আজ খবর(বাংলা), [আন্তর্জাতিক], ওয়াশিংটন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ০৭/০৮/২০২৬ : মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কা সত্ত্বেও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে নতুন দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গতকাল হোয়াইট হাউস থেকে এই আদেশ জারির পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সই করা নতুন নির্বাহী আদেশ দুটিতে মূলত দুটি বিষয়কে লক্ষ্য করা হয়েছে . প্রথমত বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান প্রসবের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন একে একটি বড় ‘প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
দ্বিতীয়ত বিদেশি শত্রু, চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং বিদেশি সরকারের পক্ষে লবিংয়ে নিয়োজিত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে গত ৩০ জুন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে ট্রাম্পের একটি ব্যাপক ভিত্তিক নির্বাহী আদেশ অসাংবিধানিক বলে খারিজ করে দেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া যেকোনো শিশুই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী।
আদালতের সেই ঐতিহাসিক রায়কে উপেক্ষা করেই ট্রাম্প প্রশাসন এই নতুন কৌশলগত আদেশ জারি করল।আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপটি আবারও বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সুরক্ষা ও সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পরিপন্থী হওয়ায় এই নির্বাহী আদেশগুলোর কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত আদালতে টিকবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।