
“তিনিই ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা”
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২৩/০২/২০২৬ : প্রয়াত পশ্চিমবঙ্গের “রাজনীতির চাণক্য” মুকুল রায় !! আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলার প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়।
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্নের অন্যতম প্রধান কারিগর এবং প্রায় দুই দশকের বেশি বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে মুষ্টিমেয় ব্যক্তিত্বর মধ্যে এক নক্ষত্র এবং বর্ণময় চরিত্র, যেখানে UPA আমলে ৬ মাসের রেলমন্ত্রী এবং প্রায় ৩ বছরের কাছাকাছি কেন্দ্রীয় জাহাজ ও বন্দর মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন মুকুল রায়। ২০১২ সালে রেল বাজেট নিয়ে মুকুল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিলেন যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ এবং তৎকালীন রেলমন্ত্রী তথা ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন।
দীনেশ পদত্যাগ করার পর মুকুল ভারতের রেলমন্ত্রী হন এবং তিনি প্রাক্তন রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীর প্রবর্তিত ভাড়া বৃদ্ধি প্রত্যাহার করেন যেই ঘটনা তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়। পরবর্তীতে খুচরো ব্যবসা এবং বিমানযাত্রার খাতে ৫১% FDI অনুমোদনের কারণে UPA-2 জোট থেকে তৃণমূল কংগ্রেস বেরিয়ে যাওয়ার পর মুকুল রায়ের রেলমন্ত্রীর মেয়াদ ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হয়ে যায়। ২০১৭ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর তৃণমূল কগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন মুকুল রায় এবং তারপর তৎকালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এবং বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের মতন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতাদের সাথে সাক্ষ্যাতের অভিযোগে মুকুল রায়কে ৬ বছরের জন্য তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বরখাস্ত করা হয়!
দীর্ঘ ১১ বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব সামলানোর পর ১১ অক্টোবর ২০১৭ সালে তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করেন এবং ২০২১ সালের ১১ই জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তার ছেলে শুভ্রাংশুর সাথে তৃণমূল কংগ্রেসে ঘর-ওয়াপসি করেন মুকুল রায়। ২০২১ সালের জুন মাসের ২৫ তারিখ মুকুল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার নির্বাচিত PAC কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং আগামীতে ৩ সপ্তাহ পর ১৪ই জুলাই তারিখে PAC কমিটির চেয়ারম্যান হন।
২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারী তার আইনজীবী স্পিকারকে জানান, যে তিনি এখনও বিজেপিতে আছেন এবং তিনি তৃণমূল কংগ্রেস দলে যোগ দেননি, সেই অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে মুকুলের বিধায়ক-পদ বাতিল করে দেন। কলকাতা হাই কোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়। সুপ্রিম কোর্ট চলতি বছরের ১৬ই জানুয়ারি মুকুল রায়ের বিধায়কপদ খারিজের মামলায় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।
দীর্ঘ রাজনীতির কেরিয়ারে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ১ বছর বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন মুকুল রায়। দীর্ঘ সেই রাজনৈতিক জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটলো রবিবার গভীর রাতে। বাংলার রাজনীতিতে রেখে গেলেন তাঁর হাতে রাজনীতির হাতে খড়ি হওয়া অগণিত রাজনৈতিক ভক্ত ও অনুগামীদের।রবিবার গভীর রাতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আজ তাঁর নিজের বাড়ি কাঁচরাপাড়ার ঘটক রোডের বাড়ীতে সোমবার সকাল থেকেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
![]()