
আজ খবর (বাংলা) [আবহাওয়া ]কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ ০৫/০৯/২০২৬: সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ফের সক্রিয় বর্ষা। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকাতেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে। ফলে আগামী কয়েকদিন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আবহাওয়া অস্থির থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের আবহাওয়া দফতর বা IMD-এর ৫ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গে আগামী কয়েকদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ৯ জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে; এগুলোর মধ্যে রয়েছে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং পার্শ্ববর্তী কিছু জেলা, যেখানে স্থানভেদে ৩০–৪০ কিমি/ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া বোয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ৬ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায় বিক্ষিপ্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে, তবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম থাকবে এবং আর্দ্রতা ও ভ্যাপসা গরম বাড়তে পারে।

৯ সেপ্টেম্বর থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আবার বাড়তে পারে এবং বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান-এর মতো জেলাগুলোতে ভারী বর্ষণ (৭–১১ সেমি) হতে পারে বলে হাওয়া অফিস সতর্কতা জারি করেছে। জেলাভিত্তিক হলুদ/কমলা সতর্কতা প্রতিদিন সকালে হাওয়া অফিসের ওয়েবসাইটে আপডেট হয়, তাই প্রয়োজন হলে সেখান থেকে চূড়ান্ত তালিকা যাচাই করে নেওয়া ভালো। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। IMD-এর Sub-Himalayan West Bengal ও Sikkim-এর জন্য ৫ সেপ্টেম্বর ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বরও ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বরও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলা এবং পাদদেশের এলাকাগুলিতে অতিবৃষ্টির প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।

পাহাড়ি এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টি হলে রাস্তা পিচ্ছিল হওয়া, ছোটখাটো ধস এবং স্থানীয় নদী-নালায় জলস্তর বৃদ্ধির মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই পাহাড়ে যাঁরা যাতায়াত করবেন, তাঁদের আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট দেখে যাত্রা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গে এই মুহূর্তে যেসব জেলায় বেশি নজর রাখা দরকার, সেগুলো হলো—পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা; কারণ এই জেলাগুলোতেই সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে ৭ থেকে ১১ সেমি পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম এবং মেদিনীপুর (পূর্ব ও পশ্চিম) জেলাগুলোর দিকেও বিশেষ নজর রাখতে বলা হচ্ছে, যেখানে ভারী বর্ষণ ও বজ্রবিদ্যুতের ঝুঁকি বেশি।

কলকাতা, হাওড়া ও হুগলিতে আজ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি-বজ্রপাতের পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এগুলোতেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সাম্প্রতিক আবহাওয়া পরিস্থিতিতেও একটি well-marked low pressure area-র প্রভাব এবং তার সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তের কথা জানিয়েছিল কলকাতা আঞ্চলিক আবহাওয়া দফতর। এই ধরনের সিস্টেমের গতিপথ এবং শক্তির পরিবর্তনের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টির পরিমাণও বদলে যেতে পারে। ফলে সেপ্টেম্বরের শুরুতে বর্ষার সক্রিয়তা পুরোপুরি কমে যায়নি। কোথাও মেঘ জমে হালকা বৃষ্টি, আবার কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ স্বল্প সময়ের ভারী বৃষ্টি—দুই ধরনের পরিস্থিতিই দেখা যেতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হলে শহর ও শহরতলিতে গাছের ডাল ভেঙে পড়া, বিদ্যুৎ পরিষেবায় সাময়িক বিঘ্ন এবং নিচু এলাকায় জল জমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

IMD-এর সাধারণ সতর্কবার্তাতেও ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার কারণে গাছের ডাল ভেঙে পড়া এবং দুর্বল বা অস্থায়ী কাঠামোর ক্ষতির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোই ভালো। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, জলাশয়ের কাছাকাছি বা উঁচু গাছের নিচে দাঁড়ানো এড়িয়ে চলতে হবে। ঝোড়ো হাওয়ার সময় বারান্দা বা ছাদে রাখা হালকা জিনিসও নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।IMD-এর ৫ সেপ্টেম্বরের Subdivision-wise Warning অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গে ৫ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন মাত্রায় বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর থেকে আপাতত বড় কোনও সতর্কতা নেই। উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি, এরপর সতর্কতা কিছুটা কমার ইঙ্গিত রয়েছে।

তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পরিস্থিতির সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাঁরা দূরে যাতায়াত করবেন বা পর্যটন এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের যাত্রার আগে IMD-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস দেখে নেওয়া জরুরি। সব মিলিয়ে, আগামী কয়েকদিন পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বর্ষার প্রভাব বজায় থাকার সম্ভাবনা। দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ৮-৯ সেপ্টেম্বর ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনই উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকাতেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ফলে কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যের বাসিন্দাদের আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার আপডেটের দিকে নজর রেখে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।



