
আজ খবর (বাংলা) [আবহাওয়া] কলকাতা , পশ্চিমবঙ্গ ২৫/০৯/২০২৬ :
দক্ষিণ ওড়িশা ও সংলগ্ন দক্ষিণ ছত্তিশগড়ের উপর অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে প্রকাশিত বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি গত ছয় ঘণ্টায় ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার বেগে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়েছে। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে সেটি দক্ষিণ ছত্তিশগড় ও সংলগ্ন দক্ষিণ অভ্যন্তরীণ ওড়িশার উপর অবস্থান করছিল। আগামী ১২ ঘণ্টা উত্তর ও উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকবে এবং গভীর নিম্নচাপ হিসেবেই থকবে বলে জানা যাচ্ছে । পরবর্তী ১২ঘণ্টায় এটি দুর্বল হয়ে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ এলাকায় পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ—দুই এলাকাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ির এক বা দুই জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গেও বেশ কিছু জেলায় বৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া ও বীরভূমের এক বা দুই জায়গায় ভারী বৃষ্টির খবর রয়েছে।

বৃষ্টির পরিমাণের নিরিখে উত্তরবঙ্গে দার্জিলিংয়ে সর্বোচ্চ ১৪ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। কালিম্পংয়ে ১২ সেন্টিমিটার এবং কালিম্পংয়ের একাধিক এলাকায় ১১ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে মোহনপুরে ৯ সেন্টিমিটার, মেদিনীপুরে ৮ সেন্টিমিটার এবং কল্যাণী, নারায়ণপুর ও আমফু খড়গপুরে ৭ সেন্টিমিটার করে বৃষ্টি হয়েছে।আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টি হতে পারে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের এক বা দুই জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের এক বা দুই জায়গায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রঝড় ও বজ্রপাত হতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রঝড়, বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৬ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণবঙ্গের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত কয়েকটি জায়গায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও নজরকাড়া। ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত দার্জিলিং জেলায় কয়েকটি জায়গায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এক বা দুই জায়গায় ২০ সেন্টিমিটারের বেশি অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের এক বা দুই জায়গায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে। নিচু এলাকায় আকস্মিক জলমগ্নতা এবং জল জমার সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সমুদ্রও উত্তাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ ২৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূল, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং দমকা হাওয়ার ক্ষেত্রে ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বেগ হতে পারে। সমুদ্র উত্তাল থেকে খুবই উত্তাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ–ওড়িশা উপকূল, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিম–মধ্য বঙ্গোপসাগরে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হলদিয়া ও কলকাতা বন্দরে স্থানীয় সতর্কতামূলক সংকেত-৩ এবং সাগরদ্বীপ বন্দরে সেকশনাল সিগন্যাল-I ও II জারি করা হয়েছে।আবহাওয়া দফতরের পরামর্শ, বজ্রঝড় বা বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং জলাশয়ের কাছে থাকা এড়িয়ে চলতে হবে। পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো বা পাহাড়ের ঢালে থাকা নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




