গন্তব্য : পুজোর ভ্রমণ পরিকল্পনা – ওড়িশা

গন্তব্য : পুজোর ভ্রমণ পরিকল্পনা  – ওড়িশা

পুজোর ভ্রমণ পরিকল্পনা  - ওড়িশা

 

আজ খবর (বাংলা) অন্য রুট, ২৬/০৯/২০২৬ :  পুজো তো প্রায় এসেই গেলো, এই পুজোর ছুটিগুলোকে ঠিকমত  কাজে লাগিয়ে যদি বেড়াতে যেতে চান, তাহলে দরকার বেড়াতে যাওয়ার  সঠিক পরিকল্পনা। তবেই ভ্রমণের আনন্দ পূর্ণ মাত্রায় উপভোগ করতে পারবেন।

আজ আমরা আলোচনা করবো উড়িষ্যা ভ্রমণ নিয়ে। উড়িষ্যা বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে পুরীর সমুদ্র সৈকতের ছবি। পুরী ভ্রমণ অবশ্যই হবে, কিন্তু আজ জেনে নিতে হবে পুরী বেড়াতে গিয়ে পুরী ছাড়া  আশেপাশের আর কোন কোন জায়গা দেখে নেওয়া যেতে পারে।  প্রথমেই বলে রাখি, পুরীর মূল আরবান পুরীর সমুদ্র সৈকত, জগন্নাথ দেবের মন্দির ও অন্যান্য মন্দিরগুলি।  পুরীতে একটি অটোরিকশা ভাড়া করেও সেগুলি একে  একে  ঘুরে নেওয়া সম্ভব।
ad16 1
পুরী বেড়াতে গিয়ে সাইট সিয়িং হিসেবে অনায়াসে ঘুরে নেওয়া যেতে পারে কোনারক, উদয়গিরি, খন্ডগিরি, ধৌলাগিরি বা নন্দনকানন থেকে। দেখে নেওয়া যায় লিঙ্গরাজ মন্দির এবং রাজধানী ভুবনেশ্বর শহরকে।  পুরী থেকে সাইট সিয়িং করতে এসি  বাসে করেও এগুলো দেখে নেওয়া যায় , সেখানে খরচ পরে ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা মাথা পিছু।  গাড়ি বুক করলে গাড়ির মডেল অনুযায়ী টাকা ধার্য করা হয়. যেমন সেডান  / ডিজায়ার – ২০০০ – ৩৩০০, আর্টিগা – ৩২০০ – ৩৯০০, ইনোভা – ৪৫০০ – ৪৭০০, টেম্পো ট্রাভেলার  – ৫৫০০ – ৭০০০ টাকা পর্যন্ত। এখানে গাড়ি ভাড়া ছাড়াও  পার্কিং চার্জ, এন্ট্রি ফি এগুলো যোগ করে নিতে হবে। সরকারি প্যাকেজে দেখায় ধৌলি, লিঙ্গরাজ, উদয়গিরি, খন্ডগিরি, নন্দনকানন, কোনারক, রামচন্ডি, চন্দ্রভাগা ও স্যান্ড আর্ট মিউজিয়াম।  এছাড়া গাড়ি ভাড়া করে পিপলীতে গিয়ে দেখে নিতে পারেন স্থানীয় শিল্পীদের হস্তশিল্প সম্ভার।  এখানকার এপ্লিকের কাজ বিখ্যাত।
পুরী থেকে চিল্কা ঘুরে আসা যেতে পারে। পুরী থেকে দূরত্ব ৪৮ কিলোমিটার, যেতে সময় লাগবে ঘন্টা দেড়েক। সুতরাং পুরী থেকে চিল্কা ঘুরে দিনে দিনেই পুরীতে ফিরে আসা যাবে।  চিল্কা লেক দেখতে গিয়ে প্রাকৃতিক শোভার পাশাপাশি ডলফিন এবং নানারকম পরিযায়ী পাখি দেখতে পাওয়া যায়।  চিল্কা লেকে বোটিং করা যায়, সরকারি বোটিং প্যাকেজও আছে নানারকম। দেখে নিতে পারেন সি মাউথ — যেখানে চিল্কা লেক বঙ্গোপসাগরে মিলিত  হয়েছে। এছাড়া দেখা যাবে রাজহংস আইল্যান্ড, ব্রেকফাস্ট আইল্যান্ড, রেড ক্র্যাব আইল্যান্ড ইত্যাদি। নৌকার মাপ ও যাত্রী সংখ্যার ওপর নৌকার ভাড়া কম বেশি হয়. নৌকায় ওঠার আগে কি কি দেখাবে তা নিশ্চিত করে জেনে নেবেন।
ad14 2
