
মহিলাদের মাসিক ₹৩০০০ সহায়তা, চাকরি, UCC ও কড়া আইন-শৃঙ্খলার প্রতিশ্রুতি—২০২৬ বিধানসভা ভোটে উন্নয়ন বনাম পরিবর্তনের বার্তা বিজেপির
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ১০/০৪/২০২৬ : কলকাতায় এসে বিজেপির সংকল্প পত্র প্রকাশ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী .অমিত শাহ। এই সংকল্প পত্রে ছত্রে ছত্রে রাজ্যের উন্নতিকল্পে যে পদক্ষেপগুলি বিজেপি ভোটে জিতে সরকার গঠন করলে গ্রহণ করবে, সেগুলির কথা বলা হয়েছে।
অমিত শাহ নিউ টাউনের একটি হোটেলে সাংবাদিকদের বলেন, “বিজেপির ইশতেহার বাংলাকে তার হারিয়ে যাওয়া গর্ব ফিরিয়ে দেবে। আমরা সোনার বাংলা তৈরী করবো। বাংলা তার হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতি ফিরে পাবে।” বিজেপির ইশতেহারে নারীর ক্ষমতায়ন এবং সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।এই সংকল্প পত্রে মহিলাদের সশক্তিকরণের কথা বলা হয়েছে। আগামীদিনে ভোটে মহিলাদের জন্যে এক তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। বিজেপি সরকার গড়লে মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না। বিনামূল্যে তাঁরা ভ্রমণ করতে পারবেন। এছাড়াও প্রতি মাসে মহিলারা পাবেন ৩০০০ টাকা করে। মহিলাদের সরকারি চাকরিতেও ৩৩ % সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। বেকার যুবাদের মাসিক ১০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অমিত শাহ এদিন বলেছেন, “এই ইশতেহার রাজ্যের সমাজের সব অংশের মানুষের মন থেকে হতাশা দূর করবে। তাদেরকে আশার আলো দেখাবে। মানুষের মন থেকে ভয় দূর হবে। কৃষকদের জন্যে নতুন পথের দিশা দেখানো হবে।.”রাজ্যে চারটি নতুন উপনগরী গড়ে তোলা হবে। উত্তরবঙ্গকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গে আরও কম সময়ে পৌঁছানো যাবে। সিঙ্গুরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশীপ তৈরী করা হবে। পর্যটনে জোর দেওয়া হবে। চা শিল্পে গুরুত্ব দেওয়া হবে। উত্তরবঙ্গে এইমস, আইআইটি ও আইআইএম তৈরি করা হবে। মৎস্য চাষে উৎসাহ দেওয়া হবে। বেকারদের ট্রেনিং দিয়ে ব্যবসার জন্যে ঋণ দেওয়া হবে। গরু পাচার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। অন্য কর্মসংস্থানের ওপর জোর দেওয়া হবে. মাছ মাংস খাওয়ার ওপর কোনো রকম নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না।”বিজেপি সরকার গড়লে অষ্টম তফসিলে কুর্মালি ভাষা এবং রাজবংশী ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। আলু, ধান ও আমের বর্ধিত মূল্য প্রদানের জন্যে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গবাদী পশু পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রনয়ন করা হবে। সরকারি কর্মচারীদের নিয়মিত ডিএ দেওয়া হবে। তাঁদের মন থেকেও শঙ্কা ও ভয় দূর করা হবে। তৈরি করা হবে বন্দেমাতরম মিউজিয়াম। থিয়েটার শিল্পের প্রসার ঘটানো হবে। ধর্মীয় অনুশীলনের স্বাধীনতা বজায় রাখতে একটি নতুন আইন নিয়ে আসবে বিজেপি।
![]()