
মাটির পুষ্টিচক্র বজায় রাখে এই প্রজাতি
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], কার্শিয়াং ও রাবাংলা, পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম, ১৬/০২/২০২৬ : দার্জিলিংএর কার্শিয়াং পাহাড় ও সিকিমের রাবাংলা অঞ্চলে প্রাণের নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করলেন বিজ্ঞানীরা। এই প্রজাতি সম্বন্ধে আগে কোনো ধারণা ছিল মানুষের। দার্জিলিং পাহাড়ের আনাচে কানাচে যেমন হিমালয়ান স্যালামান্ডার আবিষ্কৃত হয়েছিল, এবার সেভাবেই এই নতুন প্রজাতি আবিষ্কৃত হল.
জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ZSI)-এর বিজ্ঞানীরা ডিপ্লুরা (Diplura)-র একটি নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন, যা ভারতীয় কীটতত্ত্বে এক ঐতিহাসিক সাফল্য। Lepidocampa sikkimensis নামে পরিচিত এই ডানাবিহীন, মাটিতে বসবাসকারী ক্ষুদ্র আর্থ্রোপড প্রজাতিটি এমন এক প্রাচীন হেক্সাপড গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যার কোনো প্রজাতি প্রথমবারের মতো ভারতীয় গবেষক দল দ্বারা আবিষ্কৃত হলো।
ভারতীয় শ্রেণীবিন্যাস বিজ্ঞানে এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য
এবছর ৭ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ট্যাক্সোনমিক জার্নাল Zootaxa-এ প্রকাশিত এই গবেষণা প্রায় পাঁচ দশক ধরে ভারতীয় ডিপ্লুরা নিয়ে গবেষণার স্থবিরতার অবসান ঘটিয়েছে। এর আগে ভারতে মোট ১৭টি প্রজাতি নথিভুক্ত থাকলেও সেগুলি সবই বিদেশি গবেষকদের দ্বারা আবিষ্কৃত হয়েছিল।
ZSI-এর পরিচালক ড. ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় এই আবিষ্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন—
“Lepidocampa sikkimensis আবিষ্কার ভারতে মাটির জীববৈচিত্র্য নথিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিপ্লুরার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু কম পরিচিত গোষ্ঠীর উপর গবেষণা বাস্তুতন্ত্রের কার্যপ্রণালী বোঝার জন্য অপরিহার্য। এই সাফল্য হিমালয়ের মতো জৈববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ অঞ্চলে ধারাবাহিক শ্রেণীবিন্যাসমূলক গবেষণার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে।”
আবিষ্কৃত প্রজাতি: Lepidocampa sikkimensis
ড. সুরজিত করের নেতৃত্বে গবেষক দল, যার মধ্যে ছিলেন সৌভিক মজুমদার, পৃথা মণ্ডল, গুরুপদ মণ্ডল এবং কুসুমেন্দ্র কুমার সুমন, সিকিমের রাভাংলার সন্নিকট থেকে সংগৃহীত নমুনা থেকে এই প্রজাতিটি চিহ্নিত করেন। পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গের কার্শিয়াং এলাকায়ও এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা ইঙ্গিত করে যে, প্রজাতিটি পূর্ব হিমালয় জুড়ে বিস্তৃত।
আকৃতিগত বৈশিষ্ট্য:
এই প্রজাতিকে চিহ্নিত করা হয়েছে শরীরের আঁশের অনন্য বিন্যাস, নির্দিষ্ট কিটোট্যাক্সি (লোমের বিন্যাস) এবং বিশেষায়িত অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গঠন দ্বারা।
বাস্তুতাত্ত্বিক ভূমিকা:
ডিপ্লুরা, যাদের “দ্বিশাখাযুক্ত ব্রিসলটেল” বলা হয়, দৃষ্টিহীন আদিম হেক্সাপড। তারা মাটির পুষ্টি চক্র বজায় রাখা এবং মাটির গঠন রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অণুজীব চিহ্নিতকরণে আন্তর্জাতিক অগ্রগতি
নতুন প্রজাতি বর্ণনার পাশাপাশি, গবেষণাটি ভারতীয় মৃত্তিকা নিবাসী জীবজগতের নথিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যোগ করেছে।
পুনরাবিষ্কার:
দলটি Lepidocampa juradii bengalensis নামে একটি বিরল উপপ্রজাতিকে পুনরায় খুঁজে পেয়েছে, যা প্রায় ৫০ বছর ধরে নথিভুক্ত হয়নি।
অণুজীবগত সাফল্য:
এই গবেষণায় প্রথমবারের মতো একটি ভারতীয় Lepidocampa প্রজাতির জন্য ডিএনএ বারকোড তথ্য প্রদান করা হয়েছে, যা ঐতিহ্যগত আকৃতিভিত্তিক শ্রেণীবিন্যাস এবং আধুনিক অণুজীবগত বিবর্তনীয় গবেষণার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
![]()