতুন সরকারের ১০০ দিন পূর্তি এবং জেলার ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
নতুন সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার কী কাজ করছে, তা ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষ কমবেশি অবগত। এদিন হুগলি জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে পাট্টাদার ও বর্গাদারদের জমি, মিউটেশন-কনভার্সনসহ ভূমি দপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার শিল্পের প্রসারের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আগামী দিনে বেকারত্বের সমস্যা সমাধান এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হলে শিল্পের প্রয়োজন, আর শিল্প স্থাপনের জন্য জমিও প্রয়োজন। সেই কারণে জেলার কোথায় কোথায় সরকারি জমি রয়েছে, কোথায় বেস্টেড ল্যান্ড রয়েছে এবং প্রয়োজনে কোন জমি সরকার অধিগ্রহণ করতে পারে—সেগুলি চিহ্নিত করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
পাশাপাশি, বিভিন্ন এলাকায় জলাজমি ভরাট এবং ভূমি সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও প্রশাসনের নজরে আনার কথা জানান তিনি। এ ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও প্রশাসনিক স্তরে নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানান মন্ত্রী।

ছোট ব্যবসায়ী এবং সীমিত পুঁজির উদ্যোক্তাদের জমির প্রয়োজনের বিষয়টিও সরকার গুরুত্ব সহকারে দেখছে বলে জানান দীপংকর জানা। তাঁর কথায়, নতুন সরকারের কাছে কোনও ছোট ব্যবসায়ী জমির জন্য আবেদন করলে অথবা কম পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করার জন্য যাঁদের ছোট পরিমাণ জমির প্রয়োজন, তাঁদের বিষয়টি সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করবে।
এছাড়াও হুগলির সিঙ্গুর এবং ডানলপ কারখানার জমি নিয়েও সরকার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানান মন্ত্রী। এই জমিগুলি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে এবং সেই অভিযোগগুলি তদন্ত করে আগামী দিনে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।
দীপংকর জানা আরও বলেন, হুগলি জেলায় জমি সংক্রান্ত একাধিক সমস্যা রয়েছে এবং প্রশাসনও সেই সমস্যাগুলির বিষয়টি স্বীকার করেছে। ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের সমস্যা আর না হয়, তার জন্য প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পাট্টাদার ও বর্গাদারদের জমি যাতে কোনওভাবে সমস্যার মুখে না পড়ে, সেদিকেও সরকার বিশেষ নজর দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে, হুগলি জেলায় ভূমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান, অনিয়মের বিরুদ্ধে নজরদারি এবং শিল্পের জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ী ও প্রান্তিক জমি-প্রয়োজনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাই এদিন স্পষ্ট করে দেন রাজ্যের ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরের মন্ত্রী দীপংকর জানা।
![]()