
কালিয়াচকের ঘটনায় সুপ্রীম কোর্টের হস্তক্ষেপ
আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য], কালিয়াচক, মালদা, ০২/০৩/২০২৬ : গতকাল কালিয়াচকের ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ দেশের শীর্ষ আদালত। গোটা ঘটনার তদন্ত সিবিআই অথবা এনআইএর হাতে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল।
গতকাল কালিয়াচকে বিচারপতিদের ঘেরাও এবং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে যে গন্ডগোল শুরু হয়েছিল তা আজও জারি রয়েছে। গতকাল মধ্যরাত্রে বিচারপতিদের উদ্ধার করা গেলেও গতকালের মত আজও জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে। এসআইআর করে রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদেই এই অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মালদার কালিয়াচকের কাছে মোথাবাড়ি বিডিও অফিসে ৭ বিচারপতিকে আটক করে রেখে দেওয়া হয়েছিল ঘন্টার পর ঘন্টা। তাঁদের জলপান পর্যন্ত করতে দেওয়া হয় নি। সাত জনের মধ্যে ছিলেন তিন মহিলা বিচারপতিও।
শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ গিয়ে কোনোমতে বিচারপতিদের উদ্ধার করে সরিয়ে নিয়ে গেলেও জাতীয় সড়ক অবরোধ সরানো যায় নি। জাতীয় সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে পড়ে হাজার হাজার গাড়ি। উত্তরবঙ্গের সাথে সড়কপথে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আজ এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে সুপ্রীম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত বলে, “পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রীতিমত ভেঙে পড়েছে। বলতে খুব খারাপ লাগছে যে এই রাজ্য এমন একটি জায়গা, যেখানে সবকিছুই রাজনীতির মাধ্যমে সাধিত হয়। এখানে সবকিছুর মেরুকরণ হয়েছে রাজনীতি দিয়ে। কালিয়াচকের ঘটনায় মালদার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিআইজিকে শোকজ করা হয়েছে। শো কোজ করা হয়েছে পুলিশ সুপারকেও।
গোটা ঘটনার তদন্ত এনআইএ অথবা সিবিআইকে দিয়ে করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। অবিলম্বে জাতীয় সড়ক অবরোধ মুক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে শুধু কালিয়াচক নয়, অবরোধ চলছে ইংরেজবাজার এবং নারায়ণপুরেও। গোটা ঘটনার জন্যে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার বিজেপির তরফ থেকেও দায় চাপানো হয়েছে তৃণমূলের ঘাড়ে। ভোট এসে গিয়েছে,, এই ধরনের অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী থাকলো গোটা রাজ্য। সাক্ষী থাকল রাজনৈতিক চাপান উতোরের।
![]()