
আজ খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ০৪/১১/২০২৬ : কেদারতাল অভিযানে যাওয়া বাঁকুড়ার পাঁচ অভিযাত্রীদের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া গেলো না। ইতিমধ্যে উদ্ধারকারী দল দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে, তবে তাদের এখনো চিহ্নিত করা হয় নি. এদিকে উৎকণ্ঠা বাড়ছে বাঁকুড়ায়।
গত মাসের শেষ সপ্তাহে বাঁকুড়া থেকে মোট পাঁচজন কেদারতালে ট্রেকিং করতে গিয়েছিলেন। তাঁদের দলে উত্তরপ্রদেশের কয়েকজন ছিলেন। গাইড, পোর্টার, রাঁধুনি সহ মোট ১২/১৩ জনের একটি দল কেদারালের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু মাঝপথেই হঠাৎ করে আবহাওয়া খারাপ হয়ে যেতে থাকে। এভেলান্স বা তুষার ধ্বস নামে, শুরু হয় প্রবল তুষার ঝড়। এই পথে ভুজখরকা পর্যন্ত এই দলটিকে শেষ বার ট্রেস করা গিয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে আর এই অভিযাত্রী দলের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

এরপর এই দলটিকে খুঁজে দেখার জন্যে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হলে কাচ্চি ধং নামে একটি জায়গায় ঐ অভিযাত্রীদের পরিত্যক্ত তাঁবু ও অন্যান্য সামগ্রী দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু অভিযাত্রীদের কোনো খোঁজ এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। ইতিমধ্যেই অবশ্য ওই দলের সাথে থাকা গাইড, পোর্টার এবং রাঁধুনিরা ফিরে এসেছে, কিন্তু অভিযাত্রীদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি। ওই এলাকায় বার বার তুষার ঝড় হচ্ছে। দৃশ্যমানতা নেই বললেই চলে। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গিয়েছে। গোটা উপত্যকা বরফের চাদরে মুখ ঢেকেছে। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ ক্রমাগত ব্যাহত হচ্ছে।

উদ্ধারকাজ ঠিকমতো চালাতে ৪০০৫ মিটার উচ্চতায় একটি অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরী করা হয়েছে। গোটা এলাকায় হেলিকপ্টার দিয়ে নজর রাখা হচ্ছে। গঙ্গোত্রী ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং উত্তরকাশি বনবিভাগ যৌথভাবে এখানকার বেশ কিছু রুট – যেগুলি ৪০০০ মিটারের থেকে উচ্চতায় অবস্থিত – সেগুলিকে বন্ধ রেখেছে অভিযান করার জন্যে। বন্ধ রাখা হয়েছে কেদারতাল, কালিন্দী খাল, গোমুখ – তপোবনের রাস্তা। প্রতি মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যোগাযোগ রাখছে উত্তরাখন্ড সরকারের সাথে। যদি কোনো ভালো খবর পাওয়া যায় বাংলার ঐ অভিযাত্রী দলের সম্বন্ধে।







