
এই রাজ্যে দু’জন আক্রান্ত। পূর্ব মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নিপা নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারন নেই (দেখুন ভিডিও)
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য] পূর্ব মেদিনীপুর ও জলপাইগুড়ি, পশ্চিমবঙ্গ, ১৫/০১/২০২৬ : সারা রাজ্যের মধ্যে দুজন নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত রয়েছেন , তার মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না ব্লকের বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত চাঁদিবেনিয়া গ্রামে এক যুবক “নিপা” ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন , জানা যায়, ওই যুবক কর্মসূত্রে বারাসাতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।
কিছুদিন আগে বাড়িতে খবর আসে ওই যুবকের জ্বর হয়েছে, বাড়ির লোকজন গিয়ে এবং সেখানে বন্ধু-বান্ধবের সহযোগিতায় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায় ওই যুবক নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত। কান্নায় ভেঙে পড়েছে যুবকের পরিবার। তবে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার বিভাস রায় জানান যে “পুরুষ নার্সকে ঘিরে কিছু কথা শোনা যাচ্ছে, তাঁর বাড়ি এই জেলায় হলেও তিনি এখানে আসেননি এবং তাঁর সংস্পর্শে কেউ আসেননি।”
যদি তিনি সংক্রমিত হয়ে থাকেন, তাহলে তা তাঁর কর্মক্ষেত্রেই হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক আশ্বস্ত করে বলেন, সাধারণ কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলেই যথেষ্ট। বাদুড়ের লালারস থেকে নিপা সংক্রমণ হতে পারে। বিশেষ করে খেজুরের কাঁচা রস পান থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে, তবে খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে গুড় বানিয়ে খেলে সংক্রমণের কোনও আশঙ্কা নেই। ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি, পাখিতে খাওয়া ফল কখনোই না খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গোটা রাজ্য জুড়ে নিপা ভাইরাস ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ। বিভিন্ন জায়গায় নিপা ভাইরাস সংক্রান্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তির খোঁজ মিলতেই সতর্কতায় রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। এর প্রভাব পড়েছে জলপাইগুড়িতেও। সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এই মারাত্মক ভাইরাসকে কেন্দ্র করে।
জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তা চিকিৎসক ডা. অসীম হালদার জানিয়েছেন, রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট নির্দেশিকা এসেছে। সেই নির্দেশ মেনেই গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কোনও ধরনের সংক্রমণের খবর পেলেই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি। নিপা সহ অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগের মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দফতর সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
নিপা ভাইরাস প্রতিরোধে জলপাইগুড়ির বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা প্রচার শুরু করেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। পাটকাতা কলোনি-সহ শহরের একাধিক এলাকায় একই ছবি ধরা পড়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা সাধারণ মানুষকে জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
এছাড়াও বিশেষভাবে সতর্ক করা হচ্ছে বাদুড়ের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা নিয়ে। বাদুড়ের খাওয়া ফল বা কামড় দেওয়া ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। কাঁচা বা খোলা ফল না খাওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাদুড়ের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ছে দুশ্চিন্তা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য দফতরের এই সচেতনতা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সতর্কীকরণ :: নিপা ভাইরাস নিয়ে কোনো রকম গুজব ছড়াবেন না ,গুজবে কান দেবেন না। এবং বিতর্কে কান দেবেন না। নিপা ভাইরাস নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হবেন না।
![]()