
আজ খবর
(বাংলা) [বিনোদন] নানা পাটেকর ০৮/১০/২০২৬
না ফেরার দেশে চলে গেলেন কিংবদন্তী অভিনেতা নানা পাটেকর। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ৭৫ বছর বয়সে গোয়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলিউড ও মারাঠি চলচ্চিত্র জগতে। মণিপাল হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাঁকে CPR দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর ফেরানো সম্ভব হয়নি।

গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন নানা পাটেকর। তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা চালালেও তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল প্রায় ৫টা ২০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুর ঘটনায় মেডিকো-লিগ্যাল কেস নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়াও রয়েছে।

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রাখেন নানা পাটেকর। পরবর্তী সময়ে ‘অঙ্কুশ’, ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘তিরঙ্গা’, ‘প্রহার’, ‘খামোশি’, ‘ওয়েলকাম’ এবং ‘নটসম্রাট’-এর মতো একাধিক ছবিতে তাঁর শক্তিশালী অভিনয় দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নেয়। গম্ভীর চরিত্র থেকে শুরু করে কমেডি—বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি।

হিন্দি ও মারাঠি সিনেমার পাশাপাশি ভারতীয় চলচ্চিত্রে নানা পাটেকরের অভিনয় দীর্ঘদিন ধরে সমাদৃত হয়েছে। তাঁর অভিনয়ের স্বতন্ত্র ধরন, সংলাপ বলার ক্ষমতা এবং পর্দায় তীব্র উপস্থিতি তাঁকে সমসাময়িক অভিনেতাদের মধ্যে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল। ২০১৩ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবার ক্ষেত্রেও নানা পাটেকরের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। কৃষক ও খরাপ্রবণ এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি ‘নাম ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্যও বিভিন্ন মহলে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।

সিনেমার বাইরেও দেশের প্রতি তাঁর টান ছিল গভীর। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় তিনি ভারতীয় সেনার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি এলাকায় সেনাদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন। তাঁর এই ভূমিকা তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্য একটি দিককে সামনে এনেছিল।

মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে, ৪ অক্টোবর গোয়ার একটি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল নানা পাটেকরকে। সেখানে তিনি বক্তব্যও রাখেন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে অনুরাগী থেকে শুরু করে সহকর্মী এবং রাজনৈতিক মহলের বহু মানুষ শোকপ্রকাশ করেছেন। নানা পাটেকরের প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগত হারাল এক শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র অভিনেতাকে। তাঁর অভিনীত অসংখ্য চরিত্র এবং চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শকদের মনে তিনি দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।




