
গ্রেপ্তারির ঘটনার নিন্দা হয়েছে বিভিন্ন মহলে
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], কৃষ্ণনগর, নদীয়া, ১০/০২/২০২৬: নদীয়ার মৃতের চোখ চুরি কাণ্ডে অভিযুক্তের পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন করল বিজ্ঞান মঞ্চ। প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন সমাজের বিভিন্ন মহলের মানুষ।
নদীয়া জেলার কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত কালির হাট সেনপুর অঞ্চলে মৃতদেহে চোখ নেই বলে সন্দেহ করেছিলেন প্রতিবেশীরা। ঐ মহিলার ছেলে নাক তার মায়ের চোখ বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ মহিলার ছেলেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গিয়েছিল, যার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল. প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজ্ঞান মঞ্চও.
নদিয়া জেলায় মরণোত্তর চক্ষুদানকে কেন্দ্র করে এক সমাজকর্মী ও শিক্ষকের গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সমাজকর্মী ও শিক্ষক আমির চাঁদ শেখ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের নদীয়া জেলা কমিটির উদ্যোগে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, গতকাল নিজের মায়ের মরণোত্তর কর্নিয়া দানের উদ্যোগ নেওয়ার পর পুলিশ আমির চাঁদ শেখ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন।
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের নদীয়া জেলা কমিটির সম্পাদক সোমনাথ মজুমদার বলেন, “আমির চাঁদ শেখ একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক ও সমাজকর্মী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মরণোত্তর চক্ষুদান ও দেহদানের মতো মানবিক বিষয় নিয়ে সচেতনতা তৈরি করে আসছেন। নিজের মায়ের চক্ষুদানের সময় তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক।”
তিনি আরও জানান, “সারা বছর ধরে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আমির চাঁদ শেখ সাধারণ মানুষকে অঙ্গদানের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করে থাকেন।” এমন একজন সমাজসেবীকে গ্রেপ্তার করা সমাজের জন্য লজ্জার বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত সদস্যরা অবিলম্বে আমির চাঁদ শেখ ও তাঁর পরিবারের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। পাশাপাশি, অঙ্গদান ও মানবিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয় প্রশাসনের কাছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, সেদিন এই ধরনের একটি ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছিল, ঐ এলাকায় আইন শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারতো, তাই প্রতিবেশীদের অভিযোগের ভিত্তিতে মৃতের ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
![]()