ট্রাম্পের লাল গালিচায় শি জিনপিং

ট্রাম্পের লাল গালিচায় শি জিনপিং

 

 

ট্রাম্পের সঙ্গে লাল গালিচায় শি জিনপিং
ট্রাম্পের লাল গালিচায় শি জিনপিং

 

আজ খবর (বাংলা) [আন্তর্জাতিক] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  ২৫/০৬/২০২৬:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন এট্রাম্পেরর প্রেসিডেন্টকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন । চীন এর  প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় সফরে ট্রাম্প প্রশাসন অভূতপূর্ব অভ্যর্থনা জানিয়েছে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় । জয়েন্ট বেইস অ্যান্ড্রুজে বিমানবন্দরের রানওয়েতেই জিনপিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিইয়ানকে স্বাগত জানান ট্রাম্প ও প্রথম মহিলা মেলানিয়া ট্রাম্প। দুই রাষ্ট্রের  জাতীয় সঙ্গীত বাজে, সামরিক কুচকাওয়াজ ও বিমানবাহীর বিমানের আকাশপথে সম্মান জানানো হয়। মার্কিন ইতিহাসে কোনো বিদেশি নেতাকে রানওয়েতে এতটা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর বিরল দৃষ্টান্ত, যা ট্রাম্পের ব্যক্তিগতভাবে জিনপিং এর  প্রতি সম্মান ও কূটনৈতিক বার্তা দুটোই বহন করছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

ad14 1

এই অভ্যর্থনার ঠিক আগেই ট্রাম্প কমিউনিজমকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় হুমকি’ বলে বর্ণনা করেছিলেন এবং নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ‘কমিউনিস্ট’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। সেই কড়া সুরের পরেই জিনপিং এর  সফরে তিনি ‘অংশীদারিত্ব’ ও ‘স্থিতিশীলতা’র বার্তা দিয়েছেন। চীনের পক্ষ থেকে আসা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের উচিত ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’ হওয়া; সহযোগিতাই মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।

WhatsApp Image 2026 09 23 at 13.11.31

হোয়াইট হাউসে বৈঠকে জিনপিং ট্রাম্পকে বলেছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘দায়িত্বশীল বড় দেশ’ হিসেবে আচরণ করতে হবে। দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ, কোরীয় উপদ্বীপসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে আলোচনা করেন। তাইওয়ান প্রসঙ্গে জিনপিং পুনরায় মার্কিন অবস্থান ‘সঠিক’ রাখার আশা প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখেন।

ad3

বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে উত্তেজনা কমেনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্য যুদ্ধের শঙ্কা এবং বিরল মাটির (রেয়ার আর্থ) সরবরাহ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান কঠোরই রয়েছে। তবে এই সফরের আগে ট্রাম্প প্রশাসন চীনের ওপর নতুন করে কড়া শুল্ক বা প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেয়নি—এটি বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তির স্বীকৃতি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য স্থগিতাদেশ (trade truce) জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা আসে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, এই চুক্তি ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, জিনপিং তাঁর বার্তায় বলেছেন, ‘চীনের পুনরুত্থান’ ও ‘আমেরিকাকে আবার মহান করা’ একসঙ্গে সম্ভব এবং দুই দেশ একে অপরের সাফল্যে অবদান রাখতে পারে।

ad9

তবে সফরের প্রতীকী মর্যাদা সত্ত্বেও ফলাফল সীমিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই ‘লাল গালিচা’ কূটনীতি মূলত চীনকে একটি সমকক্ষ শক্তি হিসেবে স্বীকার করার ইঙ্গিত, যাকে তিনি আর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। একইসঙ্গে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কমিউনিজম বিরোধী সুর বজায় রেখেও তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছেন।

ad5

Share this news article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *