
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ১৬/১২/২০২৫ : মেসির সফরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল, সেই বিশৃঙ্খলার পিছনে কারা ছিল তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ।
মেসির কলকাতা সফরের সময় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল, সেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই রাজীব কুমারকে নির্দেশ দিয়েছেন তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার জন্যে। পুলিশ জানিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে পীযুষ পাণ্ডে, জাভেদ শামীম সুপ্রতীম সরকার এবং মুরলীধরের সহযোগিতায় একটি দল গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানতে চেয়েছেন সেদিন ঠিক কি হয়েছিল, যার ফলে যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। এর পিছনে কি কারোর উস্কানি ছিল ?
তৃণমূল নেতা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধরনের পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিন বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী রাজধর্ম পালন করেছেন। যে কাজ সিপিএম বা বিজেপি পারে না, সেই কাজ করে দেখিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৮০ সালের ১৬ই আগস্ট ময়দানে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল, তৎকালীন বাম সরকার কিন্তু কোনো তদন্তের নির্দেশ দেয় নি. বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেও এমনভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয় না. এটা শুধু পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষেই সম্ভব।”
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের নির্দেশ দিতেই রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ ছাড়তে চেয়ে একটি হাত চিঠি দিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। তিনি লিখেছেন নিরপেক্ষ তদন্ত যাতে করা যায় এবং তদন্তে যাতে কোনো রকম প্রভাব বিস্তার না হয়ে যায় তাই তিনি ক্রীড়া মন্ত্রীর পদ ছাড়তে চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তিনি ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান। অরূপ বিশ্বাসের এই ইস্তফা পত্র সম্পর্কে কুনাল ঘোষ কিছু বলতে চান নি. তিনি শুধু বলেছেন, “এটা রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মেসিকে একবার চোখের দেখা দেখতে প্রচুর মেসি ভক্ত হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটে সেদিন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভীড় করলেও তাঁর মেসিকে আদৌ ভালোভাবে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন, এবং মাঠে বোতল ছুঁড়তে থাকেন, স্টেডিয়ামের কিছু চেয়ার ভেঙে দেন। পুলিশ সেদিন ক্ষিপ্ত দর্শকদের নিয়ন্ত্রণ করতে মৃদু লাঠি চার্জ করে। এই ঘটনায় অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাকে যেমন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তেমন কয়েকজন দর্শককেও ভাংচুরের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য ওই দর্শকদের গ্রেপ্তারির প্রতিবাদ করেছেন।
![]()