আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য] বালুরঘাট, উত্তর দিনাজপুর, ২৭/০২/২০২৬ : নামেই হিন্দি বিদ্যালয়, অথচ পাঠদানের ভাষা বাংলা—এই তীব্র বৈপরীত্যই আজ প্রশ্নচিহ্নের কেন্দ্রে এনে দাঁড় করিয়েছে বালুরঘাট শহরের হিন্দি এফপি স্কুলকে।
১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একদা সমগ্র জেলার একমাত্র সরকারি হিন্দি মাধ্যম বিদ্যালয় হিসেবে স্বাতন্ত্র্যের মুকুট পড়েছিল। আজ সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সঙ্কুচিত হয়ে নেমেছে মাত্র বারোতে। অবকাঠামোগত অনটন ও ভাষা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যেন অস্তিত্বের সীমানায় টালমাটাল।
শহরের আন্দোলন সেতুর সন্নিকটে অবস্থিত এই বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বহু হিন্দিভাষী পরিবারের বসবাস। প্রতিষ্ঠালগ্নে ছাত্রসংখ্যা ছিল দেড়শো থেকে দু’শোর মধ্যে। পর্যাপ্ত হিন্দিভাষী শিক্ষক, প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তক—সবই ছিল সুলভ। এমনকি বহিরাগত শিক্ষকরাও এখানে পাঠদান করতে আসতেন। সেই ঐতিহ্যের ছাপেই এলাকার নাম পরিচিত হয়েছিল ‘হিন্দি স্কুল পাড়া’ হিসেবে—এক সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক রূপে।
কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের অন্তিম পর্বে হিন্দি মাধ্যমের পাঠক্রম বন্ধ হয়ে বাংলা মাধ্যমে শিক্ষাদান শুরু হয়। বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মাত্র তিনজন শিক্ষক-শিক্ষিকার উপর ভর করে কোনোরকমে টিকে আছে বিদ্যালয়টি। সমগ্র প্রতিষ্ঠান জুড়ে রয়েছে একটি মাত্র কক্ষ—যা একই সঙ্গে অফিস, শিক্ষককক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের দায়িত্ব পালন করছে। শিক্ষার পরিবেশ যেন সংকীর্ণতার ঘেরাটোপে বন্দি।
করোনার পূর্বে যেখানে প্রায় পঁচিশজন শিক্ষার্থী ছিল, আজ তা অর্ধেকেরও কম। অধিকাংশ অভিভাবক সন্তানের উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত নির্বিঘ্ন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বৃহত্তর বিদ্যালয়ের দিকে ঝুঁকছেন। স্থানীয় মহলের অভিমত, ইংরেজি মাধ্যমের প্রতি ক্রমবর্ধমান আকর্ষণও এই সঙ্কটকে তীব্রতর করেছে। ফলত একাত্তর বছরের প্রাচীন এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আজ ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার ঘূর্ণাবর্তে আবর্তিত।
প্রশ্ন এখন সময়ের সামনে স্পষ্ট—এই ‘হিন্দি স্কুল’ কি পুনরায় তার স্বাতন্ত্র্য ও গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারবে, নাকি কেবল নামমাত্র পরিচয়ে ইতিহাসের স্মারক হয়ে থাকবে তার অস্তিত্ব?