সকাল সকাল পুরী থেকে বেরিয়ে চিল্কা লেক ঘুরে বিকেলের মধ্যেই পুরীতে ফিরে আসতে  পারবেন। পুরী থেকে চিল্কা ঘুরে পুরীতে আসতে  মাথাপিছু খরচ হতে পারে ১৩০০ থেকে ২১০০ টাকার মধ্যে।  চিল্কা থেকে রম্ভা দেখে গোপালপুর সি বিচটিও দেখে আসতে পারেন। পোশাকি নাম গোপালপুর অন সি, ক্যাসুরিনায় ছাওয়ায়  শান্ত সুন্দর একটি নির্জন সমুদ্র সৈকত। বেশ কিছু হোটেল আছে সৈকতেই। আর রয়েছে একটি বিশাল লাইট হাউস।  পুরী থেকে ছত্রপুরের ট্রেন ধরে বহরমপুর স্টেশনে নেমে সেখান থেকে অটো  রিকশা বা বাসেও পৌঁছে যাওয়া যায় এই গোপালপুরে। পুরী থেকে বাস যাচ্ছে , সময় লাগে কমবেশি চার ঘণ্টা।
গোপালপুরকে কেন্দ্র করেও এই অঞ্চলে খুব ভালো একটা সফর সূচী বানানো যায়।  গোপালপুরের কাছে বহরমপুর বা ব্রম্ভপুর বলে যে জায়গাটি আছে, সেখানে পাহাড়ের ওপরে রয়েছে তারা তারিণী মন্দির। এই মন্দিরটিকে আদি শক্তি পীঠ বলা হয়।.  বহরমপুর বা গোপালপুর থেকে ঘন্টা দুয়েকের দূরত্বে পাহাড় ও জঙ্গলে ঘেরা জায়গায় রয়েছে তপ্তপানী উষ্ণ প্রস্রবন।  গোপালপুরের অদূরে রয়েছে আর্যপল্লী সি বিচ, এখানকার সৈকতের গ্রামবাসীরা সকলেই মৎস্যজীবী।  গোপালপুর থেকে সাইটসিয়িং করতে গিয়ে দেখে নেওয়া যায় টামপাড়া  লেক. গোপালপুর থেকে একটু দূরে পাহাড়ি পরিবেশে জিরাঙ জায়গাটিতে বৌদ্ধ মনাস্ট্রি দেখতেও ভালো লাগবে।  গোপালপুর বেড়াতে গিয়ে এইসব সাইট সিয়িং দেখে নেওয়া যায় ওড়িশা পর্যটনকে সাথে করে। এই ব্যাপারে কলকাতার ওয়েলিংটন স্কয়ারের কাছে উৎকল ভবনেও কথা বলতে পারেন। বিস্তারিত তথ্য পাবেন সেখান থেকেই।
Duarsini Travels 3
পুরী বেড়াতে গিয়ে পুরীতে থাকুন আপনাদের ইচ্ছামত, কিন্তু পুরী থেকে তিন দিনের একটি প্যাকেজে ঘুরে নিতে পারেন বেশ কিছু সুন্দর জায়গা থেকে।  প্রথম দিন, পুরী থেকে চলে যান চিল্কা বা বারকুল  অথবা রম্ভা।  এই জায়গাগুলি দেখে নিয়ে চলে যান গোপালপুরে। রাত্রে থাকুন সেখানেই।  দ্বিতীয় দিনে গোপালপুর থেকে তারা তারিণী মন্দির দেখে চলে যান আর্যপল্লী, পটাগর দুর্গ দেখতে। তারপর সেখান থেকে টামপাড়া  লেক দেখে ফিরে আসুন গোপালপুরে। তৃতীয় দিনে গোপালপুর থেকে তপ্তপানী হয়ে জিরাঙ বা চন্দ্রাগিরি দেখে বহরমপুর বা পুরীতে ফিরে যেতে পারেন। বহরমপুর থেকে কলকাতায় ফেরার  ট্রেন পেয়ে যাবেন। এই ট্রিপে তিনদিনের মধ্যেই দেখে নেওয়া যাবে সমুদ্র, পাহাড়, অরণ্য, মন্দির, মনাস্ট্রি, দুর্গ, সৈকত , উষ্ণ প্রস্রবন  সবকিছু একসাথে।
উৎকল ভবন (কোলকাতা) —  ৫৫, লেনিন সরণী, কলকাতা -১০, ফোন – ২২৬৫১১৯৫, ওড়িশা ট্যুরিজম কলকাতা অফিস — ২২৪৯৩৬৫৩  গোপালপুরের হোটেলের ভাড়া পুরীর থেকে সামান্য বেশি। কলকাতা থেকেই হোটেল বুকিং ও সরকারি প্যাকেজ বুক করা সম্ভব।
anyoroute.notice.news1
ad5 1
Share this news article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *