হরমুজ প্রণালীর আকাশে ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালীর আকাশে একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের মাধ্যমে এই দাবি প্রকাশ্যে আসে। আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্সের নতুন একটি উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটিকে শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর আকাশসীমায় ড্রোনটির গতিবিধি শনাক্ত করার পর সেটিকে নজরদারির আওতায় আনা হয়। পরে ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণে থাকা নতুন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির মাধ্যমে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়। তবে ঘটনাটি ঠিক কোন এলাকায় ঘটেছে, ড্রোনটির পরিচালনাকারী কে ছিল এবং সেটির নির্দিষ্ট মিশন কী ছিল—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি ইরান।

ইরানের কয়েকটি সূত্র ড্রোনটিকে মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে প্রাথমিক সরকারি বিবৃতিতে ড্রোনটির অপারেটর বা মালিকানা সম্পর্কে বিস্তারিত নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে ড্রোনটি সরাসরি মার্কিন বাহিনীর ছিল কি না, তা নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও সীমিত।

এদিকে, এই দাবির স্বাধীন নিশ্চিতকরণও এখনও সামনে আসেনি। একটি ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর ইরানের পক্ষ থেকে ধ্বংসাবশেষ, রাডার তথ্য বা এমন কোনও নিরপেক্ষ প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি, যার ভিত্তিতে ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়। ফলে আপাতত ঘটনাটিকে আইআরজিসির দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা ক্রমশ বেড়েছে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগকারী এই জলপথ আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই এই জলপথের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে পড়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

ড্রোন ভূপাতিতের এই দাবি এমন একটি সময়ে সামনে এল, যখন হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র। একই সময়ে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল, তেল সরবরাহ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

তবে এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিতের বিষয়ে ইরানের দাবির বিপরীতে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত মার্কিন প্রতিক্রিয়া বা স্বাধীন তদন্তের ফল প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।



