
আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য] শিলিগুড়ি, দার্জিলিং,০৮/০৮/২০২৬ : দীর্ঘ আড়াই বছর পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হল শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (SJDA)-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। শুক্রবার শিলিগুড়ির হিমাচল বিহারে অবস্থিত SJDA ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন, দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা প্রকল্প এবং সংস্থাকে ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ—সবকিছু নিয়েই বিস্তর আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে বড় ঘোষণা করেন শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক তথা অর্থ ও পরিবহন প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়িকা শিখা চ্যাটার্জী, অন্যান্য বিধায়ক, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির জেলাশাসক এবং বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল শিলিগুড়ি সফরে এসে SJDA-র ফাইল খুলে সমস্ত দুর্নীতির তদন্তের কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই ঘোষণার পরই এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শংকর ঘোষ জানান, গত প্রায় ১৫ বছরে SJDA-তে প্রায় ২০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এই অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য প্রাক্তন বিচারপতি ও প্রশাসনের অভিজ্ঞ আধিকারিকদের নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি সম্পূর্ণ আর্থিক অডিটও করা হবে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট জানানো হয়।
শংকর ঘোষ আরও বলেন, দীর্ঘ আড়াই বছর SJDA-র কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকায় উত্তরবঙ্গের বহু উন্নয়ন প্রকল্প থমকে গিয়েছে। সেই পরিস্থিতি কাটাতে আপাতত বিধানসভাভিত্তিক জনপ্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। প্রত্যেক বিধায়ককে তাঁদের এলাকার প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজের তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই তালিকার ভিত্তিতে রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা, পরিকাঠামো উন্নয়ন-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
এদিন ফুলবাড়ির ক্যানেল রোড সংলগ্ন বন্ধ হয়ে থাকা টোল প্লাজা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানানো হয়েছে, টোল প্লাজাটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং খুব শীঘ্রই নতুন সংস্থার মাধ্যমে টেন্ডার ডেকে সেটি পুনরায় চালু করা হবে। পাশাপাশি বর্ষা শেষ হওয়ার পর ক্যানেল রোড-সহ একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এই সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অর্থও SJDA-র ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন তহবিল থেকেই বরাদ্দ করা হবে।
মন্ত্রী জানান, উন্নয়নের পাশাপাশি স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সেই কারণে একটি ইন্টারনাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কমিটি গঠন করে সংস্থার গত ১৫ বছরের কাজ, আর্থিক লেনদেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্ত নথি খতিয়ে দেখা হবে। উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের গতি ফেরানোর পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ—এই দুই লক্ষ্য নিয়েই আগামী দিনে SJDA এগোবে বলে বৈঠক শেষে জানানো হয়েছে।
![]()







