সেনসেক্স-নিফটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

আজ খবর (বাংলা) [ দেশ ] ব্যবসা ১৬/০৯/২০২৬: ব্যাপক বিক্রির পর ঘুরে দাঁড়াল ভারতীয় শেয়ারবাজার, তেলের দাম ও Fed-এ নজর
টানা বিক্রির চাপের পর বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা দেখা গেল ভারতীয় শেয়ারবাজারে। আগের দিনের বড় পতনের পর দিনের শুরুতেই সেনসেক্স ও নিফটিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা, অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দাম এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বজায় রয়েছে।
বুধবারের প্রাথমিক লেনদেনে সেনসেক্স প্রায় ৪২৫ পয়েন্ট বেড়ে ৭৪,৪২৮-এর কাছাকাছি পৌঁছয়। অন্যদিকে নিফটি ৫০-ও ২৩,২০০-এর উপরে উঠে আসে। আগের দিন অর্থাৎ ১৫ সেপ্টেম্বর সেনসেক্স ৭৭৭.৯৪ পয়েন্ট বা ১.০৪ শতাংশ পড়ে ৭৪,০০৩.৮২-এ বন্ধ হয়েছিল। নিফটি ৫০-ও ২৭৯.৫০ পয়েন্ট বা ১.০৪ শতাংশ কমে ২৩,১১৮.৬০-এ নেমে যায়।

বাজারে এই ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম কারণ হিসেবে আগের দিনের তীব্র পতনের পর কিছুটা ‘ভ্যালু বাইং’-এর কথা উঠে আসছে। তবে এই ঊর্ধ্বগতি কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধি এবং মার্কিন মুদ্রানীতি আগামী দিনের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
তেলের দামে চাপ
ভারতীয় বাজারের জন্য অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৮ ডলারের আশপাশে ছিল। তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চস্তরে থাকলে ভারতের আমদানি খরচ এবং মুদ্রাস্ফীতির উপর চাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে টাকার দামের উপরও।
গত মঙ্গলবারও তেলের দাম বৃদ্ধি, মার্কিন বন্ডের ফলন এবং দুর্বল টাকার কারণে ভারতীয় বাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ দেখা গিয়েছিল। সেই সময় নিফটি পাঁচ মাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যায়।

Fed-এর সিদ্ধান্তে নজর
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতি ঘোষণার দিকে। সুদের হার এবং ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি নিয়ে ফেডের বার্তা আন্তর্জাতিক বাজারের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। উচ্চ মার্কিন বন্ড ফলন এবং তেলের দাম ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে সতর্কতা বাড়িয়েছে।
এদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি এবং দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটাও বাজারের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ১৫ সেপ্টেম্বর বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা প্রায় ₹২,৯৭৮ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করলেও দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলি প্রায় ₹২,৬৮৬ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছিল।

সব মিলিয়ে, আগের দিনের বড় পতনের পর ভারতীয় শেয়ারবাজারে বুধবার কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও তেলের দাম, বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ এবং মার্কিন ফেডের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।



