আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ০৯/০৩/২০২৬ : সোমবার দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বাগডোগরার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে রাজ্যের শাসক দল ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রাক্তন পুলিশ প্রধান রাজীব কুমার— কাউকেই আক্রমণ করতে ছাড়েননি।
কালীঘাটে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কালো পতাকা প্রদর্শন এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “এসব চোরদের অসভ্য ও বর্বর পার্টির কাজ। মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দলের কার্যকলাপে সবাই আজ বিরক্ত। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ থেকেও তা স্পষ্ট।”
রেড রোডের ধর্ণা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক মন্তব্যকে হাতিয়ার করে শুভেন্দু সরব হন। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন একটি কমিউনিটি জোট বাঁধলে সব শেষ হয়ে যাবে। আসলে মুসলিম কমিউনিটি এখন হুমায়ুন কবীরের পেছনে জোট বেঁধেছে। কট্টর সাম্প্রদায়িক কার্ড খেলেই এই সরকার জিতেছে। এই ধরণের উস্কানিমূলক কথা ওনাদের মুখেই সাজে।”
ওয়েস্টিন হোটেলে রাজীব কুমারের উপস্থিতিকে ‘অত্যন্ত অনৈতিক’ বলে ব্যাখ্যা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, “ডিজির বাংলো দখল করে রাখা এবং সাংসদ না হয়েও যেভাবে রাজীব কুমারকে স্যালুট করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি।” এর পাশাপাশি তিনি নন্দিনী চক্রবর্তীকে সাসপেন্ড করার দাবি জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন, কেন তাঁর হেলিকপ্টার নামতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
অতীতে কলাইকুণ্ডায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু দাবি করেন, “সেদিন আমাকে ডাকার কারণে প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে অপমান করা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। নীতিন নবীন বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের হেলিকপ্টার নামতে দেওয়া হচ্ছে না।”
সবশেষে রাজ্যের মানুষকে ‘জেগে ওঠার’ আহ্বান জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “পহেলা বৈশাখের পর যেকোনো দিন নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হবে। মানুষ প্রস্তুত থাকুন, কিছুদিনের মধ্যেই আমরা দিনক্ষণ পেয়ে যাব।”