লক্ষাধিক ভক্তের ভিড়ে তারাপীঠে দেড় শতাধিক জিডি, মোবাইল চুরির অভিযোগ বেশি

কৌশিকী অমাবস্যাকে ঘিরে লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর ভিড়ে সরগরম তারাপীঠ। আর সেই বিপুল ভিড়ের সুযোগে চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগ ঘিরে তৈরি হল চাঞ্চল্য। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় তারাপীঠ থানায় দেড় শতাধিক জিডি দায়ের হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৩২ জনকে আটক করা হয়েছে। যদিও পুলিশের দাবি, গত বছরের তুলনায় এ বছর অভিযোগের সংখ্যা কিছুটা কম।

পুলিশ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত দায়ের হওয়া অভিযোগগুলির মধ্যে অন্তত ১০টি গয়না ও মানিব্যাগ ছিনতাই সংক্রান্ত। তবে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে মোবাইল ফোন হারানো ও চুরির। দেড় শতাধিক অভিযোগের মধ্যে প্রায় ১৫০টিরও বেশি অভিযোগ মোবাইল হারানো বা চুরির বলে জানা গিয়েছে।

কৌশিকী অমাবস্যায় প্রতি বছরই লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয় তারাপীঠে। এবছর সেই বিপুল জনসমাগম সামলাতে রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তারাপীঠ ও সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল ৪ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী। নজরদারির জন্য বসানো হয়েছিল ৩০০-র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা। এর পাশাপাশি অপরাধীদের চিহ্নিত করতে ব্যবহার করা হয়েছিল ফেস রেকগনিশন ক্যামেরাও।

তারাপীঠ থানার সামনে তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ কন্ট্রোল রুম। সেখানে থাকা পুলিশকর্মীদের প্রয়োজনে ঘটনাস্থলে থাকা বাহিনীকে ব্যাকআপ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তবে এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগ সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে পুলিশের নজরদারি নিয়ে। বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে সোনার গয়না ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এক মহিলা। তাঁর প্রশ্ন, কন্ট্রোল রুমে কয়েকশো পুলিশকর্মী থাকা সত্ত্বেও অভিযোগের পর তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারলেন না কেন?

যদিও পুলিশের দাবি, বিপুল জনসমাগমের মধ্যেও এবছর পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। গত বছরের তুলনায় অভিযোগের সংখ্যা কমেছে বলেও দাবি পুলিশের। তবে কৌশিকী অমাবস্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ তিথিতে এত বিপুল সংখ্যক চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ সামনে আসায় পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।




