
রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস কি এবার জিততে পারবে ? নাকি বিজেপি গড়বে নতুন সরকার ?
এবং তারপর, (আজ খবর) [রাজনীতি] , ২৪/০৩/২০২৬ : আর কিছুদিন পরেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যে উত্তেজনার পারদ রোজই চড়তে শুরু করেছে। বিজেপি দাবী করছে যে এবার হারতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস, পরাজিত হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। বিজেপির প্রথম যুক্তিটি হল যেহেতু রাজ্যে এসআইআর করা হয়েছে, তাই তৃণমূল কংগ্রেসকে যে ভুয়ো ভোটাররা এতদিন জিতিয়ে এসেছে তারা আর ভোট দেওয়ার সুযোগই পাবে না। ফলে এবার আর সেভাবে ছাপ্পা ভোটের ভয় নেই। ভোটের ফলাফল শাসক দলের বিরুদ্ধে যাবে।
দ্বিতীয়ত, প্রশাসনিক কাজে তৃণমূলের ফেভারিট আধিকারিকদের অনেককেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আধিকারিক, আমলা, পুলিশ কর্তাদের কেউ এবার আর শাসক দলকে অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারবে না। তৃতীয়ত, সংখ্যালঘু ভোট এবার আর তৃণমূল দলের সাথে সেভাবে নেই। তৃণমূল দল থেকে বহিস্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল ঘোষণা করে ওবেইসির মিম দলের সাথে হাত মিলিয়েছেন, ওদিকে নওয়াজ সিদ্দিকী সাহেবের আইএসএফ দলটি নিজের শক্তি বৃদ্ধি করেছে। সুতরাং সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হচ্ছেই। এক্ষেত্রেও তৃণমূলের ভোট কমছে।
চতুর্থত, নির্বাচন কমিশন এবার অনেক বেশি কঠোর। অনেক নতুন নিয়ম এসেছে। একটা বুথে ভোটারের সংখ্যাও সীমিত। এবার মাত্র দুই দফায় ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীও থাকছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। তার ওপর সরকারি কর্মী, শিক্ষক সমাজ, চিকিৎসক সমাজ অনেকেই শাসক দলের বিরুদ্ধ মনোভাবাপন্ন হয়ে রয়েছে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বার কয়েক ধাক্কা খেয়েছে হাইকোর্ট আর সুপ্রীম কোর্টে। বিরোধী ইন্ডি জোটের শক্তিও কমেছে। আরজিকর হাসপাতালে অভয়া নিয়েও চূড়ান্ত ক্ষোভ রয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে আরজিকর হাসপাতালেই লিফ্ট কাণ্ড নিয়ে নতুন ঝড় উঠেছে। সব দিক থেকেই এবার নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যথেষ্ট ব্যাকফুটে রয়েছেন।
কিন্তু সত্যিই কি তাই ? বিজেপি কি সত্যিই বুদ্ধির জোরে তৃণমূলকে টেক্কা দিতে পারবে ? জন সমর্থন কি সত্যিই এবার রাজ্যে গেরুয়া শিবিরকেই চাইছে ? রাজ্যে বিজেপির সংগঠন কি সত্যিই এতটা মজবুত যে শেষ হাসিটা হাসতে পারবে পদ্ম শিবির ? আসুন দেখে নিই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কি কি কারনে তিনি নির্বাচনে জিততে পারেন, আর কি কি কারণে তিনি হারতে পারেন !
প্রথমে দেখে নেওয়া যাক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস যদি জিতে যায়, তাহলে কোন কোন বিষয় তাদেরকে জিতিয়ে দিতে পারে ?
১. শক্তিশালী গ্রাসরুট সংগঠন (Booth Level Strength)
তৃণমূল কংগ্রেস-এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের বুথ-স্তরের সংগঠন।
গ্রাম থেকে শহর—প্রতিটি এলাকায় কর্মী নেটওয়ার্ক থাকলে ভোট ম্যানেজমেন্ট সহজ হয়। পশ্চিমবঙ্গে এই নেটওয়ার্ক এখনও অনেক জায়গায় শক্তিশালী।
২. নারী ভোটব্যাঙ্ক (Women Voters)
মমতা সরকারের প্রকল্পগুলো—যেমন:
- লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
- কন্যাশ্রী
- রূপশ্রী
এই স্কিমগুলো নারী ভোটারদের মধ্যে বড় প্রভাব ফেলে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, নারী ভোটই তৃণমূলের “game changer”।
৩. ওয়েলফেয়ার পলিটিক্স (Direct Benefit Schemes)
ফ্রি রেশন, স্বাস্থ্যসাথী, ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ—এইসব সরাসরি সুবিধা ভোটারদের মধ্যে একটা “security feeling” তৈরি করে।যারা সরাসরি সুবিধা পাচ্ছেন, তারা সাধারণত সরকারকে সমর্থন করতে চান।
৪. বিরোধীদের বিভক্তি
প্রধান বিরোধী হিসেবে ভারতীয় জনতা পার্টি থাকলেও—
- স্থানীয় স্তরে নেতৃত্ব সমস্যা
- কংগ্রেস ও বামেদের সঙ্গে ভোট ভাগ হওয়া
এতে anti-incumbency vote একজোট নাও হতে পারে।
৫. “বাংলা বনাম বহিরাগত” ন্যারেটিভ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার আঞ্চলিক পরিচয় (Bengali identity) তুলে ধরেন।এই আবেগ অনেক ভোটারকে প্রভাবিত করে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও মধ্যবিত্ত অংশে।
৬. ব্যক্তিগত ইমেজ (Strong Leadership Image)
মমতার ইমেজ:
- “মাটি থেকে উঠে আসা নেতা”
- সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ
অনেক ভোটার এখনও তাঁকে “accessible leader” হিসেবে দেখেন।
৭. সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক
সংখ্যালঘু ভোট পশ্চিমবঙ্গে বড় ফ্যাক্টর।
যদি এই ভোট একদিকে যায়, তাহলে ফলাফল অনেকটাই প্রভাবিত হয়।
৮. নির্বাচনী কৌশল (Campaign Strategy)
- Door-to-door campaign
- Local issue-based messaging
- Social media + ground mix strategy
এই hybrid model এখন বেশ কার্যকর।
তবে জয়ের পথে বাধাও আছে
Balanced analysis হিসেবে বলি—সবকিছু একপাক্ষিক নয়:
- দুর্নীতির অভিযোগ (SSC, coal scam ইত্যাদি)
- anti-incumbency (দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ক্লান্তি)
- কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত
- বেকারত্ব ইস্যু
এগুলো যদি বড় ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে, তাহলে ফল বদলাতেও পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিততে পারেন যদি:
- নারী + সংখ্যালঘু ভোট ধরে রাখতে পারেন
- গ্রাসরুট সংগঠন সক্রিয় থাকে
- বিরোধীরা একজোট না হয়
কিন্তু ভোটের ফল পুরোপুরি নির্ভর করবে ground sentiment + last-mile campaign execution-এর ওপর .
![]()